প্রযুক্তি

এআই খাতের কর্মীদের ২২ শতাংশ নারী, নেতৃত্বে ১৪ শতাংশেরও কম: ইউএন উইমেন। টুল ব্যবহারে ব্যবধান ২০ শতাংশ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থাপিত ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন বলছে, এআই পেশাজীবীদের এক-পঞ্চমাংশ নারী, নেতৃত্বে এক-সপ্তমাংশ, আর জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে তাঁরা ২০ শতাংশ পিছিয়ে। নারী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতার প্রতি চারটির একটিতে এখন এআইয়ের অপব্যবহার।

এআই খাতের কর্মীদের ২২ শতাংশ নারী, নেতৃত্বে ১৪ শতাংশেরও কম: ইউএন উইমেন। টুল ব্যবহারে ব্যবধান ২০ শতাংশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনীতি নতুন করে গড়ছে, আর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থাপিত ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন বলে দিচ্ছে—গড়ছেন কারা। এআই খাতে কাজ করা পেশাজীবীদের মধ্যে নারী ২২ শতাংশ, আর এই খাতের নীতিনির্ধারণী বা শীর্ষ নেতৃত্বে নারী ১৪ শতাংশেরও কম। জেনারেটিভ এআই টুল ব্যবহারেও নারীরা পুরুষদের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ পিছিয়ে

তিনটি ব্যবধান

প্রতিবেদনটি এমন এক ব্যবধানের কথা বলে, যা প্রতিটি ধাপে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে। কম নারী ব্যবস্থাগুলো বানান। যেসব ঘরে ওই ব্যবস্থার নিয়ম ঠিক হয়, সেখানে নারী আরও কম। আর টুলগুলো তৈরি হয়ে গেলে ব্যবহারও করেন কম নারী—ফলে সেগুলো ব্যবহার করে যে অভ্যাস, যে শর্টকাট আর যে পেশাগত সুবিধা জমে, তা শুরু থেকেই অসমভাবে জমতে থাকে। ইউএন উইমেনের নীতি ও কর্মসূচি বিভাগের পরিচালক সারাহ হেন্ড্রিক্স ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেছেন এই সতর্কবার্তা হিসেবে যে, প্রযুক্তিটি বৈষম্য কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিতে পারে।

শুধু বাদ পড়া নয়, ক্ষতিও

প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশ সেসব নারীকে নিয়ে, যাঁরা এই শিল্পে নেই-ই। মানবাধিকারকর্মী ও নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া অনলাইন সহিংসতার প্রায় প্রতি চারটির একটিতে এখন এই প্রযুক্তির অপব্যবহার হয়েছে—ডিপফেক, কৃত্রিম ছবি, স্বয়ংক্রিয় হয়রানি। আর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য বলছে, নারীপ্রধান পেশাগুলো জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে পুরুষপ্রধান পেশার তুলনায় দ্বিগুণ ঝুঁকিতে, কারণ কেরানি, প্রশাসনিক ও সহায়তার কাজই এই মডেলগুলো সবার আগে স্বয়ংক্রিয় করে।

ইউএন উইমেনের দাবি: এআই বিকাশে নারীদের সমান অংশীদারত্ব, প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শক্ত আইনি সুরক্ষা, আর এমন আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ যা নারীর নিরাপত্তাকে আলাদা বিষয় না ভেবে এআই নিরাপত্তারই অংশ ধরে।

বাংলাদেশে সংখ্যাগুলো কেমন

এই প্রতিবেদনের বাংলাদেশি সংস্করণ নেই, আর সেটাই সমস্যার অংশ। যা মাপা যায়, তা একই দিকে ইঙ্গিত করে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইইই-তে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে নারী সংখ্যালঘু; বেসিসের সদস্যপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী জরিপে আইটি খাতে নারীর হার বহুদিন ধরেই এক-তৃতীয়াংশের অনেক নিচে; আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে—প্রযুক্তিতে ঢোকার যে পথটি বাংলাদেশ সত্যিই বড় করতে পেরেছে—ব্যবধান কমার বদলে বাড়ে, কারণ কাজটি নির্ভর করে গভীর রাতের ক্লায়েন্ট কল আর আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য পেমেন্ট পরিচয়ের ওপর, যে দুটোই এখানে বহু নারীর জন্য জোগাড় করা কঠিন।

ক্ষতির দিকটি আরও কম নথিভুক্ত, আর সামলানোও হয় আরও খারাপভাবে। নারীকে হেয় করতে বানানো ডিপফেক ছবি—বিশেষ করে নির্বাচন আর পারিবারিক বিরোধের সময়—থানায় পৌঁছায় যেকোনো কর্মকর্তার তা যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ পাওয়ার আগেই, আর সাইবার নিরাপত্তা আইন সক্রিয় হয় কেবল উপাদান প্রকাশের পর। সবচেয়ে সস্তা হস্তক্ষেপগুলো প্রযুক্তিগত নয়: প্রতিটি সাইবার ইউনিটে একটি নারী হেল্প ডেস্ক, যা অভিযোগে একই দিনে ব্যবস্থা নিতে পারে; আর স্কুল পর্যায়ে শেখানো যে বিশ্বাসযোগ্য একটি ছবি কিছুই প্রমাণ করে না। কোনোটির জন্যই মডেল বা ডেটা সেন্টার লাগে না।

এটি প্রযুক্তি বিভাগের খবর কেন

কারণ ২২ শতাংশ কোনো সামাজিক পরিসংখ্যান নয়, এটি প্রকৌশলের পরিসংখ্যান। একই ধরনের অন্ধবিন্দু ভাগ করে নেওয়া মানুষদের বানানো ও যাচাই করা ব্যবস্থা সেই অন্ধবিন্দুগুলো বয়ে নিয়ে যাবে তার ওপর প্রশিক্ষিত প্রতিটি পণ্যে—আর যেসব দেশ সেই পণ্য পুরোটাই গ্রহণ করে, বাংলাদেশ যাদের একটি, তারা ঘরে কখনো না থেকেও অন্ধবিন্দুগুলোর উত্তরাধিকারী হয়।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।