ইমদাদুল মাগফুর। পেশায় একজন চিকিৎসক। তাঁর কর্মস্থল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল দরিল্লা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি আইসিটির ফোকাল পারসনও।
ইমদাদুলের স্ত্রী নুসরাত শাহরিন গাইনি বিষয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন চিকিৎসক। তিনি কর্মরত রয়েছেন উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের আলট্রাসনোগ্রামও করেন।
চিকিৎসকেরা গ্রামে থাকতে চান না বলে একটা বদনাম রয়েছে। কিন্তু ওই চিকিৎসক দম্পতি ইউনিয়ন পর্যায়ের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন। শুধু তা–ই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও তাঁরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
ইমদাদুল ‘মাই ডক্টর অ্যাপ’ নামে চিকিৎসাবিষয়ক অ্যাপ উদ্ভাবন করেছেন। আজ বুধবার উপজেলার দাতারাটিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে অ্যাপটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগী সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে চিকিৎকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর সমস্যাগুলো জানিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাপে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর যুক্ত করা হলে রোগীর নাম–ঠিকানা চলে আসে। পরে রোগ সম্পর্কে রোগী যাবতীয় তথ্য প্রদানের পর অ্যাপে রোগীর নামের পাশে তা সংরক্ষিত হয়। পরে চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য, যেমন ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ইত্যাদি তথ্যও সংরক্ষিত হয়। এসব তথ্য আদান–প্রদানের পর চিকিৎসক ইমদাদুল ব্যবস্থাপত্র দেন। ওই ব্যবস্থাপত্রটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) সরকারি ট্যাবে গিয়ে সংরক্ষিত হয়। পরে ওই রোগী যতবার তাঁর রোগ সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন, ততবারই পূর্বের দেওয়া তথ্য চিকিৎসকের স্মার্ট ফোনে ভেসে ওঠে।
চিকিৎসক ইমদাদুল বলেন, ‘আমি সদরে বা একটি গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীর চিকিৎসা আমার উদ্ভাবিত মাই ডক্টর অ্যাপসের মাধ্যমে করতে পারি। এতে রোগীর আসা–যাওয়া এবং লাইনে দাঁড়ানো বাবদ প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় ও হাজারখানেক টাকা সাশ্রয় হয়। এ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ পেতে তাঁর কোনো সমস্যা হয় না।’ রোগীদের কথা চিন্তাভাবনা করে তিনি ‘মাই ডক্টর অ্যাপসটি’ উদ্ভাবন করেছেন। অ্যাপসটির আরও উন্নয়নের চেষ্টা করছেন।
নান্দাইল সদর ইউনিয়নের দাতারাটিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে অ্যাপের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুর রশীদ, নান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) মো. আনোয়ারুল হক, কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি মো. জিয়াউল হক, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান, এসআইটি আহসান উদ্দিন আকন্দ, সিএইচসিপি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
অন্যদিকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দরিল্লা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ছয়টি কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন শতাধিক রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন ইমদাদুল মাগফুর।
মাহমুদুর রশীদ বলেন, ডিজিটাল অ্যাপ পদ্ধতির মাধ্যমে একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা এখন সম্ভব।




