বিনোদন

বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেলেন জেমস, তবে…

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলা আবেদন করেন তিনি। পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি বিচারকের পরামর্শে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেলেন জেমস, তবে…

কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলালিংকের সিইও অরিক হাসানসহ প্রতিষ্ঠানটির ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেছেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মাহফুজ আনাম জেমস। তবে আদালত তাকে গুলশান থানায় মামলা করতে পরামর্শ দিয়েছেন। 

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলা আবেদন করেন তিনি। পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি বিচারকের পরামর্শে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। 

বাংলালিংকের এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১, ৮২ এবং ৯১ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন জেমস। 

জেমসের অভিযোগপত্রের একটি কপি রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সাবেক ম্যানেজমেন্ট অভিযোগকারীর কপিরাইট এবং স্বাভাবিক অধিকারকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লঙ্ঘন করেছেন এবং মোবাইল কন্টেন্ট এবং অন্যান্য ফর্ম হিসাবে তার কাজগুলিকে লাভের উদ্দেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রচার করেছেন। 

প্রেক্ষাপট

বিরোধের মূলে ওয়েলকাম টিউন ও রিংটোন। দুই হাজারের দশক থেকে মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় গান রিংটোন ও কলার টিউন হিসেবে বিক্রি করে আয় করেছে, আর শিল্পীদের অভিযোগ, সেই আয়ের ভাগ তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি; কনটেন্ট এসেছে "অ্যাগ্রিগেটর" নামের মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ধরে, যারা দাবি করত তাদের কাছে লাইসেন্স আছে। জেমসের অভিযোগ কপিরাইট আইন ২০০০-এর ৭১, ৮২ ও ৯১ ধারায়—যা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন ও তা থেকে বাণিজ্যিক লাভের শাস্তি নির্ধারণ করে।

শিল্পীর প্রাপ্য কীভাবে হিসাব হয়

কপিরাইট আইনে গানের স্বত্ব তিন ভাগে: গীতিকারের কথা, সুরকারের সুর আর শিল্পীর পরিবেশনা। কোনো কোম্পানি গান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে তিন পক্ষের বা তাঁদের বৈধ প্রতিনিধির লিখিত অনুমতি লাগে, আর প্রতিটি বিক্রি বা ব্যবহারের ভিত্তিতে রয়্যালটি দিতে হয়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন এই হিসাব রাখা হতো না; শিল্পী এককালীন টাকায় গান রেকর্ড করতেন, আর পরের সব আয় যেত প্রযোজক বা অ্যাগ্রিগেটরের কাছে। জেমসের মামলা সেই প্রথাকেই প্রশ্ন করেছিল, আর ২০২৩ সালের আইনে রয়্যালটি সংগ্রহ ও বণ্টনের জন্য সমিতি গঠনের বিধান আসে।

এরপর যা হলো

হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। আদালতের পরামর্শমতো অভিযোগ থানায় যায়, আর একই সপ্তাহে ব্যান্ড মাইলসের হামিন ও মানাম আহমেদও বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বাংলালিংক বলে, তারা কনটেন্ট নিয়েছে লাইসেন্সধারী অ্যাগ্রিগেটরের কাছ থেকে এবং শিল্পীদের সঙ্গে মীমাংসায় আগ্রহী; মামলাগুলো পরে আদালতের বাইরে আলোচনায় গড়ায়। বড় ফল এল আইনে: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদ পাস করে কপিরাইট আইন ২০২৩, যা ২০০০ সালের আইনের জায়গা নেয় এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গান-ভিডিওর ব্যবহার, রয়্যালটি ও মধ্যস্বত্বভোগীর দায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট ধারা আনে। জেমস ও মাইলসের মামলাই সেই সংশোধনের চাপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।