সিএনএনে লেখেন এমন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এডিথ ব্রাচো-সানচেজ চার বছরের ছেলেকে পোকামাকড়ের বই পড়ে শোনাচ্ছিলেন, ছেলে শুধরে দিল: তেলাপোকা শত শত ডিম পাড়ে, লাখ লাখ নয়। এক সপ্তাহ আগে বাবার ফোনে সে যাচাই করে নিয়েছে। "সিরি আসলে শুধু আবহাওয়ার জন্য ভালো, মা," সে বুঝিয়ে দিল। "আসল জিনিস জানতে চাইলে চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করতে হয়।" পরের নিবন্ধে তাঁর বক্তব্য: অভিভাবকদের প্রশ্ন আর "শিশু এআই ব্যবহার করবে কি না" নয়। অনেকে এরই মধ্যে করছে। প্রশ্ন হলো, কীভাবে।
এআই কেন স্ক্রিন টাইম নয়
পর্দার জন্য অভিভাবকদের একটা কাঠামো আছে: ঘণ্টা আর কনটেন্ট। এআইয়ের জন্য আলাদা কাঠামো লাগে, তাঁর যুক্তি, কারণ এটি উত্তর দেয়। শিশু গতকাল কী জিজ্ঞাসা করেছিল তা মনে রাখে, তাকে সুনির্দিষ্টভাবে তাৎক্ষণিক উত্তর দেয়, আর এমন কিছু তৈরি করে "যা মানুষের মনোযোগের মতোই দেখতে"। ঝুঁকি ব্যয় করা ঘণ্টায় নয়, নির্ভরতায়: সমস্যাটা নিজে ভাবার আগেই হোমওয়ার্কের উত্তর এসে যাওয়া, কিংবা "কেউ সিদ্ধান্ত না নিয়েই" একটি বট চুপচাপ বিশ্বস্ত সঙ্গীর জায়গা নিয়ে নেওয়া।
বয়সে যা বদলায়
ছোট শিশুরা আত্মবিশ্বাসী বড়দের বিশ্বাস করতেই তৈরি; এভাবেই তারা ভাষা আর নিয়ম শেখে। ছয় বছরের শিশু কোনো উৎসকে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন করতে পারে না, তাই জ্ঞানী বড়দের মতো শোনানো চ্যাটবটকে সে বিশ্বাস করে। যা নিয়মিত সাড়া দেয়, তার সঙ্গে সহজেই তারা জড়িয়ে পড়ে—না বুঝেই যে সাড়া দেওয়া জিনিসটা ভাবছে না, অনুভবও করছে না। তাঁর অবস্থান স্পষ্ট: শৈশবের শুরুর শিক্ষায় শিশুদের এআই ব্যবহার করাই উচিত নয়। শৈশবের শেখা হওয়ার কথা অদক্ষ—অনুমান, ভুল, কেন ভুল তা নিয়ে তর্ক—আর এআই "সেই জায়গাটা মুছে দিতে অসাধারণ পটু"। কখনো কখনো "জানি না"-র সঠিক উত্তর এখনো "তুমি কী মনে করো?"
একটু বড়দের সংশয় শেখানো যায়: উত্তর নিশ্চিত শোনালেও ভুল হতে পারে, অন্য কোথাও দাবিটা কীভাবে যাচাই করতে হয়, আর কী গোপন রাখতে হয়—কারণ এই প্রোগ্রামগুলো তথ্য সংগ্রহ করে ও রাখে। যে পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে বলেন তিনি: "আপনার সন্তান কখন এআইকে প্রশ্ন করা ছেড়ে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে?"
কিশোরেরা জানে চ্যাটবট মানুষ নয়, কিন্তু জানা আর অনুভব করা আলাদা, "বিশেষ করে রাত ১১টায়, যখন তারা হয়তো একা, উদ্বিগ্ন বা বিষণ্ন"। যা কখনো বিচার করে না, গুজব ছড়ায় না, সব সময় পাওয়া যায়—বন্ধুত্ব আর পরিচয় খুঁজে ফেরা কিশোরের কাছে তা প্রবল টানের। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এআই তার সামাজিক জগৎকে পূরক করছে, নাকি প্রতিস্থাপন: বন্ধুকে মেসেজ, বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা, কাউন্সেলরের কাছে যাওয়া। তাদের এটাও বোঝা দরকার, কিছু এআই পণ্য তৈরিই হয়েছে তাদের আটকে রাখতে, যার স্বার্থ তাদের সত্যিই ভালোবাসে এমন কারও মতো নয়।
তাঁর নিয়ম, আর আমাদের
- ছোট শিশুর পাশে বসে এআই ব্যবহার করুন, হাতে তুলে দেবেন না। স্পষ্ট নাম দিন: "উত্তর বানানো একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম; মানুষ নয়; মাঝে মাঝে ভুল।"
- এর কাজ সংকীর্ণ রাখুন: একসঙ্গে খুঁজে দেখার একটা তথ্যের প্রশ্ন, প্রতিটি "জানি না"-র প্রতিবর্ত নয়।
- দশ বছরের কাছাকাছি থেকে যাচাই শেখান: একই প্রশ্ন দুবার বা দুটি অ্যাপে করে মিলিয়ে দেখা।
- চ্যাটবটে কী কখনো যাবে না তা ঠিক করুন: পুরো নাম, স্কুল, ঠিকানা, ছবি, পারিবারিক সমস্যা।
- নিজে দেখান। শিশু আপনার ফোন নিয়ে আপনি যা করেন তা নকল করে, তাদের ফোন নিয়ে আপনি যা বলেন তা নয়।
বাংলাদেশে ধরনটা এরই মধ্যে একই, একটাই পার্থক্য: এখানে এআই সাধারণত পরিবারের ভাগাভাগির ফোনে, আর "হোমওয়ার্কের সাহায্য" প্রায়ই কোচিং সেন্টারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, যার উত্তর এমনিতেই চ্যাটজিপিটি থেকে আসে। এই সপ্তাহে ইংল্যান্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলেছে, স্কুলগুলো দিকনির্দেশনার জন্য "আকুল"। কেউ তা দেওয়ার আগ পর্যন্ত দিকনির্দেশনা আসতে হবে সোফা থেকেই।




