প্রযুক্তি

আস্তানায় তিন ব্রোঞ্জ: প্রতিবছর এগোচ্ছে বাংলাদেশের এআই অলিম্পিয়াড দল—পাইপলাইনটি কাজ করে যেভাবে

কাজাখস্তানে তৃতীয় আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে তিনটি ব্রোঞ্জ পেয়েছে বাংলাদেশ—গত বছর দুটি, তার আগের বছর শূন্য। পদকজয়ী কারা, প্রতিযোগিতা আসলে কী পরীক্ষা করে, আর দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী যে জাতীয় বাছাই পথে সেখানে পৌঁছাল।

আস্তানায় তিন ব্রোঞ্জ: প্রতিবছর এগোচ্ছে বাংলাদেশের এআই অলিম্পিয়াড দল—পাইপলাইনটি কাজ করে যেভাবে

আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডের বয়স তিন বছর, আর বাংলাদেশের ফল তিন বছরে একটি পরিচ্ছন্ন রেখা আঁকে: ২০২৪-এ বুলগেরিয়ায় কোনো পদক নয়, ২০২৫-এ চীনে দুটি ব্রোঞ্জ, আর এবার কাজাখস্তানের আস্তানায় আইওএআই ২০২৬-এ তিনটি ব্রোঞ্জ—ফল ঘোষিত হয়েছে শুক্রবারের সমাপনী অনুষ্ঠানে। ১০৭ দেশের ৪৩৭ প্রতিযোগীর মাঠে এটি এমন একটি দল, যা ইচ্ছাকৃতভাবে ভালো হচ্ছে।

পদকজয়ীরা

  • লাবিব শাহরিয়ার, দশম শ্রেণি, হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, কুমিল্লা
  • মো. সাইদুজ্জামান, একাদশ শ্রেণি, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ
  • মোবতাসিম চৌধুরী, একাদশ শ্রেণি, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

দলের চতুর্থ সদস্য অনন্য যারিফ আকন্দ, একাদশ শ্রেণি, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মানিকগঞ্জ। দলনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন, কোচ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম খান। চার সদস্যের দুজন ঢাকার বাইরের, একজন এখনো দশম শ্রেণিতে।

প্রতিযোগিতা কী পরীক্ষা করে

এটি এআই নিয়ে কুইজ নয়। ২ আগস্টের উদ্বোধনের পর প্রতিযোগীরা ৪ ও ৬ আগস্ট বসেছেন দুটি একক মেশিন লার্নিং পর্বে, প্রতিটি ছয় ঘণ্টার, তিনটি করে সমস্যা: একটি ডেটাসেট আর একটি কাজ দেওয়া হলে সময়ের চাপে, সত্যিকারের কোডে এমন মডেল বানিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যা আলাদা রাখা ডেটায় ভালো করে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিলে দলগত কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন। যে দক্ষতা পুরস্কৃত হয়—ডেটা পরিষ্কার করা, মডেল বাছাই, শৃঙ্খলাবদ্ধ পরীক্ষা—ঠিক সেগুলোর জন্যই এআই শিল্প নিয়োগ দেয়; এই অলিম্পিয়াড তাই ব্যবহারিক কাজের অস্বাভাবিক কাছাকাছি।

একজন শিক্ষার্থী সেখানে পৌঁছায় যেভাবে

পথটি যায় বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) আয়োজিত বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে। কার্যক্রম শুরু এপ্রিলে, আঞ্চলিক পর্ব মে মাসে—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সরাসরি, রাজশাহী, খুলনাসহ বাকি দেশের জন্য অনলাইনে—আর জাতীয় পর্ব ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে। এরপর নির্বাচিত দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। কাঠামোটি সেই গণিত ও ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডের আদলে, যা বাংলাদেশের আগের আন্তর্জাতিক পদক এনেছে, আর নিবন্ধন করা যেকোনো স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য খোলা।

কোচদের নিজেদের রায়

অধ্যাপক হোসেন খুশি, তবে স্পষ্ট বলেছেন উন্নতির জায়গা আছে; আর সাইদুজ্জামান প্রেরণাটি সরলভাবে বলেছেন—পদকের অর্থ পরের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা। প্রবণতার রেখা দুটোকেই সমর্থন করে। তিন ব্রোঞ্জ এখনো রুপা নয়; তবে এটি এমন একটি কর্মসূচির চিহ্ন, যা দুই বছরেই জানে সে কী করছে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।