হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি অপরিবর্তিত। ছয় দফার মধ্যে একটি দাবি বাকি সবগুলোর চেয়ে আলাদা, আর সেটিই এখনো অমীমাংসিত—এ দেশে এবং বিশ্বজুড়েই। কোনটি ও কেন, তা মূল প্রতিবেদনের নিচে।
ডিআরডিইউর সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাড্ডায় একজন চালকের নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা উল্লেখ করে বেলাল আহমেদ বলেন, 'বাড্ডার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। হয়রানির জন্য একজন চালক তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনাও যদি পুলিশকে নাড়া না দেয়, তাহলে কি আত্মহুতি দিলে তাদের বিবেক নাড়া দেবে?'
তিনি বলেন, 'গাড়ি কোথাও ব্রেক করলে সেখানেই ধরে ফেলে ট্রাফিক পুলিশ। সরকার আমাদের জায়গা নির্ধারণ করে দিক। তাহলে আমরা যত্রতত্র দাঁড়াব না। আমাদের শহর অনুযায়ী যতটুকু জায়গা দেওয়া যায়, ততটুকু দেওয়া হোক। যদি ১০টা স্পট দেওয়া হয়, আমরা সেই ১০টাতেই দাঁড়াব।
'সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা কয়েক দফা আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। আমরা ষষ্ঠবারের মতো আন্দোলনে যাচ্ছি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব। কোনো ভায়োলেন্সে বিশ্বাসী না।'
বিক্ষোভকারীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে রাইড শেয়ারিং কর্মীদের স্বীকৃতি এবং সব ধরনের রাইডে ১০ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ।
রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের ড্রাইভাররা সব ধরনের পুলিশি হয়রানির অবসান দাবি করেন এবং কর্তৃপক্ষকে ভুয়া অভিযোগ বা অজুহাতে চালকদের বেকার বসিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকতে বলে।
বিক্ষোভকারীরা ঢাকা ও সিলেটে রাইড শেয়ারিং যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং স্পেস এবং সমস্ত নিবন্ধিত রাইড শেয়ারিং যানবাহনে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও গতবছর গ্রহণ করা সব এআইটি এনলিস্টকৃত যানবাহন মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এর আগে সোমবার রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় একটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের একজন মোটরসাইকেল চালক ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেন। তার দাবি, পুলিশের হয়রানিতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে এ কাজ করেছেন তিনি। পরে ওই চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ওই চালককে থামিয়ে থামিয়ে ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য গাড়ির কাগজপত্র চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুলিশের সঙ্গে ওই চালক বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে নিজের তার বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন।
এরপর যা হলো
হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। কর্মবিরতি ২৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার হয়; ঢাকায় সেদিন অ্যাপে বাইক পাওয়া কঠিন ছিল, আর পুলিশ "হয়রানি" খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়, নিয়ম বদলায়নি। ছয় দফার মূল দাবিগুলো এরপর প্রতিটি আন্দোলনে ফিরে এসেছে: চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, প্ল্যাটফর্মের কমিশনের সীমা, নির্ধারিত অপেক্ষার জায়গা, আর রাইড শেয়ারিং যানে অগ্রিম আয়কর তুলে নেওয়া। কোনোটিই পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ২০২২ সালে প্ল্যাটফর্মগুলো কিছু রাইডে কমিশন কমায়, বিআরটিএ আরও গাড়ি তালিকাভুক্ত করে, কিন্তু বাড্ডার আগুনের কারণ যে অপেক্ষার জায়গার সমস্যা, তার সমাধান হয়নি; চালকেরা এখনো বিমা বা ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা ছাড়াই কাজ করেন। মাঝে বড় বদল একটিই: যাত্রীদের একটি বড় অংশ অ্যাপ এড়িয়ে "খ্যাপে" যাওয়া শুরু করায় প্ল্যাটফর্ম ও চালক দুই পক্ষই আয় হারিয়েছে।
ছয় দফার মধ্যে যেটি আলাদা
দাবিগুলোর বেশির ভাগই প্রশাসনিক: নির্দিষ্ট পার্কিং, অগ্রিম আয়কর বাতিল, হয়রানি বন্ধ। এগুলোর উত্তর দিতে পারে পুলিশ, সিটি করপোরেশন বা রাজস্ব বোর্ড—চাইলে এক দিনেই।
একটি দাবি আলাদা: রাইড শেয়ারিং কর্মীদের স্বীকৃতি। এটি কোনো দপ্তরের অনুমতির প্রশ্ন নয়; এটি আইনি শ্রেণিবিন্যাসের প্রশ্ন। চালক কি অ্যাপের কর্মী, না কি অ্যাপ ব্যবহার করা স্বাধীন ব্যবসায়ী?
উত্তরটি সবকিছু বদলে দেয়। কর্মী হলে ন্যূনতম আয়, কর্মঘণ্টার সীমা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও অবসান-সংক্রান্ত সুরক্ষার প্রশ্ন আসে। স্বাধীন ব্যবসায়ী হলে এর কোনোটিই আসে না, আর কমিশনের হার নিছক দুই পক্ষের চুক্তি।
অন্য দেশে প্রশ্নটির ফয়সালা যেভাবে হয়েছে
এটি বাংলাদেশের একার প্রশ্ন নয়, আর বিভিন্ন দেশে ফল ভিন্ন হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত ২০২১ সালে রায় দেন, সেখানকার চালকেরা সম্পূর্ণ স্বাধীন ঠিকাদার নন এবং ন্যূনতম মজুরিসহ কিছু অধিকার পাবেন। ইউরোপে প্ল্যাটফর্ম শ্রম নিয়ে আলাদা বিধি হয়েছে, যেখানে শ্রেণিবিন্যাসের অনুমান কোন দিকে যাবে তা নির্ধারিত। যুক্তরাষ্ট্রে ফল অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা, কোথাও গণভোটে ঠিক হয়েছে।
সাধারণ সূত্রটি হলো, প্ল্যাটফর্ম কতটা নিয়ন্ত্রণ করে তা দিয়েই শ্রেণি নির্ধারিত হয়—ভাড়া কে ঠিক করে, কাজ প্রত্যাখ্যানের ফল কী, অ্যাকাউন্ট বন্ধের নিয়ম কী। যে প্ল্যাটফর্ম এগুলো ঠিক করে দেয়, সে কার্যত নিয়োগদাতার মতো আচরণ করে।
এখানে প্রশ্নটি কোথায় দাঁড়িয়ে
বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং চলে ২০১৭ সালের নীতিমালার অধীনে, যা সেবাটিকে নিয়ন্ত্রণ করে—চালককে নয়। কমিশনের হারে কোনো সীমা নেই, আর চালকের শ্রেণি নিয়ে কোনো আদালতের নজিরও নেই, কারণ প্রশ্নটি সেভাবে আদালতে ওঠেনি।
এ কারণেই আন্দোলনের ফল সীমিত থাকে। কর্মবিরতি দিয়ে পার্কিংয়ের জায়গা বা একটি কর ছাড় আদায় করা সম্ভব; শ্রেণিবিন্যাস আদায় করা সম্ভব নয়, কারণ সেটি দেওয়ার এখতিয়ার কোনো দপ্তরের নেই—লাগে আইন বা আদালত।
পেশার আরেকটি দিক আছে বাইকের ছাড় ও ইভ্যালির পতন নিয়ে লেখাটিতে।




