কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের বিশ্বাসযোগ্যতার সমস্যাটি তার নিজেরই তৈরি। কয়েক বছর পরপর কোনো গবেষণাগার ঘোষণা দেয় যে তাদের যন্ত্র এমন কিছু করেছে সাধারণ কম্পিউটার যা পারে না, আর কয়েক বছর পরপরই কেউ আরও চতুর ক্ল্যাসিক্যাল পদ্ধতি বের করে ব্যবধানটি মিটিয়ে দেন। গুগলের ২০১৯ সালের "কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি" দাবিটি বছরের পর বছর ধরে ক্ষয়ে গেছে।
উইলো প্রসেসরের যে ফল গুগল নেচার-এ প্রকাশ করেছে, তা সাজানোই হয়েছে ওই চক্র পেরোনোর জন্য। প্রতিষ্ঠানটি একে বলছে প্রথম যাচাইযোগ্য কোয়ান্টাম-অ্যাডভান্টেজ অ্যালগরিদম। শব্দটি অনেক ভার বইছে, আর তা স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার।
যে সংখ্যাগুলো সবাই উদ্ধৃত করেছে
কোয়ান্টাম একোজ নামের অ্যালগরিদমটি চলেছে ১০৫-কিউবিট উইলো চিপের ৬৫-কিউবিট একটি অংশে। গুগল জানাচ্ছে, অস্তিত্বে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর একটি ফ্রন্টিয়ারে চালানো সেরা পরিচিত ক্ল্যাসিক্যাল সিমুলেশনের চেয়ে এটি প্রায় ১৩ হাজার গুণ দ্রুত—যেসব উপাত্ত-বিন্দুর প্রতিটির জন্য ফ্রন্টিয়ারের তিন বছরের বেশি লাগত বলে গুগলের হিসাব, চিপে তা মিলেছে ঘণ্টার মধ্যে।
এই হিসাব গুগলের নিজের, আর স্বাধীনভাবে এখনো পুনরুৎপাদিত হয়নি। দুটি কথাই একসঙ্গে সত্যি হতে পারে: মাপটি সম্ভবত ঠিক, আর তবু এটি নিজের যন্ত্রে বিক্রেতার নিজেরই মানদণ্ড।
"কোয়ান্টাম একো" আসলে যা করে
কোয়ান্টাম ব্যবস্থায় তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, আর একবার ছড়িয়ে গেলে তা সাধারণত আর পড়া যায় না। সাহিত্যে আউট-অব-টাইম-অর্ডার কোরিলেটর বা ওটিওসি নামে পরিচিত কৌশলটি সময়কে উল্টো দিকে চালিয়ে এ সমস্যার পাশ কাটায়।
গবেষকেরা তথ্যকে সামনের দিকে ছড়াতে দেন, বেছে নেওয়া একটি কিউবিট উল্টে দেন, তারপর পুরো বিবর্তনটি উল্টো দিকে চালান—টেপ রিওয়াইন্ড করার মতো। সামনের আর পেছনের পর্বদুটি চিপের ভেতরে পরস্পরের সঙ্গে ব্যতিচার ঘটায়, যা ইন্টারফেরোমিটারের মতো কাজ করে আর ক্ষীণ সংকেতটিকে হারিয়ে যেতে দেয় না। ফিরে আসা একো ব্যবস্থাটি নিয়ে এমন তথ্য বহন করে, যুক্তিসংগত সময়ে কোনো ক্ল্যাসিক্যাল সিমুলেশন যা বের করতে পারে না।
যে শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ
শিরোনামগুলো যে পার্থক্যটি চাপা দিয়েছে, সেটি এই। গুগলের ২০১৯ সালের ফল দিয়েছিল একটি পরিসংখ্যানগত বণ্টন—কোনো উত্তর দেখিয়ে তা মিলিয়ে দেখা যেত না; কেবল তর্ক করা যেত, নকল করা কতটা কঠিন হতো। কোয়ান্টাম একোজ দেয় একটি নির্দিষ্ট, পুনরাবৃত্তিযোগ্য ফল।
কিন্তু যাচাই কিসে? সমান সক্ষমতার আরেকটি কোয়ান্টাম কম্পিউটারে। ফলটি যথেষ্ট উন্নত দ্বিতীয় একটি যন্ত্রে পুনরুৎপাদন করে মিলিয়ে দেখা যায়। ল্যাপটপে যাচাই করা যায় না, ফ্রন্টিয়ারেও যায় না—গেলে দাবি করার মতো কোনো অ্যাডভান্টেজই থাকত না।
এটি সত্যিকারের ও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ: এই প্রথম কোনো অ্যাডভান্টেজ-দাবির সঙ্গে স্বাধীন নিশ্চিতকরণের একটি নির্দিষ্ট পথ আছে। আবার এটি "এখন যে কেউ কোয়ান্টাম ফল যাচাই করতে পারবে" কথাটির চেয়ে সরু দাবি—যেভাবে কথাটি মোটামুটি ছড়িয়েছে।
রসায়নবিদেরা কেন নজর রাখছেন
উদ্দেশ্য নিছক গতি নয়। একই একো-পদ্ধতি অণুর সূক্ষ্ম গঠন আর চলতি মডেল যেসব বিক্রিয়ার খুঁটিনাটি ধরতে পারে না, তা অনুসন্ধান করতে পারে—প্রসেসরটিকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব কোনো ভৌত ব্যবস্থার সমীকরণ শেখা, যাকে কখনো হ্যামিলটোনিয়ান লার্নিং বলা হয়। এটি বড় পরিসরে কাজ করলে সুফল পাবে ওষুধ আবিষ্কার আর ব্যাটারি রসায়ন—যেখানে ভালো আর দারুণ অণুর পার্থক্য লুকিয়ে থাকে এমন মিথস্ক্রিয়ায়, ক্ল্যাসিক্যাল উপায়ে যার সিমুলেশন অসম্ভব।
পথে যা এখনো আছে
প্রতিটি কোয়ান্টাম গেট সামান্য ত্রুটি যোগ করে, আর ত্রুটি জমতে থাকে। একোর ফেরার পর্বে ব্যবস্থাটি ঠিক শুরুর জায়গায় পৌঁছায় না, ফলে সার্কিট গভীর হলে সংকেত দুর্বল হয়। আরও স্থিতিশীল কিউবিট আর আরও নিখুঁত গেটই এখন ব্যবহারিক সীমানা, আর গুগল সোজাসুজিই বলছে হার্ডওয়্যারের সীমাই প্রধান বাধা।
আর গোটা ধরনটি নিয়ে সৎ সতর্কতা: যত্ন করে বেছে নেওয়া একটি সমস্যায় যাচাইযোগ্য অ্যাডভান্টেজ একটি মাইলফলক, কর্মক্ষম কোয়ান্টাম রসায়ন-যন্ত্র নয়। এবার আলাদা যেটি, তা হলো সংশয়বাদীদের হাতে এখন আক্রমণ করার মতো নির্দিষ্ট কিছু আছে—এ ক্ষেত্রে তর্কটা শুরু থেকেই এভাবে হওয়ার কথা ছিল।
সূত্র: নেচার-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্র; গুগল কোয়ান্টাম এআইয়ের ঘোষণা; সায়েন্স নিউজ; নিউইয়র্ক টাইমস; নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




