স্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট সেটিংস নামে ঐচ্ছিক একটি মোড যুক্ত করেছে হোয়াটসঅ্যাপ, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়—বরং ছোট একটি গোষ্ঠীর জন্য: সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, জনপরিসরে পরিচিত ব্যক্তি, যাঁরা লক্ষ্যভিত্তিক ও বিপুল সম্পদে চালানো আক্রমণের মুখে থাকেন।
বেশির ভাগ মানুষের এটি না ছোঁয়াই ভালো—প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক রকম সোজাভাবেই তা বলছে। কথাটি ঠিক, আর কেন ঠিক তা বুঝলেই মোডটির উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়।
এটি যা চালু করে
চালু করলে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার একগুচ্ছ সুবিধা সবচেয়ে কঠোর অবস্থায় চলে যায়, আর সেখানেই আটকে থাকে:
- দুই স্তরের যাচাই চালু হয়, যা নম্বর নিবন্ধনের সময় বাড়তি একটি স্তর যোগ করে।
- নিরাপত্তা নোটিফিকেশন—কোনো কন্ট্যাক্টের সিকিউরিটি কোড বদলালে যে সতর্কবার্তা আসে—চালু হয় আর বন্ধ করা যায় না।
- কন্ট্যাক্টে নেই এমন ব্যক্তিদের পাঠানো সংযুক্তি ও মিডিয়া আটকে যায়, যাতে ছবি, ভিডিও বা নথির ছদ্মবেশে আসা ক্ষতিকর ফাইল ঢুকতে না পারে।
- লিংক প্রিভিউ বন্ধ হয়, ফলে লিংক এলে অ্যাপ আর কিছু আনতে যায় না।
- অচেনা নম্বর থেকে আসা ভয়েস ও ভিডিও কল নিঃশব্দ হয়, বাজে না।
যে হুমকির কথা ভেবে এটি বানানো
তালিকাটিকে সুবিধার তালিকা নয়, একটি আক্রমণের বর্ণনা হিসেবে পড়ুন—তখনই এটি সুসংগত হয়ে ওঠে। এটি বানানো হয়েছে ভাড়াটে স্পাইওয়্যারের বিরুদ্ধে—সরকারগুলোর কাছে বিক্রি হওয়া আর নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক নজরদারি সরঞ্জাম।
ওই আক্রমণগুলো আসে অচেনা নম্বর থেকে পাঠানো ফাইল বা লিংক হিসেবে, কিংবা এমন কল হিসেবে—যা ধরা হোক বা না হোক, যন্ত্রটি দখলে নেয়। অপরিচিতদের মিডিয়া আটকানো, লিংকের বিষয়বস্তু আনতে অস্বীকার করা আর অচেনা কল নিঃশব্দ করা—এ তিনটিই সরিয়ে দেয় সেই তিনটি পথ, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোয় যেগুলো আসলেই ব্যবহৃত হয়েছে। আটকে দেওয়া নিরাপত্তা নোটিফিকেশন সামলায় বাকি অর্ধেকটি: কখন কিছু বদলে গেল, তা জানা।
অ্যাপলের লকডাউন মোডের পেছনেও একই যুক্তি, আর এ মিল কাকতালীয় নয়। দুটি প্রতিষ্ঠানই সিদ্ধান্তে এসেছে—বিপুল অর্থে চালানো আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা হলো সেই সুবিধাগুলোই বন্ধ করে দেওয়া, যেগুলোর মধ্য দিয়ে ওই আক্রমণ আসে।
খরচটি, আর এটিই সৎ অংশ
তালিকার প্রতিটি বিষয়ই এমন কিছু ভাঙে, যা মানুষের বৈধভাবেই দরকার।
সাংবাদিকের পুরো কাজটিই কন্ট্যাক্টে না থাকা মানুষের কাছ থেকে নথি পাওয়া। মানবাধিকারকর্মী সংজ্ঞাগতভাবেই অচেনা নম্বর থেকে কল ধরেন। ঠিক ওই যোগাযোগটিই আটকে দিয়ে যন্ত্রটি সুরক্ষিত করা হয় কাজটিকে অকেজো করে।
তাই এটি বিনামূল্যের উন্নতি নয়; "নিরাপত্তার সেটিং, চালু করে রাখাই ভালো" ভেবে যিনি এটি চালু করবেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারাবেন আর আবার বন্ধ করে দেবেন। এটি একটি সচেতন বিনিময়—তাঁদের জন্য, যাঁদের ঝুঁকির মাত্রা কার্যকারিতা হারানোকে যুক্তিসংগত করে।
বাকিদের এ থেকে যা নেওয়ার
মোডটি নয়—তালিকাটি। প্রতিটি সুরক্ষাই হোয়াটসঅ্যাপের সাধারণ সেটিংয়ে আলাদাভাবে আছে, আর তার দুটি যে কারও চালু করার মতো:
- দুই স্তরের যাচাই (সেটিংস → অ্যাকাউন্ট), যা আপনার নম্বর দখল করা কাউকে সেটি নিবন্ধন করতে দেয় না।
- অচেনা কল নিঃশব্দ করা (সেটিংস → প্রাইভেসি → কলস), যাতে প্রায় কিছুই হারায় না, অথচ বিরক্তি আর প্রতারণার সবচেয়ে চেনা পথটি বন্ধ হয়।
বাকিগুলো—অপরিচিতদের মিডিয়া আটকানো, লিংক প্রিভিউ বন্ধ করা—জেনে রাখার মতো, তবে আপনি লক্ষ্যবস্তু বলে নির্দিষ্ট কারণ না থাকলে চালু করার মতো নয়।
চালু করার আগে যে হিসাবটি করে নেওয়া দরকার
লকডাউন মোডের মতো ব্যবস্থা শুধু তাঁদের জন্যই, যাঁদের ঝুঁকি নির্দিষ্ট ও চিহ্নিত। "সতর্ক থাকা ভালো" এই যুক্তিতে চালু করলে সাধারণত কয়েক দিনেই বন্ধ করে দিতে হয়, আর তখন অভ্যাসটি তৈরি হয় উল্টো—সুরক্ষার সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস।
নিজের ঝুঁকি যাচাইয়ের সহজ প্রশ্নটি হলো: আপনার পেশা বা পরিচয়ের কারণে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি আপনাকে খুঁজে বের করার জন্য সময় ও টাকা খরচ করবেন কি? সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, নির্বাচনী কর্মকর্তা বা উচ্চ পদে থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে উত্তরটি প্রায়ই হ্যাঁ। বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে না—তাঁদের আসল ঝুঁকি লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নয়, বরং ফিশিং লিংক, ওটিপি চেয়ে নেওয়া ফোনকল আর পুরোনো ফোনে পড়ে থাকা লগইন।
দ্বিতীয় দলের জন্য সবচেয়ে কাজের তিনটি পদক্ষেপ সাদামাটা: টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখা, "লিংকড ডিভাইস" তালিকা মাঝেমধ্যে দেখে অচেনা যন্ত্র সরিয়ে দেওয়া, আর ওটিপি কখনো কারও সঙ্গে না বলা—এমনকি যিনি নিজেকে অপারেটরের লোক বলে পরিচয় দেন তাঁর সঙ্গেও।
সূত্র: হোয়াটসঅ্যাপের ঘোষণা; টেকরিপাবলিক; সিকিউরিটিব্রিফ এশিয়া; অল্টারনেটিভটু; ফিউচারফাইভ; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




