বিনোদন

বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেলেন জেমস, তবে…

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলা আবেদন করেন তিনি। পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি বিচারকের পরামর্শে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেলেন জেমস, তবে…

হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — মামলাটি হয়েছিল, আসামিরা জামিন পেয়েছিলেন—আর শেষ পর্যন্ত মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কীভাবে শেষ হলো, তা মূল প্রতিবেদনের নিচে।

কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলালিংকের সিইও অরিক হাসানসহ প্রতিষ্ঠানটির ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেছেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মাহফুজ আনাম জেমস। তবে আদালত তাকে গুলশান থানায় মামলা করতে পরামর্শ দিয়েছেন। 

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলা আবেদন করেন তিনি। পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি বিচারকের পরামর্শে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। 

বাংলালিংকের এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১, ৮২ এবং ৯১ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন জেমস। 

জেমসের অভিযোগপত্রের একটি কপি রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সাবেক ম্যানেজমেন্ট অভিযোগকারীর কপিরাইট এবং স্বাভাবিক অধিকারকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লঙ্ঘন করেছেন এবং মোবাইল কন্টেন্ট এবং অন্যান্য ফর্ম হিসাবে তার কাজগুলিকে লাভের উদ্দেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রচার করেছেন। 

প্রেক্ষাপট

বিরোধের মূলে ওয়েলকাম টিউন ও রিংটোন। দুই হাজারের দশক থেকে মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় গান রিংটোন ও কলার টিউন হিসেবে বিক্রি করে আয় করেছে, আর শিল্পীদের অভিযোগ, সেই আয়ের ভাগ তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি; কনটেন্ট এসেছে "অ্যাগ্রিগেটর" নামের মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ধরে, যারা দাবি করত তাদের কাছে লাইসেন্স আছে। জেমসের অভিযোগ কপিরাইট আইন ২০০০-এর ৭১, ৮২ ও ৯১ ধারায়—যা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন ও তা থেকে বাণিজ্যিক লাভের শাস্তি নির্ধারণ করে।

শিল্পীর প্রাপ্য কীভাবে হিসাব হয়

কপিরাইট আইনে গানের স্বত্ব তিন ভাগে: গীতিকারের কথা, সুরকারের সুর আর শিল্পীর পরিবেশনা। কোনো কোম্পানি গান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে তিন পক্ষের বা তাঁদের বৈধ প্রতিনিধির লিখিত অনুমতি লাগে, আর প্রতিটি বিক্রি বা ব্যবহারের ভিত্তিতে রয়্যালটি দিতে হয়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন এই হিসাব রাখা হতো না; শিল্পী এককালীন টাকায় গান রেকর্ড করতেন, আর পরের সব আয় যেত প্রযোজক বা অ্যাগ্রিগেটরের কাছে। জেমসের মামলা সেই প্রথাকেই প্রশ্ন করেছিল, আর ২০২৩ সালের আইনে রয়্যালটি সংগ্রহ ও বণ্টনের জন্য সমিতি গঠনের বিধান আসে।

এরপর যা হলো

হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। আদালতের পরামর্শমতো অভিযোগ থানায় যায়, আর একই সপ্তাহে ব্যান্ড মাইলসের হামিন ও মানাম আহমেদও বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বাংলালিংক বলে, তারা কনটেন্ট নিয়েছে লাইসেন্সধারী অ্যাগ্রিগেটরের কাছ থেকে এবং শিল্পীদের সঙ্গে মীমাংসায় আগ্রহী; মামলাগুলো পরে আদালতের বাইরে আলোচনায় গড়ায়। বড় ফল এল আইনে: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদ পাস করে কপিরাইট আইন ২০২৩, যা ২০০০ সালের আইনের জায়গা নেয় এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গান-ভিডিওর ব্যবহার, রয়্যালটি ও মধ্যস্বত্বভোগীর দায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট ধারা আনে। জেমস ও মাইলসের মামলাই সেই সংশোধনের চাপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।

মামলাটি যেভাবে শেষ হলো

১০ নভেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জেমস ও মাইলস আলাদা দুটি মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, ২০০৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত অনুমতি ছাড়াই তাঁদের একাধিক গান ব্যবহার করা হয়েছে—আমার টিউন সেবা, রিংটোন আর বিজ্ঞাপনে।

বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের প্রধান নির্বাহীসহ চার কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন; পরে ওই চার কর্মকর্তা স্থায়ী জামিন পান। অভিযোগ গঠনের শুনানির দিনও ধার্য হয়েছিল।

এরপর জেমস ও মাইলস দুজনেই মামলা প্রত্যাহার করে নেন। শুনানিতে মাইলসের মানাম আহমেদ আদালতকে বলেন, মামলাটি হয়েছিল "ভুল বোঝাবুঝি" থেকে, আর তাঁরা আর এটি চালাতে চান না।

প্রত্যাহার যা প্রতিষ্ঠা করে, আর যা করে না

এখানে সতর্ক থাকা দরকার। মামলা প্রত্যাহার মানে আদালত কোনো পক্ষকে নির্দোষ বা দোষী বলেননি। অভিযোগ গঠনের আগেই কার্যক্রম থেমে গেছে, অর্থাৎ কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত নেই—না ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না, না রয়্যালটি বকেয়া ছিল কি না।

বাদী নিজেই প্রত্যাহার করলে তার ব্যাখ্যা সাধারণত দুটি: হয় অভিযোগটি ভুল ছিল, নয়তো আদালতের বাইরে বোঝাপড়া হয়েছে। প্রকাশ্য নথি কোনটি তা নিষ্পত্তি করে না, আর তাই এ দুটির কোনোটিই এখানে দাবি করা হচ্ছে না।

যে প্রশ্নটি অমীমাংসিতই থেকে গেল

অভিযোগের সময়সীমাটিই এ ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—চৌদ্দ বছর। ২০০৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত গান ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ, আর বিরোধটি আদালতে পৌঁছেছে একেবারে শেষে।

যে ব্যবস্থায় কোনো শিল্পীকে নিজের কাজের ব্যবহার টের পেতে, হিসাব মেলাতে আর প্রতিকার চাইতে এত বছর লাগে, সেখানে সমস্যাটি কোনো একক মামলার নয়। রয়্যালটি আদায়ের নিয়মিত কাঠামো থাকলে বিরোধটি প্রতি বছরের হিসাবেই মিটে যেত—আদালতে নয়।

মামলা প্রত্যাহারের পর ওই কাঠামোর প্রশ্নটি যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে।

সূত্র: টেক বিডি আর্কাইভ (২০২১), ২০২৬ সালে আদালতের প্রতিবেদন থেকে হালনাগাদ

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।