বাংলাদেশ

কারওয়ান বাজারে আরও একটি সফটওয়্যার পার্ক

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ বলেন, আইটি সেক্টরে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে জায়গার জন্য চাহিদা পূরণ এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাওরান বাজারে আরও একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হবে।

কারওয়ান বাজারে আরও একটি সফটওয়্যার পার্ক

হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি অপরিবর্তিত। ঘোষণার সংখ্যাগুলো পাশাপাশি রাখলে পার্ক দিয়ে আসলে কী হয় আর কী হয় না, তা স্পষ্ট হয়। হিসাবটি মূল প্রতিবেদনের নিচে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আরও একটি সফটওয়্যার পার্ক স্থাপন করা হবে। একই স্থানে থাকা আগের পার্কটির পাশেই নতুন পার্কের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জমি হস্তান্তর করেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভিশন ২০২১ টাওয়ার-১ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে (সাবেক জনতা টাওয়ার) নতুন পার্কের জমি বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দকৃত জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়।
 তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ বলেন, আইটি সেক্টরে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে জায়গার জন্য চাহিদা পূরণ এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাওরান বাজারে আরও একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হবে। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন পার্কে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গফুট জায়গাবিশিষ্ট ১২ তলা একটি গ্রিন বিল্ডিং তৈরি হবে।

রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জরাজীর্ণ ভবনটির সংস্কার করে একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করে, যা ২০১৫ সালে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে পার্কটিতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া এখানে ১৫টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, দেশের আইটি সেক্টরের বিকাশের স্বার্থে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজউক ইতিমধ্যে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের দক্ষিণ পাশসংলগ্ন অব্যবহৃত শূন্য দশমিক ৪৭ একর জমিতে ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার-২ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ নির্মাণের জন্য হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দ দিয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের ভবন নির্মাণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আইটি কোম্পানি এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে। ফলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক এ এন এম সফিকুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিজুল ইসলাম, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক সৈয়দ জহুরুল ইসলামসহ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, রাজউক এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রেক্ষাপট

কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ার ছিল দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ব্যর্থ চেষ্টার ঠিকানা—১৯৯৯ সালে ঘোষণা, বছরের পর বছর অব্যবহৃত। ২০১৫ সালে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ভবনটি সংস্কার করে চালু করলে তা দ্রুত ভরে যায়; দেশের বড় সফটওয়্যার ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের অনেকের অফিস সেখানে, আর নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা ছিল না। পাশের জমিতে দ্বিতীয় ভবনের ঘোষণা সেই চাহিদারই উত্তর।

এরপর যা হলো

হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। জমি হস্তান্তরের পর নতুন ভবনের নকশা ও দরপত্রে সময় লেগেছে; কারওয়ান বাজারের সফটওয়্যার পার্ক এখনো মূলত জনতা টাওয়ার ঘিরেই। এর মধ্যে সরকারের হাইটেক পার্ক কর্মসূচি অন্যত্র এগিয়েছে: যশোর, সিলেট ও রাজশাহীর পার্ক চালু হয়েছে, আর জেলা পর্যায়ে আরও কয়েকটি নির্মাণাধীন। বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানি ২০২১ সালের প্রায় ১৪০ কোটি ডলার থেকে বেড়েছে, তবে খাতটির বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকানা এখনো ঢাকার কারওয়ান বাজার, বনানী আর গুলশানের ভাড়া করা অফিস—যে সমস্যা পার্কটি সমাধান করতে চেয়েছিল।

সংখ্যাগুলো পাশাপাশি রাখলে

প্রতিবেদনেই হিসাবটি আছে। টাওয়ার-১ চালু হয় ২০১৫ সালে; ছয় বছর পর সেখানে ১৯টি প্রতিষ্ঠান, প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আর ১৫টি স্টার্টআপ। টাওয়ার-২ হবে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের, খরচ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ পুরোপুরি ভরে গেলেও নতুন ভবনটির বাস্তব সীমা কয়েক হাজার ডেস্ক। দেশের আইটি ও আইটিইএস খাতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা লাখের ঘরে। একটি পার্ক তাই কর্মসংস্থান কর্মসূচি নয়, আর সেভাবে পড়লে ফল হতাশাজনকই হবে।

তাহলে পার্ক কী সমস্যার সমাধান

পার্কের আসল কাজ সস্তা ভাড়া নয়; বিশ্বাসযোগ্যতা। ছোট একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান বিদেশি ক্লায়েন্ট পেতে গেলে ক্লায়েন্টের নিরীক্ষক জানতে চান—বিদ্যুৎ গেলে কী হয়, ইন্টারনেট একটিই লাইন কি না, ভবনে ঢোকা নিয়ন্ত্রিত কি না, আগুন লাগলে কী ব্যবস্থা। ঢাকার সাধারণ বাণিজ্যিক ভবনে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন।

একটি পার্ক ওই উত্তরগুলো একবারে, সবার জন্য তৈরি করে দেয়। এটি জমি বা ভর্তুকির গল্প নয়—অবকাঠামোর গল্প, যা একা কোনো ছোট প্রতিষ্ঠান বহন করতে পারে না।

যে প্রশ্নটি করা উচিত

কাজেই নতুন ভবন নিয়ে জিজ্ঞাস্য বাজেট বা আয়তন নয়। জিজ্ঞাস্য হলো হস্তান্তরের এক বছর পর কত শতাংশ জায়গা সত্যিই ভাড়া হয়েছে, ভাড়াটেরা নতুন প্রতিষ্ঠান না কি অন্য ভবন থেকে সরে আসা পুরোনো প্রতিষ্ঠান, আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও একাধিক ইন্টারনেট সংযোগের প্রতিশ্রুতি রাখা গেছে কি না।

টাওয়ার-১–এর ছয় বছরে ১৯টি প্রতিষ্ঠান—এই একটিই সংখ্যা পরেরবারের প্রত্যাশা ঠিক করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

দক্ষ জনবল তৈরির দিকটি আছে ভিএলএসআই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নিয়ে লেখাটিতে, আর কাজের ধরন বদলের প্রশ্নটি বিপিও সামিট নিয়ে লেখাটিতে।

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।