নিজেদেরই দুই কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে আদালতে গেছে এক্স। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের হাইকোর্ট অব জাস্টিসে করা মামলায় কোম্পানিটির অভিযোগ, বিবেক কুমার সেন ও জামইয়াং শেরপা নিজেদের পোস্টে কৃত্রিমভাবে এনগেজমেন্ট বাড়িয়েছেন—ভুয়া লাইক ও মন্তব্য যুক্ত করে—এক্সের ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রাম থেকে অর্থ বের করে নিতে।
এক্স যা বলছে
মামলার নথি অনুযায়ী, দুজনের ব্যবহার করা অ্যাকাউন্টগুলো আসলে স্বাধীন ছিল না, ছিল একই নেটওয়ার্কের অংশ। একটি অ্যাকাউন্টে পোস্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বাকিগুলো একই বা প্রায় একই পোস্ট দিত এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লাইক ও মন্তব্যে ঝাঁপিয়ে পড়ত। রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের নিয়মে যে পোস্টে বেশি এনগেজমেন্ট, সেখান থেকেই আয়—ফলে একে অপরকে ঠেলে তোলা অ্যাকাউন্টের চক্র কার্যত টাকা বানানোর যন্ত্র।
আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি সমন্বয়। কারও লেখা এমনিতেই ভালো চললে তিনি প্রোগ্রাম যা পুরস্কৃত করে তা-ই করছেন; কিন্তু যিনি এমন কয়েকটি অ্যাকাউন্ট চালান যাদের একমাত্র কাজ একে অপরের জন্য হাততালি দেওয়া, তিনি মিথ্যা অজুহাতে টাকা নিচ্ছেন—এটাই এক্সের যুক্তি।
যে প্রোগ্রাম নিয়ে কারসাজি, তা আর নেই
গত আগস্টে এক্স ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রাম বন্ধ করে নতুন রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম চালু করেছে। পুরোনো নিয়মে আয় নির্ভর করত আপনার পোস্টে অন্য ব্যবহারকারীদের এনগেজমেন্টের ওপর—ঠিক যে কারণে বটের মতো অ্যাকাউন্ট-চক্র লাভজনক হয়ে উঠেছিল। নতুন ব্যবস্থায় জোর পড়েছে নির্মাতার নিজের দর্শকের ওপর, নিছক ইন্টারঅ্যাকশনের সংখ্যায় নয়; আর সংখ্যা ফোলানোর সন্দেহ হলে অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার কথা এক্স এখন খোলাখুলিই বলছে।
বাংলাদেশের নির্মাতার কেন জানা দরকার
বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্ল্যাটফর্মের পেআউট থেকে আয় করেন বা করতে চান: এক্সের রিওয়ার্ড, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম, ফেসবুকের ইন-স্ট্রিম ও পারফরম্যান্স বোনাস, টিকটকের ক্রিয়েটর ফান্ড। এগুলোর চারপাশে গড়ে উঠেছে এনগেজমেন্ট গ্রুপের এক ধূসর অর্থনীতি—ফেসবুক ও টেলিগ্রামের গ্রুপ, যেখানে সদস্যরা পালা করে একে অপরের পোস্টে লাইক-কমেন্ট করেন, অনেক সময় মাসে কয়েক শ টাকার সেবা হিসেবেই বিক্রি হয়।
দুটি কথা স্পষ্ট বলা দরকার। এক, প্ল্যাটফর্মের চোখে "সাপোর্ট গ্রুপ" আর এক্স যে নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; দুটোই সমন্বিত অকৃত্রিম এনগেজমেন্ট, আর শনাক্তকরণ স্বয়ংক্রিয়। দুই, সাধারণ শাস্তি মামলা নয়, বরং আরও নীরব ও খারাপ কিছু—আপিলের সুযোগ ছাড়াই মনিটাইজেশন বাতিল, কিংবা স্থায়ী স্থগিতাদেশ, যা অ্যাকাউন্টের সঙ্গে দর্শকও কেড়ে নেয়। আদালতে যাওয়া এক্সের জন্য অস্বাভাবিক ও ব্যয়বহুল; তারা যে গেছে, তাতেই বোঝা যায় পেআউট প্রতারণাকে প্ল্যাটফর্মগুলো এখন কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
বদলে যা করবেন
- এনগেজমেন্ট গ্রুপ ছাড়ুন। এমন গ্রুপে থাকাটাই আপনার অ্যাকাউন্টকে আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরের এক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
- লাইক, ফলোয়ার বা ভিউ কিনবেন না। বিক্রেতার অন্য ক্রেতারাই সেই প্রমাণের সুতো, যা আপনার পর্যন্ত পৌঁছায়।
- যেখানে আয় করেন, সেখানকার নিয়ম নিজে পড়ুন—ইউটিউবের সারাংশ ভিডিও নয়। এক্সে নিয়ম বদলেছে আগস্টে, অন্যত্রও নিয়মিত বদলায়।
- পেআউট অ্যাকাউন্ট আর পরিচয়পত্রের তথ্য এক রাখুন। "এনগেজমেন্ট"-এর কারণে মনে হওয়া স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বেশির ভাগই আসলে পেমেন্টের ধাপে পরিচয় না মেলার ফল।




