প্রযুক্তি

আগস্টের শেষে ঢাকার জন্য তিন বাজেটের বিল্ড গাইড — আর যে একটিমাত্র ধারণা ঠিক করে দেয় কোন টাকাটা কোথায় যাবে

যে যন্ত্রাংশটি এই মুহূর্তে যন্ত্রকে আটকে রেখেছে, কেবল তাতেই টাকা খরচের মানে আছে। এই একটি ধারণাই প্রতিটি বিল্ড সাজিয়ে দেয় — আর এ কারণেই অফিসের পিসিতে গ্রাফিকস কার্ড লাগে না।

আগস্টের শেষে ঢাকার জন্য তিন বাজেটের বিল্ড গাইড — আর যে একটিমাত্র ধারণা ঠিক করে দেয় কোন টাকাটা কোথায় যাবে

এবার বাজার প্রতিবেদনে কোনো খবর নেই: ঢাকায় প্রায় প্রতিটি যন্ত্রাংশ গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে, আর বিক্রেতারা চাহিদাকে স্বাভাবিক বলছেন। কাজেই অপেক্ষা না করে বানানোর জন্য সপ্তাহটি ভালো। নিচের বিল্ডগুলোতে এ সপ্তাহের দাম ধরা হয়েছে; গ্রাফিকস কার্ড ও কেসিং মোট হিসাব থেকে বাদ, কারণ ওখানে পছন্দের তারতম্য অনেক বেশি।

যে ধারণাটি প্রতিটি বিল্ড সাজিয়ে দেয়

যন্ত্রাংশের তালিকার আগে সেই নীতিটি, যা তালিকাগুলোকে অর্থপূর্ণ করে — কারণ প্রথমবার পিসি বানানো মানুষকে এটি কেউ বলে না।

কম্পিউটার চলে ঠিক ততটা গতিতে, যতটা তাকে আটকে রাখা জিনিসটি চলতে দেয়। যেকোনো মুহূর্তে একটি যন্ত্রাংশই সীমাবদ্ধতা, আর বাকিরা তার জন্য অপেক্ষা করে — আর সীমাবদ্ধতাটি ছাড়া অন্য কিছুতে খরচ করা টাকা আপনাকে অনুভব করার মতো কিছুই দেয় না। গ্রাফিকস কার্ডে আটকে থাকা যন্ত্রে দ্রুততর প্রসেসর বসালে ফ্রেম বাড়ে না। স্প্রেডশিট খোলা যন্ত্রে বাড়তি কোর কিছুই বদলায় না। ৮ জিবি র‍্যামের যন্ত্রে ভালো গ্রাফিকস কার্ড বসালে তা বেশির ভাগ সময় সিস্টেমের ডিস্কে সোয়াপ করা দেখে।

কাজেই কাজের প্রশ্নটি কখনোই “সাধ্যের মধ্যে সেরা যন্ত্রাংশ কোনটি” নয়। প্রশ্নটি হলো, “আমি আসলে যা করি, তাতে এই যন্ত্রকে কী আটকাবে” — আর ব্যবহারভেদে উত্তর সম্পূর্ণ আলাদা। এ কারণেই নিচের তিনটি বিল্ড একই বিল্ডের তিন দামের সংস্করণ নয়।

আগে একটিমাত্র সিদ্ধান্ত: ডিডিআর৪ না ডিডিআর৫

গরমকালের কৌতূহলোদ্দীপক নড়াচড়াটি দামে নয়, বোর্ডে। জানুয়ারিতে যে ডিডিআর৫ মাদারবোর্ডের দাম ছিল ২৫,০০০ টাকা ও তার বেশি, এখন তা শুরু ১৬,৭০০ টাকা (এমএসআই এইচ৮১০এম-বি) ও ১৭,২০০ টাকা (গিগাবাইট বি৭৬০এম ডিডিআর৫) থেকে; এএমডির জন্য এমএসআই বি৬৫০এম গেমিং ওয়াই-ফাই ১৯,০০০ টাকা। ডিডিআর৫ মেমোরি এখনো দামি — ১৬ জিবি কিট প্রায় ২৭,০০০ টাকা, যেখানে ডিডিআর৪ ১৩,০০০–১৩,৫০০ — তবে বোর্ডের ব্যবধান প্রায় মিটে গেছে।

এখনকার নিয়ম: আগে থেকেই আপনার কাছে থাকা মেমোরি আবার ব্যবহার করলেই কেবল ডিডিআর৪-এ বানান। নতুন বিল্ড ডিডিআর৫-এই হওয়া উচিত, যদি না বাজেট সত্যিই কড়া।

অফিস ও শিক্ষার্থী — প্রায় ৪৫,০০০ টাকা

  • এএমডি রাইজেন ৫ ৫৬০০জি — ১৯,০০০ টাকা
  • এমএসআই এ৫২০এম-এ প্রো (ডিডিআর৪) — ৭,২০০ টাকা
  • করসেয়ার ভেনজেন্স এলপিএক্স ১৬ জিবি ডিডিআর৪-৩২০০ — ১৩,৫০০ টাকা
  • ৫১২ জিবি এনভিএমই এসএসডি — ৬,০০০–৭,০০০ টাকা

কেসিং ও পাওয়ার সাপ্লাই ছাড়া প্রায় ৪৬,০০০ টাকা। ডিডিআর৪ কেবল এখানেই জেতে, কারণ ৫৬০০জি একটি ডিডিআর৪ চিপ আর এটিই এখনো দ্রুত মনে হওয়া সবচেয়ে সস্তা পূর্ণাঙ্গ পিসি।

যে খুঁটিনাটিটি ব্যাখ্যা করা দরকার: ৫৬০০জি-র জি মানে ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিকস — চিপের ভেতরেই বসানো একটি গ্রাফিকস প্রসেসর। এ কারণেই এই বিল্ডে কোনো কার্ড লাগে না, আর যিনি গেম খেলেন না তাঁর জন্য এটিই সবচেয়ে বড় সাশ্রয়। কাছাকাছি দামের জি-বিহীন প্রসেসর কার্ড ছাড়া কোনো ছবিই দেখাবে না — আর সেই কার্ডের দাম প্রসেসরের চেয়ে বেশি।

এই যন্ত্রে সীমাবদ্ধতা প্রায় কখনোই প্রসেসর নয়। সীমাবদ্ধতা র‍্যাম ও এসএসডি — এ কারণেই এখানে দুটিই উদারভাবে ধরা, আর এ কারণেই ৫৬০০জি বিল্ড আপগ্রেড মানে চিপ বদলানো নয়, মেমোরি যোগ করা।

গেমিং — জিপিইউ ছাড়া প্রায় ৯০,০০০ টাকা

  • ইন্টেল কোর আই৫-১৪৬০০কেএফ — ৩৮,০০০ টাকা
  • এমএসআই বি৭৬০ গেমিং প্লাস (ডিডিআর৫) — ২২,৫০০ টাকা
  • করসেয়ার ভেনজেন্স আরজিবি ১৬ জিবি ডিডিআর৫-৫২০০ — ২৭,০০০ টাকা
  • ১ টিবি এনভিএমই এসএসডি — স্যামসাং ৯৯০ প্রো ১৯,০০০ টাকা থেকে

প্রিমিয়াম এসএসডিসহ প্রায় ১,০৬,০০০ টাকা, সাশ্রয়ী ১ টিবি ড্রাইভে ৯০,০০০-এর নিচে।

এখানে নীতিটি প্রয়োগ করলে সিদ্ধান্তটি অস্বস্তিকর: গেমিং যন্ত্রে সীমাবদ্ধতা প্রায় সব সময়ই গ্রাফিকস কার্ড, কাজেই প্রসেসরের চেয়ে কার্ডেরই বাজেটের বড় অংশ পাওয়া উচিত। যে বিল্ডে সিপিইউতে ৩৮,০০০ টাকা খরচ করে বাকি যা থাকে তা কার্ডে যায়, গেমিংয়ের জন্য তার অনুপাত উল্টো — বেঞ্চমার্কে ভালো করলেও। প্রসেসরের কাজ হলো নিজে বাধা না হওয়া; তার পরে প্রসেসরে দেওয়া বাড়তি টাকা মানে ফ্রেমে না দেওয়া টাকা।

কেএফ উপসর্গটিও জানা দরকার: এর মানে ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিকস নেই। গেমিং বিল্ডের জন্য ঠিকই আছে, তবে কার্ড নষ্ট হলে সমস্যা — কারণ বদলি কার্ডের অপেক্ষায় থাকা দিনগুলোতে যন্ত্রটি কিছুই দেখাবে না।

ক্রিয়েটর — জিপিইউ ছাড়া প্রায় ১,৫০,০০০ টাকা

  • এএমডি রাইজেন ৯ ৭৯৫০এক্স — ৪৭,৫০০ টাকা (১৬ কোর)
  • এমএসআই বি৬৫০এম গেমিং ওয়াই-ফাই (ডিডিআর৫) — ১৯,০০০ টাকা
  • জি.স্কিল ট্রাইডেন্ট জেড৫ নিও আরজিবি ৩২ জিবি ডিডিআর৫-৬০০০ — ৬৪,০০০ টাকা
  • ১ টিবি স্যামসাং ৯৯০ প্রো — ১৯,০০০ টাকা

প্রায় ১,৫০,০০০ টাকা। ইন্টেলের বিকল্প — ৫০,০০০ টাকার ১৪তম প্রজন্মের কোর আই৭ বা ৩৬,০০০ টাকার কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে — সম্পাদনার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী; রেন্ডারিং ও কম্পাইলিংয়ে ৭৯৫০এক্স জেতে।

কোরের জন্য টাকা দেওয়া কেবল এই বিল্ডেই সঠিক, কারণ রেন্ডারিং, কম্পাইলিং ও এনকোডিং সত্যিই সবকটি কোর ব্যবহার করে। মেমোরির খরচও এখানেই যুক্তিসংগত: ভিডিওর কাজে ৩২ জিবি সর্বনিম্ন, আর র‍্যাম ফুরিয়ে গেলে টাইমলাইন ধীর হয় না, থেমে যায়।

এই হিসাব যে দুটি জিনিস আড়াল করে

পাওয়ার সাপ্লাই, যেখানে কারোরই সাশ্রয় করা উচিত নয়। কেসিংয়ের সঙ্গে এটিও ওপরের হিসাবের বাইরে, আর এটিই একমাত্র যন্ত্রাংশ যার বিকল হওয়া অন্যদেরও নষ্ট করতে পারে। চাপের মুখে স্থির ভোল্টেজ ধরে রাখতে না পারা সস্তা ইউনিট এমন ক্র্যাশ ঘটায় যা দেখে মনে হয় মেমোরি নষ্ট বা ড্রাইভ বিকল — আর মানুষ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভুল যন্ত্রাংশ বদলাতে থাকেন। পরিচিত ব্র্যান্ডের জন্য ৬,০০০–৯,০০০ টাকা রাখুন, আপনার কার্ডের চাহিদামতো ওয়াট আর কিছু বাড়তি সহ — নিজের রেটিংয়ের ৬০ শতাংশে চলা সাপ্লাই ৯৫ শতাংশে চলা সাপ্লাইয়ের চেয়ে বেশি টেকে আর কম শব্দ করে।

আপগ্রেডের পথ, অর্থাৎ সস্তা বোর্ডের আসল দাম। প্রসেসর বসে নির্দিষ্ট একটি সকেটে, আর নির্মাতারা এগিয়ে যাওয়ার আগে প্রতিটি সকেটের আয়ু সীমিত। আয়ু ফুরিয়ে আসা সকেটের বোর্ডে ৩,০০০ টাকা বাঁচানোর মানে, পরের প্রসেসর আপগ্রেডটি আর প্রসেসর নয় — তা প্রসেসর, বোর্ড আর সম্ভবত নতুন মেমোরি, কারণ নতুন প্ল্যাটফর্মে এগুলো একসঙ্গেই লাগে। জিজ্ঞেস করুন বোর্ডটি কোন সকেটের আর সেটির জন্য নতুন কিছু এখনো বেরোচ্ছে কি না। দোকানের সবচেয়ে সস্তা প্রশ্ন এটি, আর না করলে সবচেয়ে দামি।

ওপরের প্রতিটি হিসাবে কেসিং ও সাপ্লাই যোগ করে নিন: সত্যিকারের একটি যন্ত্রের দাম উল্লিখিত অঙ্কের চেয়ে ১০,০০০–১৫,০০০ টাকা বেশি — আর যে গাইড এটি বলে না, সে কম্পিউটারের নয়, যন্ত্রাংশের তালিকার দাম বলছে।

কোথায় খরচ, কোথায় সাশ্রয়

খরচ করুন এসএসডিতে আর যথেষ্ট র‍্যামে; দুটিই প্রতিদিন টের পাওয়া যায়, আর এ বছর দুটিই ছিল অস্থির। পাওয়ার সাপ্লাইয়ে একবারই খরচ করুন। সাশ্রয় করুন কেসিংয়ে — তবে যুক্তির মধ্যে, কারণ কেসিং যে একটিমাত্র কাজ করে তা হলো বাতাস চলাচল — আর আরজিবিতে পুরোপুরি।

আর পারলে এ সপ্তাহেই কিনুন। বাজার শান্ত, আর ২০২৬ সালের সঞ্চয়-যন্ত্রাংশের ধরন বলছে শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

সূত্র: Dhaka retail quotes, platform socket roadmaps, system building practice

লিখেছেন

Miraj S

টেক বিডিতে প্রযুক্তির ব্যবসা নিয়ে লেখেন মিরাজ এস — বাংলাদেশের প্রযুক্তি অর্থনীতি, ই-কমার্স, টেলিকম, যন্ত্রাংশের দাম আর সেগুলোর পেছনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ঢাকার বাজারদরের নিয়মিত হিসাব তিনিই রাখেন—অর্থাৎ ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গেই তা তাঁকে জানানো হয়।