হ্যাকারের কাছে আপনার ফোনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস ছবি নয়—আপনার নির্দোষ পরিচয়। ঢাকা বা ডালাসের একটি বাসার ইন্টারনেট সংযোগ থেকে আসা ট্রাফিককে সবাই সাধারণ মানুষের কাজ ভাবে, অপরাধীর নয়। ঠিক এই ধারণার ওপর গড়ে ওঠা ‘আইপিআইডিইএ’ নামের একটি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে গুগলের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ (জিটিআইজি), যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি স্মার্টফোন ও ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে মালিকের অজান্তে রিলে হিসেবে ব্যবহার করছিল।
আবাসিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক কী
বৈধ প্রক্সি সেবা ডেটা সেন্টারের আইপি ঠিকানা ভাড়া দেয়; জালিয়াতি শনাক্তকারী ব্যবস্থাগুলো সেসব ঠিকানাকে সন্দেহের চোখে দেখতে শিখেছে। আবাসিক প্রক্সি এই সমস্যা এড়ায় সত্যিকারের বাসা-অফিসের সংযোগ দিয়ে ট্রাফিক ঘুরিয়ে—ফলে একটি লগইন চেষ্টা, বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট খোলা বা তথ্য স্ক্র্যাপিং দেখায় যেন কোনো নির্ভরযোগ্য গ্রাহকের সংযোগ থেকে আসছে। গুগলের ভাষ্য, আইপিআইডিইএ ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্কগুলোর একটি; অনলাইন জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট দখল, অবৈধ তথ্য সংগ্রহ ও পাসওয়ার্ড চুরির পেছনের মানুষদের পরিচয় লুকাতে এটি ব্যবহৃত হতো।
যন্ত্রগুলো দলে ভিড়ল কীভাবে
নেটওয়ার্কটি ছড়িয়েছিল ক্ষতিকর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ও উইন্ডোজ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। একবার ইনস্টল হলে প্রক্সি অংশটি সব সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চলত—তবে ইচ্ছাকৃতভাবে মিতব্যয়ী হয়ে। ব্যাটারি ও ডেটা খরচ কম হওয়ায় বেশির ভাগ মালিক টেরই পেতেন না যে তাঁদের যন্ত্র অপরিচিতদের ট্রাফিক বইছে। গুগল আরও জানিয়েছে, পরিচালকেরা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল অবকাঠামো এত সাবধানে লুকিয়েছিল যে শনাক্ত হওয়ার আগেই নেটওয়ার্কটি বিশাল হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেন হিমশিম খায়
প্রচলিত বটনেট নিজের জানান দেয়: একটি যন্ত্র হঠাৎ স্প্যাম পাঠাতে শুরু করে বা ডিনায়াল-অব-সার্ভিস হামলায় যোগ দেয়, ট্রাফিকের ধরন অস্বাভাবিক দেখায়। প্রক্সি ট্রাফিক ঠিক উল্টো। প্রতিটি রিলে করা অনুরোধ একটি সাধারণ ঠিকানা থেকে আসা একটি সাধারণ ওয়েব অনুরোধ, মালিকের নিজের ব্রাউজিং থেকে আলাদা করা যায় না। অপব্যবহারটি চোখে পড়ে কেবল সামগ্রিকভাবে—গুগলের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান থেকে, যে ইন্টারনেটের খুব বড় একটি অংশ দেখে।
আপনি কী করতে পারেন
- অ্যান্ড্রয়েডে এমন অ্যাপ মুছে ফেলুন, যা আপনি জেনেশুনে বেছে নেননি—বিশেষ করে ‘ফ্রি ভিপিএন’, ‘বুস্টার’, ‘ক্লিনার’ ও পাইরেটেড অ্যাপ ইনস্টলার; প্রক্সি ম্যালওয়্যারের চিরাচরিত বাহন এগুলোই।
- সেটিংস → নেটওয়ার্ক → ডেটা ব্যবহার দেখুন: যে অ্যাপের অনলাইনে থাকার কারণ নেই, অথচ নিয়মিত ব্যাকগ্রাউন্ড ট্রাফিক আছে।
- উইন্ডোজে স্টার্টআপ প্রোগ্রাম পর্যালোচনা করুন, ক্র্যাক করা সফটওয়্যার সরান; ক্র্যাক এদের প্রিয় বাহন।
- গুগল প্লে প্রোটেক্ট চালু রাখুন, নিরাপত্তা আপডেট দ্রুত দিন।
এই অভিযান ব্যবসাটি শেষ করবে না। আবাসিক প্রক্সির চাহিদা আছে ঠিক এ কারণেই যে এটি কাজ করে, আর পরের নেটওয়ার্কটি সম্ভবত এখনই লোক জোগাড় করছে। যে অভ্যাস আপনাকে বাঁচায়, তা একঘেয়ে কিন্তু কার্যকর: যা সত্যিই দরকার, শুধু তা-ই ইনস্টল করুন—এমন উৎস থেকে, যার নাম আপনি বলতে পারেন।




