হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি যেমন ছিল তেমনই রাখা হয়েছে। “হোম অফিস” ছিল ইভ্যালির শেষের শুরু, আর তার আগে যে সংকেতগুলো এসেছিল সেগুলোই এখন চেনা ছাঁচ। সংকেতগুলো কী ছিল আর আজ অগ্রিম টাকা দেওয়ার আগে কী দেখবেন, তা মূল প্রতিবেদনের নিচে।
শনিবার ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মচারীকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
ইভ্যালির ফেসবুক পেজে পোস্ট করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "ইভালির সমস্ত কার্যক্রম যথারীতি 'হোম অফিস' পদ্ধতির অধীনে চলবে।"

এদিকে, কোম্পানিটি রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত এর প্রধান কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে বলে জাগো নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
এর আগে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির মুখে গত জুনে অফিস বন্ধ করে ইভ্যালি। গত ২২ আগস্ট আবার নিয়মিত অফিস কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার, তাদের ফেসবুক পেজে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিইও এবং চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে ইভালির স্বাভাবিক ডেলিভারি কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "আমাদের প্রধান দুজন সিগনেটরি- সম্মানিত সিইও এবং চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আমরা আমাদের সেলারদের নিয়মিত বিল দিতে পারছি না,"
তাদের ওয়েবসাইটে আসা সব টি১০ এর অর্ডার আপাতত রিকোয়েস্ট হিসেবে জমা থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে আটক করে র্যাব। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের র্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুইজনকেই তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
এরপর যা হলো
হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। "হোম অফিস" আসলে ছিল ইভ্যালির শেষের শুরু। সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয় আর খোলেনি; কর্মীদের বেতন বন্ধ হয়, বেশির ভাগ কর্মী চাকরি ছাড়েন বা ছাঁটাই হন। অক্টোবরে হাইকোর্ট ইভ্যালির পর্ষদ ভেঙে সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের পর্ষদকে দায়িত্ব দেন; সেই পর্ষদ হিসাবের নথি অসম্পূর্ণ আর দায় সম্পদের বহু গুণ পায়। ২০২২ সালের এপ্রিলে জামিনে মুক্ত শামীমা নাসরিন অক্টোবরে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে ইভ্যালি নতুন করে চালু করেন; রাসেল দুই বছরের বেশি কারাগারে থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সব মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তি পান। ২০২১ সালে অগ্রিম টাকা দেওয়া গ্রাহকদের বেশির ভাগ টাকা ফেরত পাননি। স্থায়ী বদলটি নিয়মে: ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর পর অনলাইন অর্ডারের অগ্রিম টাকা এখন পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত পেমেন্ট গেটওয়ের এসক্রোতে থাকে।
পতনের আগের সংকেতগুলো
পেছনে তাকালে ক্রমটি স্পষ্ট, আর সেটি ইভ্যালির একার নয়। প্রথমে লম্বা হয় ডেলিভারির সময়—যে পণ্য সাত দিনে আসার কথা, তা আসে পঁয়তাল্লিশ দিনে। এরপর বিক্রেতারা বলতে শুরু করেন বিল বকেয়া। তারপর গ্রাহকসেবার উত্তর দেওয়া কমে আসে। সবশেষে অফিস বন্ধ হয়, আর তা ঘোষণা করা হয় কাজের নতুন পদ্ধতি হিসেবে।
প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। একসঙ্গে পড়লে এগুলো একটিই জিনিস বলে: প্রতিষ্ঠানটি নতুন গ্রাহকের টাকায় পুরোনো অর্ডার মেটাচ্ছে, আর নতুন টাকার স্রোত থেমে গেছে। যে প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছন্দে চলছে, সে স্বাক্ষরদাতাদের অনুপস্থিতির কথা ফেসবুকে জানায় না।
আজ অগ্রিম টাকা দেওয়ার আগে
নিয়মটি এর মধ্যে বদলেছে। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকার পর অনলাইন অর্ডারের অগ্রিম টাকা পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত পেমেন্ট গেটওয়ের এসক্রোতে থাকার কথা। তবে সুরক্ষাটি স্বয়ংক্রিয় নয়—তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে টাকা দিচ্ছেন তার ওপর।
- কার্ড বা স্বীকৃত গেটওয়ে দিয়ে দিন, বিক্রেতার ব্যক্তিগত বিকাশ বা নগদ নম্বরে নয়। ব্যক্তিগত নম্বরে পাঠানো টাকা এসক্রোর বাইরে, আর ফেরত পাওয়ার কোনো পথ থাকে না।
- অস্বাভাবিক ছাড়কে দামের নয়, মেয়াদের প্রশ্ন ধরুন। বাজারদরের অর্ধেক দামে পণ্য বেচা যায় কেবল সেই সময়টুকু, যতক্ষণ নতুন অর্ডার আসতে থাকে।
- ডেলিভারির প্রতিশ্রুত সময় লিখিত নিন আর তা পেরোলে সঙ্গে সঙ্গে লিখিতভাবে অভিযোগ করুন। দেরির তারিখগুলোই পরে একমাত্র নথি।
- বিক্রেতাদের অভিযোগ খেয়াল করুন। গ্রাহকের আগে বিক্রেতারা টের পান, আর তাঁরা প্রকাশ্যে বলেন।
টাকা কোথায় গিয়েছিল তার হিসাব আছে টাকাগুলো সব গেল কই লেখাটিতে।




