হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি অপরিবর্তিত। অ্যাকাউন্টগুলো আটকে গিয়েছিল ই-কমার্স ধসের সময়, আর স্বয়ংক্রিয় জালিয়াতি-প্রতিরোধের যে বিনিময়টি এখানে দেখা যায় তা আজও একই। অ্যাকাউন্ট আটকে গেলে কী করবেন, তা মূল প্রতিবেদনের নিচে।
রিফান্ড পদ্ধতির অপব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে স্থিতি 'হোল্ড' হওয়া 'নগদ' অ্যাকাউন্টের মধ্যে প্রথম দফায় সাত শতাধিক অ্যাকাউন্ট স্থিতি রিঅ্যাক্টিভেট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাই ও নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অ্যাকাউন্টগুলো আবারও সচল করল 'নগদ'।
সোমবার ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা প্ল্যাটফর্মটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, "সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম সংশ্লিষ্ট অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেনদেনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে গ্রাহকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের জন্য 'নগদ'-এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বলে কিছু অ্যাকাউন্টের স্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'হোল্ড' হয়ে যায়।"

'নগদ' কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। পরবর্তীকালে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও নিরবচ্ছিন্ন নিরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সন্তোষজনক ফলাফলের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পুনঃসচল হতে শুরু করেছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থিতি হোল্ড হওয়া অ্যাকাউন্টগুলো।
একইভাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সন্তোষজনক ফলাফলের ভিত্তিতে বাকি অ্যাকাউন্টগুলোর স্থিতি পুনঃসচল করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
আরও বলা হয়, "ইতোমধ্যে পুনরায় চালু হওয়া অ্যাকাউন্টগুলো আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে সব ধরনের লেনদেন করাসহ 'নগদ'-এর দারুণ সব সেবা উপভোগ করতে পারছেন গ্রাহকেরা।"
বলে রাখা ভালো, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ উদ্বোধনের পর থেকে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা 'নগদ' সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুলে আনতে কাজ করছে। গত আড়াই বছরে এর গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটিতে। একইসঙ্গে দৈনিক লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
প্রেক্ষাপট
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ইভ্যালিসহ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ার সময় মোবাইল আর্থিক সেবাগুলো এক অদ্ভুত চাপে পড়ে: ক্রেতারা অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য না পেয়ে "রিফান্ড" চাইছিলেন, আর কিছু অ্যাকাউন্টে একই টাকা বারবার ফেরত নেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছিল। নগদের সিস্টেম এমন লেনদেনের ধরন ধরে অ্যাকাউন্ট আপনাআপনি "হোল্ড" করে, যা বিএফআইইউকে জানাতে হয়। সাত শতাধিক অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়া মানে যাচাইয়ে সেগুলো নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে।
এরপর যা হলো
হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। ওই মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে বিকাশ, নগদসহ সব এমএফএস বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা স্থগিত করে, আর ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এ অগ্রিম টাকা পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত এসক্রোতে রাখার নিয়ম আসে। ডাক বিভাগের সেবা হিসেবে চালু হওয়া নগদ পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এমএফএস হয়ে ওঠে; ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। আপনার অ্যাকাউন্ট কখনো হোল্ড হলে প্রথম ধাপ একই: ১৬১৬৭ নম্বরে কল করে কারণ জানুন এবং পরিচয় ও লেনদেনের প্রমাণ জমা দিন; যাচাই শেষে অ্যাকাউন্ট ফেরত আসে।
যে বিনিময়টি এখানে দেখা যাচ্ছে
বিজ্ঞপ্তির ভাষা অনুযায়ী অ্যাকাউন্টগুলো আটকেছিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে—মানুষের সিদ্ধান্তে নয়, ব্যবস্থার শনাক্তকরণে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর ধসের সময় রিফান্ডের নামে অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছিল, আর সেটিই নিয়মটি চালু করে দেয়।
এ ধরনের নিয়ম থাকা দরকার; এগুলো না থাকলে চুরি যাওয়া টাকা মুহূর্তেই সরে যায়। কিন্তু প্রতিটি স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণেরই একটি ভুলের হার থাকে, আর সেই ভুলের দাম দেন এমন একজন গ্রাহক, যিনি কিছুই করেননি—যাঁর অ্যাকাউন্ট হঠাৎ বন্ধ, কারণ তিনি ভুল সময়ে ভুল প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটা করেছিলেন।
লক্ষ করার মতো হলো, বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও বলা নেই যাচাই কত দিনে শেষ হবে। “সন্তোষজনক ফলাফলের ভিত্তিতে” আর “অতি অল্প সময়ের মধ্যে”—এগুলো প্রকাশিত কোনো মানদণ্ড নয়। অর্থাৎ গ্রাহকের জন্য আটকে থাকার সময়টি অনির্দিষ্ট।
অ্যাকাউন্ট আটকে গেলে
- লিখিতভাবে কারণ জানতে চান। সেবাদাতার অ্যাপ বা হেল্পলাইনে অভিযোগ নথিভুক্ত করে অভিযোগ নম্বরটি রাখুন। পরের প্রতিটি ধাপে ওই নম্বরটিই আপনার একমাত্র প্রমাণ।
- লেনদেনের নথি গুছিয়ে রাখুন—কোন প্ল্যাটফর্মে, কবে, কত টাকা। হোল্ড সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের কারণে হয়, আর সেগুলোর ব্যাখ্যা দিতে পারলে যাচাই দ্রুত হয়।
- সমাধান না হলে উপরে যান। মোবাইল আর্থিক সেবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে চলে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ বিভাগে অভিযোগ করা যায়।
- টাকা অন্য কোথাও সরানোর চেষ্টা করবেন না। আটকে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে দ্রুত টাকা বের করার চেষ্টা ঠিক সেই আচরণ, যা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা খোঁজে।
যে ধসের সময় এই হোল্ডগুলো হয়েছিল, তার হিসাব আছে টাকাগুলো সব গেল কই লেখাটিতে।




