প্রযুক্তি

ঢাকায় খুলল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিপ-ডিজাইন স্কুল — কোর্সের ধারাগুলোর মানে কী, আর কোনটিতে সবচেয়ে বেশি চাকরি

ধারাগুলোর নাম এমন একটি ধাপক্রম থেকে এসেছে যা বেশির ভাগ মানুষ কখনো দেখেননি। ক্রমটি জানলে চাকরির বাজার বোঝা যায় — আর সবচেয়ে কম জৌলুসের ধাপেই সবচেয়ে বেশি নিয়োগ।

ঢাকায় খুলল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিপ-ডিজাইন স্কুল — কোর্সের ধারাগুলোর মানে কী, আর কোনটিতে সবচেয়ে বেশি চাকরি

বাংলাদেশ চিপ বানায় না, তবে অল্প কিছু বাংলাদেশি প্রকৌশলী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য চিপের অংশ নকশা করেন — আর এই ব্যবসায় থাকা হাতে গোনা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি উল্কাসেমি ঠিক করেছে, বাধাটি প্রশিক্ষণ। ঢাকার নিকেতনে চালু হয়েছে তাদের নতুন উল্কাসেমি ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, দুটি বিশেষায়িত কোর্সে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে; কোম্পানিটি একে দেশের বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর প্রশিক্ষণকেন্দ্র বলছে।

কোর্সের ধারাগুলো যে ধাপক্রমের নামে

পাঠ্যসূচি সাজানো হয়েছে চিপ-ডিজাইন কোম্পানির ধাঁচেই — আরটিএল, ডিজাইন ভেরিফিকেশন, ফিজিক্যাল ডিজাইন, লেআউট ও ডিজাইন ফর টেস্টেবিলিটির আলাদা ধারা নিয়ে। বেশির ভাগ পাঠকের কাছে নামগুলোর কোনো মানে নেই, অথচ এগুলো একটিমাত্র ধাপক্রমের নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো স্তর। ক্রমটি জানলে চাকরির বাজার পড়া যায়।

স্পেসিফিকেশন ঠিক করে চিপটি কী করবে। আরটিএল — রেজিস্টার ট্রান্সফার লেভেল — সেই স্তর, যেখানে প্রকৌশলী হার্ডওয়্যার ডেসক্রিপশন ল্যাঙ্গুয়েজে যুক্তিটি বর্ণনা করেন: সার্কিট আঁকা নয়, বরং প্রতিটি ক্লক-টিকে কী ঘটবে তা লেখা — এমন একটি ভাষায়, যা দেখতে কোডের মতো আর যা থেকে হার্ডওয়্যার তৈরি হয়।

ভেরিফিকেশন এরপর প্রমাণ করে বর্ণনাটি সঠিক, এমন একটি পরিবেশ বানিয়ে যা নকশাটিকে লাখ লাখ পরিস্থিতির মুখে ফেলে আর ফলাফল স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে।

সিনথেসিস যাচাই হওয়া বর্ণনাটিকে নির্দিষ্ট উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রকৃত লজিক গেটে রূপান্তর করে। ফিজিক্যাল ডিজাইন ওই গেটগুলো সিলিকনে বসায় আর তাদের মধ্যে তারের পথ ঠিক করে — সময়, বিদ্যুৎ ও তাপের শর্ত মেনে; এটি এমন মাপের একটি সাজানো ও অপ্টিমাইজেশনের সমস্যা যা কোনো মানুষ হাতে করে না। লেআউট সামলায় কাঠামোগুলোর নিজস্ব জ্যামিতি, আর ডিজাইন ফর টেস্টেবিলিটি এমন সার্কিট যোগ করে যার একমাত্র কাজ তৈরি হওয়া চিপটি পরীক্ষা করতে দেওয়া — কারণ যে চিপ পরীক্ষা করা যায় না, তা বিক্রিও করা যায় না।

এখন চলা দুটি কোর্স আইসি মাস্ক ডিজাইন ও আইসি ফিজিক্যাল ডিজাইন; এরপর আসার কথা অ্যানালগ ডিজাইন ও ভেরিফিকেশন।

যে ধারায় কেউ আবেদন করে না, চাকরি সেখানেই

এই লেখার বাকি সবকিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান কর্মজীবনের তথ্যটি এখানে।

সাধারণ একটি চিপ প্রকল্পে ডিজাইন প্রকৌশলীর চেয়ে ভেরিফিকেশন প্রকৌশলী বেশি থাকেন, প্রায়ই অনেক বেশি। কারণ অসমতা: কোনো ব্লক কী করবে তার বর্ণনা লেখা সীমাবদ্ধ কাজ, আর সেটি সত্যিই তা করে কি না প্রমাণ করা — ইনপুট, সময় ও প্রান্তিক পরিস্থিতির প্রতিটি সমন্বয়ে, যেখানে উৎপাদনের পর ধরা পড়া একটি ভুলের দাম কয়েক মাস ও কোটি টাকা — কার্যত সীমাহীন। দল তৈরি করার চেয়ে যাচাই করায় বেশি শ্রম দেয়।

শিক্ষার্থীরা বিপুলভাবে ডিজাইনই করতে চান, কারণ ডিজাইন শুনতে সৃজনশীল অংশ মনে হয়। নিয়োগ হয় ভেরিফিকেশনে, বেতনও তুলনীয়, আর ট্র্যাক রেকর্ডহীন কারও জন্য শিল্পে ঢোকার অনেক দ্রুততর পথ এটিই। কোনটি শুনতে ভালো সেই ভিত্তিতে এই দুটি ধারার মধ্যে বেছে নেওয়া মানে ভুল অক্ষে বেছে নেওয়া।

টুলে প্রবেশাধিকারই আসল বাধা কেন

কোর্সগুলো চলে ৮০–৯০ শতাংশ হাতে-কলমে, শিল্পমানের ইডিএ টুল দিয়ে; সাধারণত তিন মাস, সপ্তাহে পাঁচ দিন — প্রায় ২৪০ ঘণ্টা, কিছু ধারায় ৪৮০ পর্যন্ত — শেখান কর্মরত প্রকৌশলীরা, আর একসঙ্গে ১৫০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা আছে।

টুলের ওপর জোর দেওয়া বিপণনের কথা নয়; এটিই গোটা প্রস্তাবনা। ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন সফটওয়্যারেই চিপ ডিজাইনাররা সারা দিন কাজ করেন, আর এর লাইসেন্সের দাম প্রতি আসনে বছরে কয়েক হাজার ডলার। এই একটিমাত্র তথ্যই সমস্যার আকৃতি ব্যাখ্যা করে: কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হোয়াইটবোর্ডে ডিজিটাল লজিক চমৎকারভাবেই শেখাতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীকে সেই সফটওয়্যারের সামনে বসাতে পারে না যেটি চালানোর জন্যই তাঁকে চাকরি দেওয়া হবে।

কাজেই একজন দক্ষ ইইই স্নাতক আর নিয়োগযোগ্য চিপ ডিজাইনারের মধ্যে ব্যবধানটি কদাচিৎ তত্ত্বের। ব্যবধানটি টুলে কাটানো ঘণ্টার, সঙ্গে তার থেকে আসা অভ্যাসের — সত্যিকারের প্রকল্প কীভাবে সাজানো হয়, ডিজাইন রিভিউতে কী হয়, কনস্ট্রেইন্ট ফাইল কী আর সমস্যাগুলো কেন সেখানেই লুকিয়ে থাকে। যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান সম্পদ লাইসেন্স করা টুল আর প্রতিদিন সেগুলো ব্যবহার করা প্রকৌশলী, সে ঠিক এই ফাঁকটিই ভরছে — আর এটি এমন ফাঁক, যা মেধা নয়, টাকা দিয়ে ভরাট হয়।

কাজটি আসলে কী

স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ “চিপ ডিজাইনার” শুনে যা মনে হয় কাজটি তা নয়।

এই ব্যবসায় থাকা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে ডিজাইন সার্ভিসেস-এ: অন্য কারও চিপের নির্দিষ্ট ব্লক বা ধাপ সরবরাহের চুক্তিতে, এমন কোনো বিদেশি ফ্যাবলেস কোম্পানির জন্য যে পণ্যটির মালিক। প্রকৌশলী কাজ করেন এমন একটি নকশার অংশ নিয়ে, যা হয়তো তিনি তৈরি অবস্থায় কখনো দেখবেনই না — ক্লায়েন্টের পদ্ধতি মেনে, প্রায়ই ক্লায়েন্টের অবকাঠামোতেই, কারণ মেধাস্বত্ব তাদের নেটওয়ার্ক ছেড়ে বেরোতে পারে না।

এর দুটি ফল কর্মজীবন বাছার আগে জানা দরকার। কাজটি সত্যিকারের প্রকৌশল, ক্লায়েন্টের নিজস্ব দলের মতোই কারিগরি স্তরে — এটি পেছনের সারির কাজ নয়। আর এর কৃতিত্ব কদাচিৎ দেখানো যায়: বাজারে থাকা কোনো পণ্যের দিকে দেখিয়ে “এই অংশটি আমার” বলা যায় না, যা জীবনবৃত্তান্ত গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং যে কারণে আপনি কী করেছেন তার সাবধানী ব্যক্তিগত নথি রাখা দরকার।

মেধাস্বত্বের নিরাপত্তার শর্তটিই ব্যাখ্যা করে, এই কাজের কিছু অংশ কেন যেখান-সেখান থেকে দূরবর্তীভাবে করা যায় না — আর সঠিক প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণসহ একটি স্থানীয় কার্যালয় নিজেই কেন একটি সম্পদ।

কাদের আবেদন করা উচিত

স্বাভাবিক প্রার্থী হলেন শেষ বর্ষের ও সদ্য পাস করা ইইই, সিএসই ও ইসিই স্নাতক, যাঁরা সফটওয়্যার নয় হার্ডওয়্যার চান; আর এএসআইসি কাজের দিকে যেতে চাওয়া মধ্য-পর্যায়ের এমবেডেড বা এফপিজিএ প্রকৌশলীরা। এফপিজিএ পথটিই সবচেয়ে কম মূল্যায়িত: ভাষা আর চিন্তার ধরনের অনেকটাই সরাসরি কাজে লাগে, কাজেই সত্যিকারের এফপিজিএ অভিজ্ঞতা থাকা প্রকৌশলী নতুন স্নাতকের চেয়ে নিয়োগযোগ্যতার অনেক কাছ থেকে শুরু করেন।

বাস্তব সতর্কতাটি অপরিবর্তিত। দেশীয় চাকরির ভান্ডার ছোট — বিদেশি ফ্যাবলেস কোম্পানিদের সেবা দেওয়া হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান — কাজেই ৫০ জনের একটি ব্যাচ স্থানীয় চাহিদার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ। বড় পুরস্কারটি দূরবর্তী ও বিদেশি কাজ, যেখানে ঢাকার সনদপ্রাপ্ত, টুলে সাবলীল ডিজাইনার খরচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বেঙ্গালুরু ও হ্যানয়ের সঙ্গে — যাদের কুড়ি বছরের অগ্রগামিতা আর গভীর স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র দুটিই আছে।

গোটা উদ্যোগটির সৎ কাঠামোটিও এটিই। একসঙ্গে ১৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দিলে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প তৈরি হয় না; তৈরি হয় এমন একটি শিল্পের জন্য দরকারি শ্রমের জোগান — যা আগে থাকতেই হয় আর একা থাকলে অকেজো। এই প্রতিষ্ঠানটি যে প্রশ্নটি তোলে আর যার উত্তর দিতে পারে না, তা হলো: এখানে এমন কিছু কি গড়ে উঠবে যাতে তাঁরা কাজ করতে পারবেন, নাকি এর স্নাতকেরাই রপ্তানিপণ্য হয়ে যাবেন।

সূত্র: Ulkasemi, VLSI design flow practice, EDA licensing economics, design services industry

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।