সতেরো বছর ধরে হোয়াটসঅ্যাপের দাম শূন্য—আর সে কারণেই এটি বাংলাদেশের ফোনবুক হয়ে উঠেছে। সেটি বদলাচ্ছে না—কিন্তু এর ওপর টাকার একটি স্তর কেমন হবে, মেটা এখন তা পরীক্ষা করছে। ডব্লিউএবেটাইনফো জানাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস নামের একটি সাবস্ক্রিপশন সীমিত সংখ্যক আইফোন ব্যবহারকারীকে দেওয়া হচ্ছে, শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ইউরোপে, মাসে ২.৫ পাউন্ডে (প্রায় ৩৬০ টাকা)। পরীক্ষা ভালো গেলে আনুষ্ঠানিক চালু হতে পারে।
যা পাবেন
প্রতিবেদিত সুবিধাগুলো সাজসজ্জার আর আগাম প্রবেশের: বিশেষ স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, থিম ও ওয়ালপেপার, বিকল্প অ্যাপ আইকন—সংক্ষেপে নিজের হোয়াটসঅ্যাপকে আলাদা দেখানোর সুযোগ—সঙ্গে নতুন সুবিধা সবার আগে ব্যবহার। ম্যাশেবল ও নাইনটুফাইভম্যাক দুটোই একই তালিকা জানিয়েছে।
যা পাবেন না
বিনা মূল্যের অ্যাপ থেকে কিছুই সরানো হচ্ছে না। বার্তা, কল, গ্রুপ, কমিউনিটি আর এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সবার জন্য বিনা মূল্যেই থাকছে, আর হোয়াটসঅ্যাপ স্পষ্ট বলেছে মূল সেবা বদলাবে না। টাকা দিলে আপডেটস ট্যাবে মেটার বসানো শুরু করা বিজ্ঞাপন সরবে, বা কোনো গোপনীয়তা সুরক্ষা যোগ হবে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই; টাকা দেওয়া ব্যবহারকারীর বার্তা ঠিক ততটাই এনক্রিপ্টেড, যতটা বিনা মূল্যের ব্যবহারকারীর।
মেটা কেন চায়
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী ২০০ কোটির বেশি, আর সম্প্রতি পর্যন্ত তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি আয় প্রায় শূন্য; ব্যবসা এসেছে কোম্পানিগুলোর দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসের বার্তা ফি থেকে। টেলিগ্রাম ২০২২ সালে প্রিমিয়াম স্তর এনেছে, স্ন্যাপচ্যাটের টাকার স্তর এক কোটি গ্রাহক পেরিয়েছে—প্রমাণ হয়েছে, বিশাল ব্যবহারকারী-ভিত্তির ছোট একটি অংশ ব্যক্তিগতকরণ আর মর্যাদার জন্য টাকা দেয়। হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর এক শতাংশও গ্রাহক হলে বিনা মূল্যের পণ্যে হাত না দিয়েই বছরে আয় শত শত মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের জন্য এর মানে
স্টিকারের জন্য মাসে ৩৬০ টাকা—এখানে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস বেচা কঠিন হবে, যেখানে অ্যাপটি ব্যবহৃত হয় ঠিক এ কারণেই যে ডেটার ওপরে এর কোনো খরচ নেই। বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গতিপথের। একবার টাকার স্তর থাকলে সত্যিই কাজের জিনিস—বড় ফাইল সীমা, দীর্ঘ স্ট্যাটাস ভিডিও, ভালো ব্যাকআপ—তার পেছনে সরানোর লোভ প্রতিটি ত্রৈমাসিক আয়ের হিসাবে বাড়ে। নজর রাখার রেখা এটিই: পেওয়ালের পেছনে ব্যক্তিগতকরণ নির্দোষ; পেওয়ালের পেছনে সক্ষমতা হোয়াটসঅ্যাপ কী, সেটাই বদলে দেবে।
আপাতত করণীয় কিছু নেই: পরীক্ষাটি ইউরোপের অল্প কিছু আইফোনে সীমিত, বাংলাদেশের অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সেটিংসে এমন কোনো অপশন দেখবেন না। কেউ যদি হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস নামে কোনো এপিকে বা লিংক পাঠায়, সেটি এই সেবা নয়—বহু বছর ধরে একই নামে ছড়ানো ভুয়া, তথ্য চুরি করা অ্যাপ। আসলটি এলে হোয়াটসঅ্যাপের ভেতরেই দেখা যাবে, বাইরের কোনো ডাউনলোডে নয়।




