প্রযুক্তি

ঢাকায় এ সপ্তাহে র‍্যামের দাম আবার বাড়ল—স্টিকপ্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত, বাকি সব যন্ত্রাংশ স্থির

ঢাকার কম্পিউটার বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, জনপ্রিয় র‍্যামগুলো গত সপ্তাহের চেয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, অথচ প্রসেসর, মাদারবোর্ড, এসএসডি, গ্রাফিকস কার্ড ও মনিটরের দাম প্রায় অপরিবর্তিত। বিশ্বজুড়ে মেমোরির টানাটানি স্থানীয়ভাবে এমনই দেখায়।

ঢাকায় এ সপ্তাহে র‍্যামের দাম আবার বাড়ল—স্টিকপ্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত, বাকি সব যন্ত্রাংশ স্থির

এ মাসে কম্পিউটার বানাতে বসলে যে যন্ত্রাংশটি স্থির থাকছে না, তা হলো মেমোরি। ঢাকার কম্পিউটার বাজারের বিক্রেতারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে জনপ্রিয় র‍্যামগুলো গত সপ্তাহের চেয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রায় কিছুই বদলায়নি: প্রসেসর, মাদারবোর্ড, এসএসডি, গ্রাফিকস কার্ড, হার্ডডিস্ক ও মনিটর মোটামুটি আগের জায়গাতেই।

এখন র‍্যামের দাম

বাজার জরিপ অনুযায়ী, বহুল বিক্রীত করসেয়ার ভেনজিন্স সিরিজে: এলপিএক্স ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর৪) ৮ জিবি ৮ হাজার ২০০ টাকা, আর এলপিএক্স ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর৪) ১৬ জিবি ১৪ হাজার টাকা। বাংলাদেশে কম ও মাঝারি বাজেটের বেশির ভাগ বিল্ডে এই স্টিকগুলোই ব্যবহৃত হয়, তাই ১ হাজার টাকার হেরফের সঙ্গে সঙ্গে টের পাওয়া যায়।

তুলনার জন্য, একই জরিপে যেসব দাম বদলায়নি: ইন্টেল কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে ৬২ হাজার টাকা, কোর আই-৭ ১৪ প্রজন্ম ৫০ হাজার টাকা, কোর আই-৫ ১৩ প্রজন্ম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা; সিগেট বারাকুডা ২ টেরাবাইট ১৭ হাজার ৩০০ টাকা ও ৪ টেরাবাইট ২৩ হাজার টাকা; গিগাবাইট আরটিএক্স ৩০৫০ উইন্ডফোর্স ওসি ৮ জিবি ৩৪ হাজার টাকা; টিপি-লিংক আর্চার সি২০ ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার ১ হাজার ৫০০ টাকা।

শুধু মেমোরিই কেন

টানাটানিটা স্থানীয় নয়। পিসির যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে একমাত্র মেমোরিই এআইয়ের নির্মাণজোয়ার ঠিক সেই রূপে খেয়ে ফেলে, যে রূপে সাধারণ ক্রেতারও লাগে: চীন, যুক্তরাষ্ট্র আর উপসাগরীয় অঞ্চলে গড়ে ওঠা ডেটা সেন্টারগুলো ডির‍্যাম আর হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি টানছে জাহাজভর্তি করে, আর নির্মাতারা—স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন—উৎপাদনক্ষমতা সরিয়ে নিয়েছে সার্ভার বাজারের দিকে, যেখানে মুনাফা বেশি। খুচরা বাজারের র‍্যাম যা বাঁচে তা-ই। এ কারণেই গ্রাফিকস কার্ড স্থির থাকতে পারে যখন মেমোরির দাম ওঠে: আলাদা উৎপাদন লাইন, আলাদা ক্রেতা।

একই চাপ বাজারের অন্য প্রান্তেও দেখা যায়। এই সপ্তাহে গুগল যখন ৮৯৯ ডলারে গুগলবুক ল্যাপটপ ঘোষণা করল (আমাদের প্রতিবেদন), প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে জোরালো অভিযোগ ছিল—মেমোরির সংকট শুরুর দামটাকে সবার প্রত্যাশার চেয়ে ওপরে তুলে দিয়েছে।

এখন করণীয়

  1. বিল্ডে র‍্যাম লাগলে র‍্যামটাই আগে কিনুন। দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এই যন্ত্রাংশেই; প্রসেসর আর মাদারবোর্ড আগামী মাসেও একই দামে থাকবে।
  2. দুটি ৮ জিবির বদলে একটি ১৬ জিবি স্টিক নিন, যদি বোর্ডে চারটি স্লট থাকে। আজ প্রতি গিগাবাইটে একটু বেশি পড়বে, তবে পরে কিছু ফেলে না দিয়েই বাড়ানোর জায়গা থাকবে।
  3. আপনার বোর্ডের জন্য ডিডিআর৪ না ডিডিআর৫—মিলিয়ে নিন। দাম এতটাই কাছাকাছি এসেছে যে মানুষ ভুল প্রজন্ম কিনে ফেলছেন; সিদ্ধান্তটা মাদারবোর্ডের, প্রসেসরের নয়।
  4. "আগামী মাসে দাম কমবে" কথাটা আমলে নেবেন না। দোকানে কেউ জানে না, আর চালিকাশক্তিটা এক বছর আগে নেওয়া বৈশ্বিক উৎপাদনক্ষমতার সিদ্ধান্ত।
  5. পুরোনো কিনতে গেলে র‍্যামই একমাত্র যন্ত্রাংশ যা ভাবা যায়—এতে চলমান কোনো অংশ নেই, হয় কাজ করে নয় করে না, আর পাঁচ মিনিটের পরীক্ষাতেই তা বোঝা যায়।

ওপরের দাম এ সপ্তাহে ঢাকার কম্পিউটার দোকানগুলোতে প্রথম আলোর বাজার জরিপ থেকে নেওয়া; দোকান, ওয়ারেন্টির শর্ত ও পরিমাণভেদে তারতম্য হবে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Miraj S

টেক বিডিতে প্রযুক্তির ব্যবসা নিয়ে লেখেন মিরাজ এস — বাংলাদেশের প্রযুক্তি অর্থনীতি, ই-কমার্স, টেলিকম, যন্ত্রাংশের দাম আর সেগুলোর পেছনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ঢাকার বাজারদরের নিয়মিত হিসাব তিনিই রাখেন—অর্থাৎ ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গেই তা তাঁকে জানানো হয়।