হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি অপরিবর্তিত। প্রতিবেদনেই সেই অচলাবস্থাটি লেখা আছে, যা এরপর বারবার ফিরে এসেছে: আদেশ কার্যকর করতে হলে একটি তালিকা লাগে, আর তালিকাটি কারও হাতে নেই। কেন এটি গঠনগত সমস্যা, তা মূল প্রতিবেদনের নিচে।
অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে আরও দুই সপ্তাহ সময় পেল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বিটিআরসির পক্ষে সময় চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এক রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওইদিন আদালতে আদেশের কপি হাতে পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে, তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার জারিন রহমান ও অ্যাডভোকেট রাশিদা চৌধুরী নীলু। বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন।
বিটিআরসি আদালতকে জানিয়েছে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সব নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ তালিকা দেওয়া হয়নি। তালিকা হাতে পেলেই অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ জন্য ২ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন বলে আবেদন করলে, আদাল তা মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। ওইদিন এক সপ্তাহের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলেছিলেন আদালত।
প্রেক্ষাপট
অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী প্রতিটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন নিতে হয়; ২০২১ সালের মধ্যে কয়েক হাজার আবেদনের বিপরীতে নিবন্ধন পেয়েছিল দেড় শতাধিক। রিটটি করা হয়েছিল অনিবন্ধিত পোর্টালের "গুজব ও অপপ্রচার" বন্ধের যুক্তিতে, আর হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল নিবন্ধনহীন সব পোর্টাল বন্ধ করার।
এরপর যা হলো
হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। সময় বাড়ানোর পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকা ধরে বিটিআরসি ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রথম দফায় ১৭৯টি অনিবন্ধিত পোর্টাল বন্ধ করে, পরে আরও কয়েক দফায় আরও কিছু। কিন্তু "সব অনিবন্ধিত পোর্টাল" বন্ধ করা কার্যত সম্ভব হয়নি—নতুন ডোমেইন খুলতে এক দিন লাগে, আর নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিজেই ছিল বছরের পর বছরের অপেক্ষা। সাংবাদিক সংগঠনগুলো তখনই সতর্ক করেছিল যে নিবন্ধনকে বন্ধ করার হাতিয়ার বানালে তা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপরও প্রয়োগ হবে, আর পরের বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি নিবন্ধিত পোর্টালও বন্ধ হয়। ২০২৪ সালের সরকার বদলের পর নীতিমালা ও নিবন্ধন ব্যবস্থা পর্যালোচনার আওতায় আসে।
যে অচলাবস্থাটি প্রতিবেদনেই লেখা আছে
ঘটনাক্রমটি লক্ষ করার মতো। আদালত অনিবন্ধিত পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিটিআরসির, আর বিটিআরসি আদালতকে জানিয়েছে তারা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত পোর্টালের তালিকা চেয়েছে—এবং তালিকাটি পায়নি।
অর্থাৎ আদেশটি কার্যকর করার মতো অবস্থায় ছিল না, কারণ “অনিবন্ধিত” কারা তা নির্ধারণের নথিই তৈরি ছিল না।
কেন এটি কেবল দেরির প্রশ্ন নয়
নিবন্ধনভিত্তিক যেকোনো ব্যবস্থায় তিনটি জিনিস লাগে: আবেদন করার সুযোগ, আবেদন নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়, আর কে নিবন্ধিত তার হালনাগাদ প্রকাশ্য তালিকা। তৃতীয়টি না থাকলে “অনিবন্ধিত” কথাটির অর্থ বদলে যায়—তখন এর মানে দাঁড়ায় “এখনো তালিকায় ওঠেনি”, যার মধ্যে পড়ে যান সেইসব প্রকাশকও, যাঁরা সময়মতো আবেদন করে বসে আছেন।
এই পার্থক্যটি কাগুজে নয়। নিয়ম ভাঙার জন্য একটি সাইট বন্ধ করা আর কাগজ প্রক্রিয়াধীন থাকার জন্য বন্ধ করা—দুটি আলাদা জিনিস, কিন্তু প্রয়োগের দিক থেকে দেখতে একই রকম। আর যিনি বন্ধ হলেন, তাঁর কাছে কোনটি ঘটেছে তা জানার উপায়ও থাকে না।
যে প্রশ্নগুলো এখনো একই
এরপর বছরের পর বছর একই ধরনের আদেশ, সময় বাড়ানো ও দফায় দফায় বন্ধের উদ্যোগ ফিরে এসেছে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর থাকলে বিষয়টি রুটিন প্রশাসনিক কাজ হয়ে যেত, সেগুলো এখনো একই:
- নিবন্ধিত প্রকাশকদের হালনাগাদ তালিকা কি প্রকাশ্যে, এক জায়গায় পাওয়া যায়?
- আবেদন নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সীমা কত, আর তা পেরোলে কী হয়?
- বন্ধ হওয়ার আগে প্রকাশক কি নোটিশ পান, আর আপত্তি জানানোর পথ কী?
প্রযুক্তিগতভাবে সাইট বন্ধ করা সহজ অংশ। কঠিন অংশ হলো, কোনটি কেন বন্ধ হলো তা পরে দেখানো যায় এমন নথি রাখা।




