প্রযুক্তি

আজ রাত ১১টায়: আইফোন ১৮ প্রো, ভাঁজ করা ‘আইফোন আলট্রা’, আর নতুন সিইওর অধীনে অ্যাপলের প্রথম বড় অনুষ্ঠান

অ্যাপলের ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ অনুষ্ঠান বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়। প্রত্যাশা: ২ ন্যানোমিটারের এ২০ প্রো চিপে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স, পরিবর্তনশীল অ্যাপারচারের ক্যামেরা, আর—সবচেয়ে বড়—অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন। গুজব কী বলছে, কীভাবে দেখবেন, দাম কত হতে পারে।

আজ রাত ১১টায়: আইফোন ১৮ প্রো, ভাঁজ করা ‘আইফোন আলট্রা’, আর নতুন সিইওর অধীনে অ্যাপলের প্রথম বড় অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠানের আগে লেখা — এটি প্রকাশিত হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর সকালে, ওই সন্ধ্যার অ্যাপল অনুষ্ঠানের পূর্বাভাস হিসেবে; অনুষ্ঠানটি এরপর হয়ে গেছে। কী ঘোষণা হয়েছিল তার নয়, কী প্রত্যাশিত ছিল তার নথি হিসেবেই এটি রাখা হয়েছে — কোন পণ্যগুলো এসেছে তা অ্যাপলের নিউজরুমে আছে। ফোন উন্মোচনের পরের সপ্তাহগুলোতে কী করবেন — পূর্বাভাস পড়া বেশির ভাগ মানুষ আসলে যে সিদ্ধান্তের মুখে থাকেন — তা মূল লেখার পরেই।

অ্যাপলের সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান ঘিরেই পুরো ফোন শিল্প নিজের সময়সূচি সাজায়, আর এ বছরেরটির বাড়তি ওজন আছে: প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের অধীনে এটিই প্রথম বড় পণ্য উন্মোচন। ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ শিরোনামের অনুষ্ঠানটি হবে কুপারটিনোর অ্যাপল পার্কে, বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর, শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।

বাংলাদেশ থেকে দেখবেন যেভাবে

  1. যেকোনো ব্রাউজারে apple.com খুলুন—স্ট্রিম চলে হোমপেজে ও অ্যাপল ইভেন্টস বিভাগে; অ্যাপ লাগে না।
  2. আইফোন, আইপ্যাড বা ম্যাকে অ্যাপল টিভি অ্যাপের ইভেন্টস অংশে অনুষ্ঠানটি দেখা যায়।
  3. ইউটিউব: অ্যাপলের অফিশিয়াল চ্যানেল সরাসরি দেখায়, রিপ্লেও থাকে।

স্ট্রিম সাধারণত দুই ঘণ্টার কিছু কম চলে। রাতেই বাংলাদেশি অপারেটর বা বিক্রেতার কাছে দাম মিলবে না; যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি শুরুর এক-দুই দিনের মধ্যে ঢাকার গ্রে-মার্কেটে দাম আসে।

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স

অ্যাপল কিছুই নিশ্চিত করেনি, তবে প্রতিবেদনগুলো মিলছে ২ ন্যানোমিটার প্রক্রিয়ায় তৈরি এ২০ প্রো চিপে, যার মানে হওয়া উচিত ওয়াটপ্রতি ভালো কর্মক্ষমতা, কম উত্তাপ আর উন্নত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা। প্রো ম্যাক্সে গুঞ্জন পরিবর্তনশীল অ্যাপারচারের মূল ক্যামেরা—একটি যান্ত্রিক আইরিস, যা কত আলো ঢুকবে তা নিয়ন্ত্রণ করে; কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় দশকের পর দশক ধরে আছে, ফোন যা মূলত সফটওয়্যারে নকল করেছে। নকশা গত বছরের কাছাকাছি থাকার কথা, ক্যামেরা মডিউল একটু বড়। দামে অনুমান ঊর্ধ্বমুখী: যন্ত্রাংশ, বিশেষত মেমোরির দাম বাড়ায় আইফোন ১৮ প্রোর শুরুর দাম হতে পারে প্রায় ১ হাজার ১৯৯ ডলার।

ভাঁজ করা ফোনটি

সম্ভাব্য শিরোনাম অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা ফোন, যাকে ব্যাপকভাবে বলা হচ্ছে আইফোন আলট্রা। গুঞ্জনের স্পেসিফিকেশন: বইয়ের মতো ভাঁজ, ভেতরে ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চি পর্দা, বাইরে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ইঞ্চি, এ২০ প্রো চিপ, ১২ গিগাবাইট মেমোরি আর পেছনে দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা—তবে টেলিফটো লেন্স নেই, যা ফ্ল্যাগশিপে অস্বাভাবিক বাদ। স্যামসাং সাত বছর ধরে ভাঁজ করা ফোনে কবজা আর ভাঁজের দাগ নিয়ে কাজ করেছে; অ্যাপলকে দেখাতে হবে, দেরিতে আসা সার্থক করার মতো কিছু তারা ফরম্যাটটি দিয়ে করেছে।

বাকি সব

নতুন অ্যাপল ওয়াচ, হালনাগাদ এয়ারপডস আর কয়েকটি স্মার্ট-হোম পণ্যও প্রত্যাশিত। বাংলাদেশের জন্য ব্যবহারিক আগ্রহ সংকীর্ণ: প্রো মডেল অনানুষ্ঠানিক পথে এখানে দ্রুত আসে, ভাঁজ করা ফোন আসে ধীরে ও দামি হয়ে, আর বেশির ভাগ ক্রেতার আসল প্রশ্ন—১৮ বিক্রিতে এলে গত বছরের আইফোন ১৭-এর দাম কত নামে।

উন্মোচন আসলে যে সিদ্ধান্ত সামনে আনে

উন্মোচনের পূর্বাভাস পড়া প্রায় কেউই এ বছরের ফোন আর কিছুই না কেনার মধ্যে বাছাই করছেন না। তাঁরা বাছাই করছেন নতুন মডেল, কম দামে গত বছরের মডেল, আর হাতে থাকা ফোনটি আরও এক বছর চালানোর মধ্যে। উন্মোচন একসঙ্গে তিনটিরই দাম বদলে দেয় — আর কাজের জ্ঞানটি স্পেসিফিকেশন নয়, সময় নিয়ে।

পুরোনো মডেলটিই আসল খবর

যেকোনো ফ্ল্যাগশিপ উন্মোচনের সবচেয়ে বড় ও অনুমেয় প্রভাব আগের প্রজন্মের ওপর। নতুন মডেল আসামাত্রই গত বছরেরটি হয়ে যায় সাশ্রয়ী পছন্দ — আর অনানুষ্ঠানিক পথে সরবরাহ হওয়া বাজারে ওই দরপতন আসে স্পষ্ট দুটি ধাপে।

প্রথমটি তাৎক্ষণিক ও মাঝারি: মজুত হাতে থাকা বিক্রেতারা নতুন বাস্তবতার সঙ্গে দাম মিলিয়ে নেন। দ্বিতীয়টি বড়, আর আসে কয়েক সপ্তাহ পর — যখন নতুন মডেল সত্যিই পরিমাণে আসতে শুরু করে আর পুঁজি ছাড়াতে পুরোনো মজুত ছাড়তেই হয়। যিনি গত বছরের ফোন চান আর উন্মোচনের রাতেই কেনেন, তিনি দ্বিতীয় ধাপের অপেক্ষা করা মানুষের চেয়ে বেশি দাম দেন।

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় আগের প্রজন্মের ফোনটি শিরোনাম যা বোঝায় তার চেয়ে ভালো কেনাকাটাও। চালু ধারার ফোনে বছরে বছরে উন্নতি বেশ কিছুকাল ধরেই ছোট ছোট, পুরোনো মডেলটি আরও কয়েক বছর সফটওয়্যার হালনাগাদ পায়, আর দুটির মধ্যে সবচেয়ে বড় একক পার্থক্য দামেরই।

গ্রে-মার্কেটে দাম যেভাবে নড়ে

যেখানে ফোন আসে আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের বদলে অনানুষ্ঠানিক পথে, সেখানে দামের বক্ররেখার একটি চেনা আকৃতি আছে।

প্রথম ইউনিটগুলোতে উল্লেখযোগ্য বাড়তি দাম, কারণ দুষ্প্রাপ্যতাই সেখানে পণ্য আর গুটিকয় ক্রেতা আগে পাওয়ার জন্য টাকা দেবেন। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে হতে মোটামুটি চার থেকে আট সপ্তাহে ওই বাড়তি দাম মিলিয়ে যায় — আর সাধারণ মডেলে তা দ্রুত মেলায়, শীর্ষ মডেলে ধীরে, কারণ সবচেয়ে উঁচু কনফিগারেশন সবচেয়ে বেশি দিন দুষ্প্রাপ্য থাকে।

কাজেই এখানে নতুন ফ্ল্যাগশিপ কেনার সবচেয়ে খারাপ সময় প্রথম পনেরো দিন, আর দ্বিতীয় সবচেয়ে খারাপ সময় যেদিন চালান আসে আর সবাই তা জেনে যায়। এক মাস অপেক্ষা ধৈর্যশীলদের কৌশল নয়; দুষ্প্রাপ্যতার বাড়তি দাম দেওয়া আর না দেওয়ার পার্থক্য।

কম দাম ছাড়া আরও যা জন্য অপেক্ষা করবেন

প্রথম সপ্তাহগুলোতে না কেনার দ্বিতীয় একটি কারণ আছে, আর তার সঙ্গে টাকার সম্পর্ক নেই।

উন্মোচনের সময়কার রিভিউ লেখা হয় প্রি-রিলিজ ইউনিট নিয়ে কয়েক দিন কাটিয়ে। তাতে যা থাকতে পারে না, তা হলো বড় পরিসরে ও সময়ের সঙ্গে যা প্রকাশ পায়: একশো চক্রের পর ব্যাটারির আচরণ, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রিভিউ কক্ষ নয় গরম আবহাওয়ায় তাপজনিত গতি কমে যাওয়া, নির্দিষ্ট কোনো কনফিগারেশনে দেখা দেওয়া সফটওয়্যার ত্রুটি, শুরুর দিকের উৎপাদন ব্যাচের কারখানাগত সমস্যা। এগুলো সামনে আসে দ্বিতীয় মাসে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে — আর পড়ার মতো প্রতিবেদন সেগুলোই।

নতুন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বানানো নতুন প্রজন্ম, কিংবা যেকোনো ধরনের প্রথম প্রজন্মের নকশা — এগুলোতে ওই ধৈর্য কম নয়, বেশি দরকার। প্রথম প্রজন্মের যন্ত্রেই নির্মাতা শেখেন কোথায় ভুল হয়েছিল — আর যাঁরা আগে কিনেছেন, তাঁরাই তা জানতে পারেন।

যে প্রশ্নগুলো আসলে সিদ্ধান্ত ঠিক করে

উন্মোচনের হইচই সরিয়ে দিলে সিদ্ধান্তটি দাঁড়ায় চারটি বিষয়ে, আর কোনোটিই চিপ নয়।

হাতের ফোনটি কি কোনো কাজে ব্যর্থ হচ্ছে? ব্যাটারি দিন পার করে না, সঞ্চয় স্থায়ীভাবে ভরা, ক্যামেরা এড়িয়ে চলেন। সুনির্দিষ্ট ব্যর্থতা কেনাকাটাকে যুক্তিসংগত করে; “ফোনটা পুরোনো হয়ে গেছে” এমন সাধারণ অনুভূতি করে না।

কত দিন সমর্থন পাবে? সচল একটি ফোন কবে আর নিরাপদ থাকবে না তা ঠিক করে নিরাপত্তা হালনাগাদ — আর তা গোনা হয় মডেলটি বাজারে আসার দিন থেকে, আপনার কেনার দিন থেকে নয়; কাজেই দুই বছরের পুরোনো মডেল কিনলে দাম যতই ভালো হোক, বাকি সময়টা কম।

অপ্রত্যাশিতভাবে কী হারাচ্ছেন? আনুষঙ্গিক জিনিস, কেস, আর না-লাগা চার্জার, তথ্য স্থানান্তরের খরচ। আলাদা করে ছোট, আর তুলনার হিসাবে নিয়মিতই অনুপস্থিত।

পুরোনো ফোনটির দাম কত, আর কার কাছে? উন্মোচনের মুহূর্তে, যখন মডেলটি তখনো চালু আর পুনর্বিক্রয়ের চাহিদা সর্বোচ্চ, তখন বিনিময় করলে চার মাস পর ড্রয়ার থেকে বের করে বেচার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মেলে। পুরোনো ফোন বেচার সেরা দিনটি সাধারণত নতুনটি কেনার সেরা দিনের আগেই আসে।

সূত্র: Grey-market pricing patterns, phone depreciation curves, Tech BD archive (September 2026), updated October 2026

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।