প্রতারণা শুরু হয় একটি স্ক্রিনশটে। কেউ আপনার হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল ছবি সেভ করে, নতুন সিমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলে, আপনার ছবি ও নাম বসায়, আর আপনার কন্ট্যাক্টদের বার্তা পাঠায়: ‘নতুন নম্বর, বিপদে আছি, বিকাশে ৫,০০০ টাকা পাঠাও।’ কাজ করে, কারণ মুখটি ঠিক। মার্চে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যান্ড্রয়েডে প্রথম ধাপটি বন্ধ করে—প্রোফাইল ছবি স্রেফ ক্যাপচার করা যায় না—আর ডব্লিউএবেটাইনফো অনুযায়ী একই বাধা এখন আইফোনের জন্য পরীক্ষায়।
বাধাটি যা করে
আইওএস বেটা সংস্করণ ২৪.১০.১০.৭০-এ অন্য ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবি খুলে স্ক্রিনশটের বোতাম চাপলে একটি পপআপ বলে অ্যাপ তা অনুমোদন করে না, আর সেভ হওয়া ছবিটি কালো। এটি ব্যবহার করে সেই একই কৌশল, যা ভিউ-ওয়ান্স ছবি ও ব্যাংকিং অ্যাপের স্ক্রিনশট থামায়। সবার জন্য মুক্তির তারিখ নেই; হোয়াটসঅ্যাপের বেটা সুবিধা সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস দুয়েকের মধ্যে সবার কাছে পৌঁছায়।
যা থামাতে পারে না
সীমা নিয়ে সততা: পর্দার দিকে তাক করা দ্বিতীয় একটি ফোন এক সেকেন্ডে একে হারায়, আর গত বছর ইতিমধ্যে কপি করা ছবি ফেরত আসে না। বাধাটি আকস্মিক ক্লোনারের—যে এক বিকেলে একটি ফোন থেকে প্রতারণা চালায়—শ্রম বাড়ায়, আর সংগঠিতদের বিরুদ্ধে কিছুই করে না। এটি আপনার চ্যাটের স্ক্রিনশটও থামায় না, যা কখনো সুরক্ষিত ছিল না আর হওয়ার পরিকল্পনাও নেই।
বিশেষ করে বাংলাদেশ কেন
ছদ্মবেশের প্রতারণা বাংলাদেশি পুলিশের অভিযোগের নিত্য বিষয়: ‘মানিব্যাগ হারানো বিদেশের আত্মীয়’, ‘গিফট কার্ড দরকার বসের’, ‘নতুন নম্বরের মেয়ে’। প্রায় সবই ভর করে চুরি করা প্রোফাইল ছবি ও বিশ্বাসযোগ্য নামে, নম্বরের চেয়ে মুখকে বেশি বিশ্বাস করা কন্ট্যাক্টদের পাঠানো। সেই পাইপলাইনে যেকোনো ঘর্ষণ শিকার কমায়।
যে দুটি সেটিং বেশি জরুরি
- সেটিংস → প্রাইভেসি → প্রোফাইল ফটো → মাই কন্ট্যাক্টস। নম্বর স্ক্যান করা প্রতারকসহ অপরিচিতরা তখন কোনো ছবিই দেখে না। এটিই একক সবচেয়ে কার্যকর ধাপ আর বছরের পর বছর ধরে আছে।
- সেটিংস → অ্যাকাউন্ট → টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন। একটি পিন, যা আপনার নিজের অ্যাকাউন্ট অন্য ফোনে ছিনতাই হওয়া থামায়—ছদ্মবেশের অন্য সাধারণ পথ।
আর পারিবারিক গ্রুপের একটি নিয়ম: টাকা চাওয়া নতুন নম্বর মানে আগে একটি ফোন কল, সব সময়, তাতে যারই মুখ থাকুক।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, প্রথম আলোর বরাতে।




