প্রযুক্তি

হোয়াটসঅ্যাপের নতুন লকডাউন মোড স্বাভাবিক ব্যবহার ভেঙে দেওয়ার জন্যই বানানো—আর ঠিক এ কারণেই এটি কাজ করে

স্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট সেটিংস দুই স্তরের যাচাই চালু করে, অপরিচিতদের মিডিয়া আটকায়, লিংক প্রিভিউ বন্ধ করে আর অচেনা কল নিঃশব্দ করে। হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, বেশির ভাগ মানুষের এটি কখনো লাগবে না।

হোয়াটসঅ্যাপের নতুন লকডাউন মোড স্বাভাবিক ব্যবহার ভেঙে দেওয়ার জন্যই বানানো—আর ঠিক এ কারণেই এটি কাজ করে

স্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট সেটিংস নামে ঐচ্ছিক একটি মোড যুক্ত করেছে হোয়াটসঅ্যাপ, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়—বরং ছোট একটি গোষ্ঠীর জন্য: সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, জনপরিসরে পরিচিত ব্যক্তি, যাঁরা লক্ষ্যভিত্তিক ও বিপুল সম্পদে চালানো আক্রমণের মুখে থাকেন।

বেশির ভাগ মানুষের এটি না ছোঁয়াই ভালো—প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক রকম সোজাভাবেই তা বলছে। কথাটি ঠিক, আর কেন ঠিক তা বুঝলেই মোডটির উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়।

এটি যা চালু করে

চালু করলে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার একগুচ্ছ সুবিধা সবচেয়ে কঠোর অবস্থায় চলে যায়, আর সেখানেই আটকে থাকে:

  1. দুই স্তরের যাচাই চালু হয়, যা নম্বর নিবন্ধনের সময় বাড়তি একটি স্তর যোগ করে।
  2. নিরাপত্তা নোটিফিকেশন—কোনো কন্ট্যাক্টের সিকিউরিটি কোড বদলালে যে সতর্কবার্তা আসে—চালু হয় আর বন্ধ করা যায় না।
  3. কন্ট্যাক্টে নেই এমন ব্যক্তিদের পাঠানো সংযুক্তি ও মিডিয়া আটকে যায়, যাতে ছবি, ভিডিও বা নথির ছদ্মবেশে আসা ক্ষতিকর ফাইল ঢুকতে না পারে।
  4. লিংক প্রিভিউ বন্ধ হয়, ফলে লিংক এলে অ্যাপ আর কিছু আনতে যায় না।
  5. অচেনা নম্বর থেকে আসা ভয়েস ও ভিডিও কল নিঃশব্দ হয়, বাজে না।

যে হুমকির কথা ভেবে এটি বানানো

তালিকাটিকে সুবিধার তালিকা নয়, একটি আক্রমণের বর্ণনা হিসেবে পড়ুন—তখনই এটি সুসংগত হয়ে ওঠে। এটি বানানো হয়েছে ভাড়াটে স্পাইওয়্যারের বিরুদ্ধে—সরকারগুলোর কাছে বিক্রি হওয়া আর নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক নজরদারি সরঞ্জাম।

ওই আক্রমণগুলো আসে অচেনা নম্বর থেকে পাঠানো ফাইল বা লিংক হিসেবে, কিংবা এমন কল হিসেবে—যা ধরা হোক বা না হোক, যন্ত্রটি দখলে নেয়। অপরিচিতদের মিডিয়া আটকানো, লিংকের বিষয়বস্তু আনতে অস্বীকার করা আর অচেনা কল নিঃশব্দ করা—এ তিনটিই সরিয়ে দেয় সেই তিনটি পথ, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোয় যেগুলো আসলেই ব্যবহৃত হয়েছে। আটকে দেওয়া নিরাপত্তা নোটিফিকেশন সামলায় বাকি অর্ধেকটি: কখন কিছু বদলে গেল, তা জানা।

অ্যাপলের লকডাউন মোডের পেছনেও একই যুক্তি, আর এ মিল কাকতালীয় নয়। দুটি প্রতিষ্ঠানই সিদ্ধান্তে এসেছে—বিপুল অর্থে চালানো আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা হলো সেই সুবিধাগুলোই বন্ধ করে দেওয়া, যেগুলোর মধ্য দিয়ে ওই আক্রমণ আসে।

খরচটি, আর এটিই সৎ অংশ

তালিকার প্রতিটি বিষয়ই এমন কিছু ভাঙে, যা মানুষের বৈধভাবেই দরকার।

সাংবাদিকের পুরো কাজটিই কন্ট্যাক্টে না থাকা মানুষের কাছ থেকে নথি পাওয়া। মানবাধিকারকর্মী সংজ্ঞাগতভাবেই অচেনা নম্বর থেকে কল ধরেন। ঠিক ওই যোগাযোগটিই আটকে দিয়ে যন্ত্রটি সুরক্ষিত করা হয় কাজটিকে অকেজো করে।

তাই এটি বিনামূল্যের উন্নতি নয়; "নিরাপত্তার সেটিং, চালু করে রাখাই ভালো" ভেবে যিনি এটি চালু করবেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারাবেন আর আবার বন্ধ করে দেবেন। এটি একটি সচেতন বিনিময়—তাঁদের জন্য, যাঁদের ঝুঁকির মাত্রা কার্যকারিতা হারানোকে যুক্তিসংগত করে।

বাকিদের এ থেকে যা নেওয়ার

মোডটি নয়—তালিকাটি। প্রতিটি সুরক্ষাই হোয়াটসঅ্যাপের সাধারণ সেটিংয়ে আলাদাভাবে আছে, আর তার দুটি যে কারও চালু করার মতো:

  1. দুই স্তরের যাচাই (সেটিংস → অ্যাকাউন্ট), যা আপনার নম্বর দখল করা কাউকে সেটি নিবন্ধন করতে দেয় না।
  2. অচেনা কল নিঃশব্দ করা (সেটিংস → প্রাইভেসি → কলস), যাতে প্রায় কিছুই হারায় না, অথচ বিরক্তি আর প্রতারণার সবচেয়ে চেনা পথটি বন্ধ হয়।

বাকিগুলো—অপরিচিতদের মিডিয়া আটকানো, লিংক প্রিভিউ বন্ধ করা—জেনে রাখার মতো, তবে আপনি লক্ষ্যবস্তু বলে নির্দিষ্ট কারণ না থাকলে চালু করার মতো নয়।

সূত্র: হোয়াটসঅ্যাপের ঘোষণা; টেকরিপাবলিক; সিকিউরিটিব্রিফ এশিয়া; অল্টারনেটিভটু; ফিউচারফাইভ; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: WhatsApp, TechRepublic, SecurityBrief Asia, AlternativeTo, FutureFive, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।