প্রযুক্তি

এক টাকা খরচ না করে ধীর উইন্ডোজ পিসি দ্রুত করার দশটি উপায়—আর যে একটি আপগ্রেড সবগুলোকে হারায়

আপডেট, স্টার্টআপ প্রোগ্রাম, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, ওয়ানড্রাইভ সিঙ্ক, রেডিবুস্ট, পেজিং ফাইল, ডিস্কের জায়গা, ম্যালওয়্যার, বেশি ট্যাব, আর স্রেফ রিস্টার্ট: ধীর হয়ে যাওয়া পিসির জন্য মাইক্রোসফটের নিজের তালিকা, যে ক্রমে সত্যিই কাজে লাগে সেভাবে ব্যাখ্যা। সঙ্গে সৎ পরামর্শ যে ৩,৫০০ টাকার এসএসডি দশটি মিলিয়ে যা করে তার চেয়ে বেশি করে।

এক টাকা খরচ না করে ধীর উইন্ডোজ পিসি দ্রুত করার দশটি উপায়—আর যে একটি আপগ্রেড সবগুলোকে হারায়

নতুন অবস্থায় দ্রুত আর এখন ধীর পিসি সাধারণত ক্ষয়ে যায়নি; ভরে গেছে—নিজে চালু হওয়া প্রোগ্রামে, কখনো না মোছা ফাইলে, আর দোকান সেট করার পর আপডেট না হওয়া উইন্ডোজে। টাকা খরচের আগে চেষ্টা করার দশটি জিনিসের তালিকা মাইক্রোসফটের সাপোর্ট পাতায় আছে। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগার সম্ভাবনার ক্রমে সেগুলো।

দশটি, ক্রম অনুযায়ী

  1. উইন্ডোজের সঙ্গে প্রোগ্রাম চালু হওয়া থামান। Ctrl+Shift+Esc চেপে স্টার্টআপ ট্যাব খুলে বুটে দরকার নেই এমন সব নিষ্ক্রিয় করুন—আপডেটার, চ্যাট অ্যাপ, প্রিন্টারের ইউটিলিটি। বেশির ভাগ যন্ত্রে এটিই একক সবচেয়ে বড় সমাধান।
  2. ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন। উইন্ডোজ সিকিউরিটি → ভাইরাস অ্যান্ড থ্রেট প্রোটেকশন → স্ক্যান অপশনস → ফুল স্ক্যান। বাংলাদেশি পিসিতে সাধারণ ক্র্যাক করা সফটওয়্যারই চিরাচরিত উৎস।
  3. আপডেট ইনস্টল করুন। সেটিংস → উইন্ডোজ আপডেট → চেক ফর আপডেটস, আর গ্রাফিকস ও চিপসেটের ড্রাইভারও আপডেট হতে দিন। আধা-ইনস্টল আপডেটে ধীরগতি সাধারণ।
  4. ডিস্কের জায়গা খালি করুন। ১০ শতাংশের কম খালি উইন্ডোজ ড্রাইভ হামাগুড়ি দেয়। সেটিংস → সিস্টেম → স্টোরেজ → টেম্পোরারি ফাইলস, তারপর রিসাইকেল বিন খালি করুন আর ভিডিও অন্যত্র সরান।
  5. ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বন্ধ করুন। ‘Adjust the appearance and performance of Windows’ খুঁজে অ্যাডজাস্ট ফর বেস্ট পারফরম্যান্স বাছুন। ৪ গিগাবাইট র‌্যামের পিসিতে পার্থক্য দৃশ্যমান।
  6. কখনো না চাইলে ওয়ানড্রাইভ সিঙ্ক থামান: ট্রের মেঘ আইকনে রাইট-ক্লিক → পজ সিঙ্কিং। ধীর সংযোগে এটি আপনার ডকুমেন্টস ফোল্ডার অবিরাম আপলোড করে।
  7. যা ব্যবহার করছেন না বন্ধ করুন। চল্লিশটি ব্রাউজার ট্যাব যন্ত্রের অন্য যেকোনো প্রোগ্রামের চেয়ে বেশি মেমোরি খায়।
  8. পেজিং ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত কি না দেখুন (সিস্টেম → অ্যাডভান্সড → পারফরম্যান্স সেটিংস → অ্যাডভান্সড → ভার্চুয়াল মেমোরি)। বছর আগে কেউ ছোট করে রেখে থাকতে পারেন।
  9. রেডিবুস্ট: ঘোরা হার্ডডিস্ক ও ৪ গিগাবাইট বা কম র‌্যামের পিসিতে ৫০০ মেগাবাইট খালি একটি বাড়তি ইউএসবি স্টিক ক্যাশ হিসেবে ব্যবহার করা যায় (ড্রাইভে রাইট-ক্লিক → প্রোপার্টিজ → রেডিবুস্ট)। একটু সাহায্য করে; এসএসডির যন্ত্রে কিছুই করে না।
  10. রিস্টার্ট করুন। শাট ডাউন নয়—রিস্টার্ট। উইন্ডোজের ফাস্ট স্টার্টআপ পুরোনো সেশন রাখে; রিস্টার্ট তা পরিষ্কার করে।

যে আপগ্রেড দশটিকে হারায়

পিসিতে এখনো যান্ত্রিক হার্ডডিস্ক থাকলে—২০২০-এর আগে বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ ডেস্কটপে আছে—এসএসডিতে বদলান। ২৪০ গিগাবাইটের সাটা এসএসডি মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে বা স্টার টেকে প্রায় ২,৫০০–৩,৫০০ টাকা, যেকোনো মেরামতের দোকান পুরোনো ডিস্ক এতে ক্লোন করে দেবে, আর যন্ত্র বুট হবে তিন মিনিটের বদলে বিশ সেকেন্ডে। ওপরের তালিকার কিছুই কাছাকাছি আসে না।

এসএসডি এত বড় ব্যবধানে জেতে কেন

আপগ্রেডটি কেন প্রতিটি বিনা মূল্যের কৌশলকে হারায়, তার কারণ আক্ষরিক অর্থেই যান্ত্রিক। হার্ডডিস্ক তথ্য রাখে ঘূর্ণায়মান প্লেটে, আর পড়ে এমন একটি হাত দিয়ে যা সত্যিকারের নড়ে। উইন্ডোজের যখনই ডিস্কের অন্য কোনো অংশ থেকে ফাইল দরকার হয়, হাতটি ঘোরে আর প্লেট ঘুরে জায়গামতো আসে—মিলিসেকেন্ডে মাপা দেরি, যা প্রসেসরের কাছে অনন্তকাল।

বুট হওয়া আর প্রোগ্রাম চালু হওয়া এই নকশার জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ কাজ, কারণ এগুলো একটানা একটি বড় পাঠ নয়—ডিস্কজুড়ে ছড়ানো হাজারো ছোট পাঠ। এসএসডিতে নড়াচড়ার অংশ নেই, সিক টাইমও নেই; তাই ওই ছড়ানো পাঠগুলোর খরচ কার্যত শূন্য।

এ কারণেই ধীর পিসিতে প্রসেসরের ব্যবহার কম দেখিয়েও যন্ত্রটি ধীর লাগে। প্রসেসর কষ্ট করছে না। সে অপেক্ষা করছে।

সূত্র: মাইক্রোসফট সাপোর্ট, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।