প্রযুক্তি

"বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যকর": এআইয়ের জন্য স্কুল প্রস্তুত নয়, বলছেন সাবেক এক প্রধান শিক্ষক। বাংলাদেশে আলোচনাটাই শুরু হয়নি

স্যার অ্যান্থনি সেলডনের প্রতিবেদন বলছে, ইংল্যান্ডের দরকার জাতীয় এআই কাঠামো, প্রশিক্ষিত শিক্ষক আর আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিটি স্কুলের নিজস্ব এআই কৌশল—যুদ্ধ বা মহামারির মতো জরুরি ভিত্তিতে। বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষে একই শিক্ষার্থী, পরিকল্পনা শূন্য।

"বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যকর": এআইয়ের জন্য স্কুল প্রস্তুত নয়, বলছেন সাবেক এক প্রধান শিক্ষক। বাংলাদেশে আলোচনাটাই শুরু হয়নি

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেই দিকনির্দেশনার জন্য স্কুলগুলো "আকুল হয়ে আছে"—মঙ্গলবার ইংল্যান্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছেন স্যার অ্যান্থনি সেলডন, সাবেক এই প্রধান শিক্ষক ২০২৩ সালে "এআই ইন এডুকেশন" সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা। শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে, তবে তার আগমন হয়েছে "বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যকর"ভাবে: প্রতিটি স্কুল, প্রতিটি শিক্ষক আর প্রতিটি ১৪ বছরের কিশোর নিয়ম ঠিক করছে একা একা।

প্রতিবেদনের দাবি

ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট টিম বান্টিংয়ের সঙ্গে লেখা প্রতিবেদনটি ইংল্যান্ডের শিক্ষায় এআই গ্রহণের একটি জাতীয় কাঠামো চায়, সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, যা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি স্কুল আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজস্ব "এআই কৌশল" লিখবে। যুক্তি: এআইকে বাগে আনতে যুদ্ধ বা মহামারির মতো জাতীয় জরুরি অবস্থা দরকার, আর কোভিড টিকা সরবরাহের টাস্কফোর্সের আদলে একটি টাস্কফোর্স। দশ দফার মধ্যে আছে:

  • প্রতিটি স্কুল ও কলেজ এআই কৌশল লিখবে, আর স্কুল পরিদর্শন সংস্থা অফস্টেড পরিদর্শনের সময় তার বাস্তবায়ন যাচাই করবে।
  • এআই কী পারে, কী পারে না আর এর ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা অভিযান।
  • স্কুল কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ও প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি অনুসরণ করে, তা এআই দিয়ে বদলানো।
  • "দুই লেনের" মূল্যায়ন: প্রচলিত পরীক্ষার পাশাপাশি এআইয়ের সহায়তায় শিক্ষার্থী আসলে কতটা বুঝেছে তার ধারাবাহিক মূল্যায়ন।

শিক্ষার্থীরা যা বলল

প্রতিবেদনের নিজস্ব জরিপে অনেক তরুণ বলেছে, এআই তাদের জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছে; কেউ কেউ বলেছে, এটি একদিন শিক্ষকের জায়গা নেবে আর বিশ্ববিদ্যালয়কে "অকেজো" করে দেবে। প্রতিবেদনের ভাষায়, "সোজা কথায়, তরুণেরা এরই মধ্যে এআই কীভাবে ও কতটা ব্যবহার করছে, শিক্ষা তার সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি, আর সেই ফাঁক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষার মূল্য হারানোর মধ্যে ফুটে উঠতে শুরু করেছে।"

সবাই হতাশ নয়। লিভারপুলের কিংস লিডারশিপ অ্যাকাডেমি এরই মধ্যে শিক্ষাক্রমে এআই যুক্ত করেছে; অধ্যক্ষ বেঞ্জামিন বার্কার চান শিক্ষার্থীরা সমালোচনামূলক চিন্তা ধরে রেখেই যন্ত্রগুলো নিরাপদে ব্যবহার করতে শিখুক। ১২ বছরের এমা রোবোটিকস প্রকল্পে আর ইংরেজি হোমওয়ার্ক প্রুফরিড করতে এআই ব্যবহার করে। "এর থেকে পুরোপুরি পিছিয়ে আসার কোনো পথ নেই," সে বিবিসিকে বলে, "তাই আমার মনে হয়, ভালো মানুষ হতে আমাদের এটা ব্যবহার করা উচিত।"

ইংল্যান্ডের শিক্ষা বিভাগ বলছে, এআইয়ের "বড় সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ" তারা "অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে" নেয়; হালনাগাদ শিক্ষাক্রমে ডিজিটাল দক্ষতা আর ভুয়া তথ্য চেনার শিক্ষা আছে, আর তারা এআই টিউটরিং টুল ও নতুন বৃত্তিমূলক পথ তৈরি করছে।

একই শিক্ষার্থী, প্রতিবেদন ছাড়া

ঢাকা থেকে পড়লে স্যার অ্যান্থনির প্রতিবেদনের চমক তার সুপারিশে নয়, তার অস্তিত্বে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার প্রস্তুতিতে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি আর ফোনে থাকা এআই ঠিক ইংল্যান্ডের শিক্ষার্থীদের মতোই ব্যবহার করে; কোচিং সেন্টার "এআই-সহায়ক" উত্তর লেখার বিজ্ঞাপন দেয়; আর কোন বোর্ড, মন্ত্রণালয় বা পাঠ্যবই একটি শব্দও বলেনি—কী অনুমোদিত, কী নকল, আর কোনোটার ক্ষেত্রেই শিক্ষকের করণীয় কী। পরীক্ষার জায়গায় স্কুলভিত্তিক মূল্যায়ন আনা ২০২৩ সালের শিক্ষাক্রম ২০২৪ সালে প্রত্যাহার হয়েছে, এআই তাতে কীভাবে খাপ খাবে সে প্রশ্ন ওঠার আগেই; ফিরিয়ে আনা ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম স্মার্টফোনের আগের।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে সস্তা সুপারিশগুলোই সবচেয়ে সহজে আমদানিযোগ্য: স্কুলে এআই নিয়ে এক পাতার জাতীয় অবস্থান, শিক্ষকদের জন্য ছোট একটি প্রশিক্ষণ মডিউল, আর প্রতিটি স্কুল নিজের নীতি লিখে রাখবে—এক অনুচ্ছেদ হলেও—এমন একটি নিয়ম। কোনোটির জন্য টাস্কফোর্স লাগে না। লাগে কেউ একজন, যিনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে আলোচনাটা শুরু হয়েছে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।