প্রযুক্তি

ঢাকার পিসির দাম, জুলাই: র‍্যামের দাম কমল, পোর্টেবল ড্রাইভ বাড়ল — আর মেমোরির দাম কেন পণ্যবাজারের মতো দোলে

মেমোরি বানায় তিনটি কোম্পানি, এমন কারখানায় যা বানাতে বছর লাগে — অথচ চাহিদা বদলায় মাসে মাসে। এই অমিলই র‍্যামের দামকে দোকানের আর সবকিছু থেকে আলাদা করে।

ঢাকার পিসির দাম, জুলাই: র‍্যামের দাম কমল, পোর্টেবল ড্রাইভ বাড়ল — আর মেমোরির দাম কেন পণ্যবাজারের মতো দোলে

সঞ্চয়ের দাম লাফ দেওয়ার ছয় মাস পর ঢাকার কম্পিউটার বাজার ভিন্ন একটি যন্ত্রাংশে উল্টো দিকে দুলেছে। এ সপ্তাহে ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে র‍্যামের দাম ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা কম, আর নির্দিষ্ট কিছু মডেলে পোর্টেবল হার্ড ড্রাইভ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি। বিক্রেতারা দুটিরই কারণ বলছেন সরবরাহ — মেমোরির চালান বেড়েছে, পোর্টেবল ড্রাইভের কমেছে। বাকি সব স্থিতিশীল: প্রসেসর, মাদারবোর্ড, অভ্যন্তরীণ এসএসডি, গ্রাফিকস কার্ড ও মনিটর গত সপ্তাহের জায়গাতেই।

এ সপ্তাহের রেফারেন্স দাম

যন্ত্রাংশমডেলদাম (টাকা)জানুয়ারির তুলনায়
সিপিইউইন্টেল কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে৭২,০০০অপরিবর্তিত
সিপিইউইন্টেল কোর আই৭, ১৪তম প্রজন্ম৪৮,০০০+২,৫০০
সিপিইউইন্টেল কোর আই৫-১৪৬০০কেএফ৩৮,০০০+৬,০০০
সিপিইউইন্টেল কোর আই৩, ১৩তম প্রজন্ম১৬,৫০০অপরিবর্তিত
সিপিইউএএমডি রাইজেন ৯ ৭৯৫০এক্স৪৭,৫০০নতুন তালিকাভুক্ত
সিপিইউএএমডি রাইজেন ৭ ৫৭০০জি১৯,০০০অপরিবর্তিত
সিপিইউএএমডি রাইজেন ৫ ৫৬০০জি১৬,০০০অপরিবর্তিত
বোর্ডআসুস প্রাইম এইচ৬১০এম (ডিডিআর৪)১০,৬০০অপরিবর্তিত
বোর্ডগিগাবাইট বি৭৬০এম গেমিং এক্স (ডিডিআর৪)২০,০০০অপরিবর্তিত
র‍্যামকরসেয়ার ভেনজেন্স এলপিএক্স ১৬ জিবি ডিডিআর৪-৩২০০১৩,০০০+৭০০ (জানুয়ারি), এ সপ্তাহে কম
র‍্যামকরসেয়ার ভেনজেন্স আরজিবি ১৬ জিবি ডিডিআর৫-৫২০০২৭,৫০০এ সপ্তাহে কম
র‍্যামজি.স্কিল ট্রাইডেন্ট জেড আরজিবি ৮ জিবি ডিডিআর৪-৩২০০৭,৫০০−১,১০০

বিশেষ করে মেমোরিই এমন আচরণ করে কেন

এই কলামের পাঠকেরা লক্ষ করেছেন, তালিকার আর সবকিছুর চেয়ে র‍্যাম অনেক বেশি নড়ে — দুই দিকেই। এটি ঢাকার বাজারের খেয়াল নয়। এটি পণ্যটিরই স্বভাব, আর কারণটি জানা থাকলে যেকোনো মাসের দাম পড়া সহজ হয়।

মেমোরি চিপ একটি কমোডিটি: এক নির্মাতার ১৬ জিবি মডিউল আর আরেক নির্মাতারটি কার্যত বিনিময়যোগ্য, কাজেই দাম ছাড়া প্রতিযোগিতার কিছু নেই। বিশ্বের প্রায় পুরো জোগান আসে হাতে গোনা কয়েকটি নির্মাতার কাছ থেকে, আর নতুন উৎপাদনক্ষমতা মানে কয়েক শ কোটি ডলারের কারখানা, যা বানাতে বছরের পর বছর লাগে।

কাজেই স্বল্পমেয়াদে জোগান নির্দিষ্ট, চাহিদা নয়। এই অমিল থেকেই তৈরি হয় পুনরাবৃত্ত একটি চক্র: ঘাটতিতে দাম বাড়ে, বাড়তি দাম সবাইকে সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহ দেয়, দুই বছর পর সেই সক্ষমতা একসঙ্গে আসে, উদ্বৃত্ত জোগানে দাম খরচের নিচে নামে, বিনিয়োগ থেমে যায়, আর ঘাটতি ফিরে আসে। কয়েক দশক ধরেই শিল্পটি এই বৃত্তে ঘুরছে — আর ক্রেতার জন্য চক্রের কোন জায়গায় তিনি আছেন তা যেকোনো ব্র্যান্ড বাছাইয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এর ওপর নতুন একটি চাপও আছে। এআই অ্যাক্সিলারেটরে ব্যবহৃত হয় বিশেষ ধরনের, উচ্চ মুনাফার মেমোরি, যা বানানো হয় সাধারণ ডির‍্যামের মতোই উন্নত উৎপাদন লাইনে। নির্মাতা যখন ওই সক্ষমতা কয়েক গুণ মুনাফায় বেচতে পারেন, তখন প্রচলিত মেমোরি পায় যা উদ্বৃত্ত থাকে — এ কারণেই ভোক্তা পর্যায়ের র‍্যামের দাম অস্বাভাবিক রকম লাফায়, আর এআই যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় শান্ত একটি মাস কয়েক মাস পর ঢাকার দোকানে ১,০০০ টাকা কমে ধরা দেয়।

ডিডিআর৪-এর ফাঁদ

এ সপ্তাহের ওঠানামার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কতা, কারণ এটি মানুষের প্রত্যাশার উল্টো দিকে চলে।

ডিডিআর৪ পুরোনো মান, আর স্বাভাবিক ধারণা হলো পুরোনো মানে সময়ের সঙ্গে সস্তা। কোনো প্রযুক্তির জীবনের বেশির ভাগ সময় কথাটি খাটে। কিন্তু জীবনের শেষে এটি উল্টে যায়: নির্মাতারা ডিডিআর৫-এর জন্য জায়গা খালি করতে ডিডিআর৪-এর লাইন গুটিয়ে আনতে থাকলে জোগান কমে, অথচ বিপুলসংখ্যক চালু যন্ত্রে তখনো সেটি দরকার — আর যে যন্ত্রাংশের আর কোনো উন্নতি হচ্ছে না, তার দাম বাড়ে, কখনো বেশ খানিকটাই।

কাজেই আজ কেনা ডিডিআর৪ যন্ত্র ঠিকই আছে, কিন্তু তিন বছর পর যে ডিডিআর৪ যন্ত্র আপনি আপগ্রেড করতে চাইবেন, তাতে যোগ করার কথা ভাবা ১৬ জিবি স্টিকটির দাম আজকের চেয়ে বেশি হতে পারে। ডিডিআর৪ যন্ত্র কিনছেন আর জানেন যে একদিন ৩২ জিবি লাগবে — তাহলে সস্তা সিদ্ধান্ত সাধারণত একটি স্লট খালি না রেখে দুটি স্টিক একসঙ্গেই কিনে ফেলা।

ঢাকার দাম বিশ্ববাজারের পিছু পিছু চলে কেন

স্থানীয় দাম বিশ্ববাজারের নড়াচড়া সঙ্গে সঙ্গে অনুসরণ করে না, আর কারণটি মজুত। দোকান বিক্রি করছে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস আগে আমদানি করা পণ্য, যার দাম দেওয়া হয়েছে সেদিনের ডলার রেটে, আর সেই অবতরণ-খরচের ওপরেই শুল্ক ও ভ্যাট বসানো।

ফল দুই দিকেই যায়, আর মনে রাখার মতো। বিশ্ববাজারে দাম কমলে এখানে তা দেখা দিতে কয়েক সপ্তাহ লাগে, কারণ আগে পুরোনো মজুত শেষ হতে হয়। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও তা আসে দেরিতে — তবে আসে হঠাৎ, যখন চলতি মজুত ফুরিয়ে যায় আর পরের চালানের দাম হয় নতুন হারে। এ কারণেই ঢাকার দাম ধীরে ধীরে না সরে বরং থেমে থেকে ধাপে ওঠে, আর এ কারণেই কোনো একটি সপ্তাহে নাটকীয় নড়াচড়া না দেখিয়েও “জানুয়ারিতে ৩২,০০০ ছিল” ৩৮,০০০ হয়ে যেতে পারে।

এ সপ্তাহে যা করবেন

নীরব খবরটি হলো কোর আই৫-১৪৬০০কেএফ এখন ৩৮,০০০ টাকা, জানুয়ারির ৩২,০০০ থেকে বেড়ে; আর ১৪তম প্রজন্মের আই৭ ৪৮,০০০, বেড়েছে ২,৫০০। এ সপ্তাহে কোনোটিই নড়েনি; বৃদ্ধিটি ঘটেছে বসন্তজুড়ে। এএমডির সমতুল্য মডেলগুলো অপরিবর্তিত, যা মূল্যের হিসাব বদলে দেয় — ১৯,০০০ টাকার রাইজেন ৭ ৫৭০০জি এখন সক্ষম অফিস বা শিক্ষার্থীর যন্ত্রের স্পষ্ট পছন্দ, আর ১৬,০০০ টাকার রাইজেন ৫ ৫৬০০জি গ্রাফিকস কার্ড ছাড়া সচল পিসির সবচেয়ে সস্তা পথ।

র‍্যামের দরপতনটি কাজে লাগান। যে যন্ত্রাংশে কম খরচ করার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি আফসোস করে সেটি মেমোরি, আর এখানেই দরপতনে অপেক্ষা না করে কিনে ফেলা যুক্তিসংগত। ৮ জিবিতে থাকলে ১৬-তে যাওয়ার সপ্তাহ এটিই। ডিডিআর৪-এ নতুন বানালে ৯,৬০০–১৩,০০০ টাকায় ১৬ জিবি স্বচ্ছন্দ, আর সম্পাদক ও ডেভেলপারদের জন্য ৩২ জিবি অবশেষে যুক্তিসংগত। ডিডিআর৫ কিটের দামও কমেছে, তবে প্ল্যাটফর্মের খরচ — একটি ডিডিআর৫ বোর্ড — একে আপগ্রেড নয়, নতুন উচ্চমানের বিল্ডের পছন্দ করেই রাখে।

পোর্টেবল ড্রাইভে পারলে অপেক্ষা করুন। নির্দিষ্ট মডেলে ৫০০–১০০০ টাকা বৃদ্ধি এমন ধরনের সরবরাহ-বিচ্যুতি, যা সাধারণত এক-দুই মাসেই উল্টে যায়। ড্রাইভটি জরুরি প্রয়োজনে নয়, ব্যাকআপের জন্য হলে অভ্যন্তরীণ একটি ড্রাইভ বা ক্লাউড প্ল্যান সময়টা পার করে দেবে — আর যন্ত্রের গোটা আয়ুতে হাজার টাকার ওঠানামা সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ এই সঞ্চয়ের যন্ত্রাংশেই।

সূত্র: Dhaka retail market survey, DRAM industry cycle, memory supply analysis

লিখেছেন

Miraj S

টেক বিডিতে প্রযুক্তির ব্যবসা নিয়ে লেখেন মিরাজ এস — বাংলাদেশের প্রযুক্তি অর্থনীতি, ই-কমার্স, টেলিকম, যন্ত্রাংশের দাম আর সেগুলোর পেছনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ঢাকার বাজারদরের নিয়মিত হিসাব তিনিই রাখেন—অর্থাৎ ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গেই তা তাঁকে জানানো হয়।