প্রযুক্তি

"ক্যামেরা বন্ধ করুন": লন্ডনের পাব আর থিয়েটারে স্মার্ট চশমা নিষিদ্ধ, আর সম্মতির সমস্যাটির সহজ সমাধান নেই

২০২৫ সালে বিক্রি হয়েছে ৭০ লাখ জোড়া এআই চশমা, আর এখন ওয়েদারস্পুনস রেকর্ডিং নিষিদ্ধ করেছে, লন্ডনের বাস স্টেশনে চশমাবিরোধী পোস্টার, ব্রিটিশ আদালতে চশমা নিষিদ্ধ। মেটা বলছে রেকর্ডিং লাইটই উত্তর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্মতির ধারণাটাই "ভেঙে পড়ছে"।

"ক্যামেরা বন্ধ করুন": লন্ডনের পাব আর থিয়েটারে স্মার্ট চশমা নিষিদ্ধ, আর সম্মতির সমস্যাটির সহজ সমাধান নেই

মধ্য লন্ডনের বার, থিয়েটার আর রেস্তোরাঁ অপ্রত্যাশিতভাবে হয়ে উঠেছে এক লড়াইয়ের সম্মুখসারি। বিতর্কের যন্ত্রটি স্মার্ট চশমা—যে চশমা পরিধানকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে ভিডিও, ছবি ও শব্দ ধারণ করে—আর লড়াইটি এ নিয়ে যে, আশপাশের মানুষ কখনো রেকর্ড হতে রাজি হয়েছিলেন কি না।

কতটা বড় হয়েছে বিষয়টি

মেটার চশমা বানানো চশমা-শিল্পের বড় নাম এসিলরলুক্সোটিকা বলছে, ২০২৫ সালে ৭০ লাখ জোড়া এআই চশমা বিক্রি হয়েছে। দ্য ইনফরমেশনের তথ্যমতে, মেটা এই সপ্তাহের কানেক্ট সম্মেলনে ক্যামেরাবিহীন নতুন চশমা আনার ঘোষণা দিতে পারে; স্যামসাং আর গুগল যৌথভাবে বানানো চশমা আনতে পারে এই হেমন্তে। প্রযুক্তিটি যত ছড়াচ্ছে, প্রতিক্রিয়াও তত বাড়ছে—এর পেছনে বড় ভূমিকা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো সেসব ভিডিওর, যেখানে দেখা যায় পুরুষেরা নারীদের ভিডিও করছেন, আর নারীরা তা জানেনই না।

"নিজেকে রক্ষা করতে চারপাশে তাকিয়ে যাচাই করাটা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে," সিএনএনকে বলেন সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ককুলা সেন্টারের ইন্টারনেট এথিকস কর্মসূচির পরিচালক ইরিনা রাইকু। "ফলে সম্মতির পুরো ধারণাটাই একরকম ভেঙে পড়ছে।"

লন্ডন যা করছে

পাব চেইন ওয়েদারস্পুনস গ্রাহকদের এই চশমা দিয়ে রেকর্ড করা নিষিদ্ধ করেছে। "মেটা চশমার ব্যাপারে আমাদের সহজাত প্রতিক্রিয়া ছিল বলা—ক্যামেরা বন্ধ করুন," সিএনএনকে বলেন এক মুখপাত্র। শহরের বাস স্টেশনে দেখা যাচ্ছে স্মার্ট চশমাবিরোধী বিজ্ঞাপন; একটিতে মেটার জন্য কাইলি জেনারের বিজ্ঞাপনী প্রচারকে বদলে দেওয়া হয়েছে কঙ্কালসার এক্স-রেতে, সঙ্গে বাক্য: "আমরা সব সময় দেখছি"। গত আগস্ট থেকে যুক্তরাজ্যের আদালতকক্ষে এই চশমা নিষিদ্ধ। পিকাডিলি থিয়েটারে কর্মী ও দর্শকেরা সিএনএনকে বলেন, চশমাগুলো সরাসরি পরিবেশনার অভিজ্ঞতা নষ্ট করতে পারে আর অভিনয়শিল্পীদের রুজিরুটিতে আঘাত হানতে পারে।

সাধারণ মানুষের আপত্তিটা সবচেয়ে সরলভাবে এসেছে। "দুই পেগ খেতে বেরিয়ে আমি সত্যিই ভিডিও হতে চাই না," বলেন মধ্য লন্ডনের এক পাবে বসা শিক্ষার্থী জাক; রেকর্ডিং লাইট ঢেকে রাখার চর্চাকে তিনি বলেন "হাস্যকর"।

কোম্পানিগুলো যা বলছে

মেটা বলছে, রেকর্ডিং লাইট ঢাকা থাকলে তাদের চশমা রেকর্ড করবে না; আর আগস্টে তারা এমন হালনাগাদ এনেছে যাতে রেকর্ডিং শুরুর পর লাইট ঢাকাই না যায়—এর আগে চশমা টের পেত লাইটে কারচুপি হয়েছে কি না। কোম্পানিটির দাবি, চশমা পরে কাউকে হয়রানির ভিডিওর বিরুদ্ধেও তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। "স্বাভাবিকভাবেই কিছু জায়গায় ভিডিও করা উচিতই নয়, সেটা যুক্তিসংগত; তবে নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত," বলেন এক মুখপাত্র। "আমাদের চশমায় এমন একটি আলো আছে যা ছবি বা ভিডিও নেওয়ার সময় জ্বলে ওঠে—স্মার্টফোন বা অন্য ক্যামেরায় যা নেই।"

গুগল এ পথে আগেও হেঁটেছে: এক দশকের বেশি আগে গুগল গ্লাস ঠিক একই আপত্তির মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের প্রেসিডেন্ট সমীর সামাত বলেন, এই প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা অবাক নন, আর চশমা কীভাবে রেকর্ডিংয়ের সংকেত দেয় সেসব খুঁটিনাটি "সত্যিই, সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ"। গুগলের সফটওয়্যারে চলা স্যামসাংয়ের আসন্ন চশমায় থাকবে কারচুপি-প্রতিরোধী প্রাইভেসি লাইট।

সমাধান কেন কঠিন

ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টারের ক্যালি শ্রোডার সিএনএনকে বলেন, সহজ সমাধানগুলোর সবকটিতেই সমস্যা আছে। রেকর্ডিংয়ের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুখ ঝাপসা করা, কিংবা আপলোডের আগে আইনি সম্মতি বাধ্যতামূলক করা—দুটোই বাস্তবায়ন কঠিন, আর তাতেও ঝুঁকি থেকেই যায়। খেলার মাঠ বা পোশাক বদলের ঘরের মতো স্পর্শকাতর জায়গা শনাক্ত করে রেকর্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চশমাকে চারপাশ অনবরত বুঝতে হবে—যা নিজেই আরেক গোপনীয়তার সমস্যা।

বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে

বাংলাদেশে স্মার্ট চশমা আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হয় না, কিন্তু লাগেজে আসে; আর যে দেশে ফোনের ক্যামেরা এমনিতেই সব পরিস্থিতিতে হাজির, সেখানে প্রতিরক্ষা কম, বেশি নয়। ব্রিটিশ আদালতের নিষেধাজ্ঞার সমতুল্য কিছু এখানে নেই, দেখিয়ে দেওয়ার মতো কোনো ভেন্যুর নীতিও নেই; আর প্রাসঙ্গিক আইন—সাইবার নিরাপত্তা আইন ও অশ্লীল উপাদান নিয়ে পুরোনো ধারাগুলো—কেবল ফুটেজ প্রকাশের পর সক্রিয় হয়, ধারণের সময় নয়। ব্যবহারিক সুরক্ষা তাই সামাজিকই রয়ে গেছে: ঢাকায়, ওয়েদারস্পুনসের মতোই, যিনি ভিডিও করছেন তাঁর দৃশ্যমানভাবে ভিডিও করার কথা। চশমার নকশা ঠিক সেই সংকেতটাই মুছে দেয়, আর মেটা বারবার যে আলোটির কথা বলছে, তা একটি চালের দানার সমান।

সূত্র: CNN

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।