প্রযুক্তি

ইউএনডিপির হয়ে পূর্ব তিমুরের জাতীয় পরিকল্পনা ব্যবস্থা গড়বে ঢাকার প্রতিষ্ঠান—চুক্তিটি বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানি নিয়ে যা বলে

পূর্ব তিমুরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় যে ব্যবস্থায় ২০১১–২০৩০ উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি বিনিয়োগ, বাজেট ও এসডিজি অঙ্গীকারের অগ্রগতি দেখবে, সেই এসপিআইএমআইএস গড়ার ইউএনডিপি চুক্তি পেয়েছে ড্রিম৭১ বাংলাদেশ। ছয় মাসে সরবরাহ, প্রতিষ্ঠানটির ১৮তম ইউএনডিপি কাজ। সরকারি প্রযুক্তি কেন বাংলাদেশি রপ্তানি হয়ে উঠছে।

ইউএনডিপির হয়ে পূর্ব তিমুরের জাতীয় পরিকল্পনা ব্যবস্থা গড়বে ঢাকার প্রতিষ্ঠান—চুক্তিটি বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানি নিয়ে যা বলে

বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্প সাধারণত রপ্তানি করে চুপচাপ—বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য আউটসোর্স করা কোড, সরবরাহে কদাচিৎ কোনো দেশের নাম। এটিতে নাম আছে। ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অধীনে দায়িত্ব পেয়েছে পূর্ব তিমুরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জন্য স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এসপিআইএমআইএস) তৈরি ও বাস্তবায়নের: যে সফটওয়্যার দিয়ে দেশটি তার জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি বিনিয়োগ, বাজেট, কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার একটি প্ল্যাটফর্মে ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ করবে।

ব্যবস্থাটিকে যা করতে হবে

এসপিআইএমআইএস একটি ওয়েবভিত্তিক তথ্যব্যবস্থা, কাজের তালিকা দীর্ঘ। এটিকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে পূর্ব তিমুরের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০১১–২০৩০ ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০-এর অগ্রগতি, সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও আসিয়ান-সংক্রান্ত অঙ্গীকার। এর নিচে এটি সরকারি সংস্থাগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদন করে, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে, আর ফল দেখায় ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ডে: সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প, প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়, উন্নয়ন সূচকের গতি, একেকটি কর্মসূচির ফলাফল। কৌশলগত পরিকল্পনা, সরকারি কর্মসূচি, খাতভিত্তিক পরিকল্পনা, এসডিজি ও একটি সমন্বিত সারচিত্রের জন্য আলাদা ড্যাশবোর্ডের পরিকল্পনা আছে। লক্ষ্য ছয় মাসের মধ্যে সরবরাহ।

ঢাকার প্রতিষ্ঠান কেন

ড্রিম৭১-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবির কাজটি পাওয়াকে গর্বের বলেছেন এবং সযত্নে একে শুধু সফটওয়্যার প্রকল্পের বেশি বলে বর্ণনা করেছেন—একটি দেশের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনাকে আরও তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার উদ্যোগ। আরও বেশি ইঙ্গিতবহ তথ্যটি জয়ের পেছনের রেকর্ড: প্রতিষ্ঠানটি পূর্ব তিমুরে ইউএনডিপির সঙ্গে ইতিমধ্যে তিনটি ব্যবস্থা গড়েছে আর মোট ১৮টি ইউএনডিপি কাজের অভিজ্ঞতা রাখে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কেনে রেফারেন্সে, আর একই মন্ত্রণালয়ের ভেতরে সরবরাহের ইতিহাস থাকা প্রতিষ্ঠানকে দামে বা ঝুঁকিতে হারানো কঠিন।

বৃহত্তর ধরন

সরকারি প্রযুক্তি—পরিকল্পনা ব্যবস্থা, বাজেট ট্র্যাকার, ডিজিটাল রেজিস্ট্রি, পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড—এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক সুবিধা। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির অধীনে নিজেদের সরকারের জন্য তারা পনেরো বছর ধরে ঠিক এই ব্যবস্থাগুলোই গড়েছে, প্রায়ই দাতাদের স্পেসিফিকেশনে, আর ফল হলো একদল কোম্পানি, যারা জানে মন্ত্রণালয় আসলে কীভাবে কাজ করে—একই রকম সীমাবদ্ধতার দেশে, ইউরোপীয় বা সিঙ্গাপুরি পরামর্শকের খরচের একাংশে। পূর্ব তিমুর, ভুটান, নেপাল, আফ্রিকার কয়েকটি রাষ্ট্র ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলো স্বাভাবিক বাজার, জাতিসংঘের সংস্থাগুলো স্বাভাবিক পথ।

নজর রাখার মতো

পুরো সরকার জুড়ে থাকা একটি ব্যবস্থার জন্য ছয় মাস আগ্রাসী সময়সীমা, আর সরকারি প্রকল্প পরিধি বাড়ার জন্য কুখ্যাত। সাফল্যের মাপকাঠি উদ্বোধন নয়, বরং দুই বছর পরও পূর্ব তিমুরের কর্মকর্তারা এতে তথ্য ঢোকান কি না। যদি ঢোকান, রেফারেন্সটির দাম চুক্তির চেয়ে বেশি।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।