কয়েক সপ্তাহ পরপরই কোনো ফেসবুক পেজ ৫ হাজার টাকায় ৩০ দিনে ফ্রিল্যান্সার বানানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রথম আলোর প্রযুক্তি বিভাগ শুরু করে বেশি কাজের কিছু: আপওয়ার্কের টপ রেটেড প্লাস ফ্রিল্যান্সারের লেখা বিনা মূল্যের সাপ্তাহিক প্রশিক্ষণ ধারাবাহিক। এটি তার প্রথম পাঠ, সঙ্গে আমাদের কিছু বাংলাদেশি টীকা।
শব্দগুলো ঠিক করুন
ফ্রিল্যান্সিং কোনো পেশা নয়। এটি কাজের ধরন। ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার মানে এমন গ্রাফিক ডিজাইনার, যিনি নিয়োগকর্তার বদলে ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করেন; নিজের পরিচয় দিন দক্ষতা দিয়ে, "ফ্রিল্যান্সার" শব্দ দিয়ে নয়। আউটসোর্সিং করে ক্লায়েন্ট। বিদেশের কোনো কোম্পানি—ধরুন এটুজেড—দ্রুত কিছু ডিজাইনের কাজ কর্মী নিয়োগ না করে বাইরের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিলে, এটুজেড আউটসোর্সিং করছে। আপনি, কাজটি করছেন, ফ্রিল্যান্সিং করছেন। "আমি আউটসোর্সিং করি" বললে সম্পর্কটা উল্টে যায়, আর আপনাকে নতুন বলে চেনা যায়।
কাজ কোথায়
বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সার ক্লায়েন্ট পান মার্কেটপ্লেসে, আর টাকা দেওয়ার রেকর্ড আছে যেগুলোর, সেগুলো upwork.com, freelancer.com, fiverr.com, peopleperhour.com ও guru.com। প্রতিটিতে একটি দক্ষতা ঘিরে প্রোফাইল বানান, মিলে যাওয়া কাজে আবেদন করুন, ক্লায়েন্ট যোগ্য মনে করলে কাজ পান; তারপর ক্লায়েন্টের শর্ত ও সময়সীমায় জমা দিন। মার্কেটপ্লেসের বাইরে অভিজ্ঞরা ক্লায়েন্ট পান লিংকডইন, নিজের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক গ্রুপে। কাজের ধরন লেখালেখি, গ্রাফিকস, ওয়েব ডিজাইন থেকে ডেভেলপমেন্ট, অডিও সম্পাদনা, থ্রিডি অ্যানিমেশন, ডেটা এন্ট্রি, লিড জেনারেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, এসইও; মার্কেটপ্লেসের জব সেকশনে দেখা যায় এ মাসে চাহিদা কিসের।
পূর্ণকালীন চাকরি বনাম ফ্রিল্যান্স
অফিসের চাকরিতে নির্দিষ্ট সময়, সহকর্মীর সহায়তা আর বেতন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের সময়, বাকি কিছুই নয়: কাজের প্রতিটি অংশ নিজে, ক্লায়েন্টের সঙ্গে দর-কষাকষি নিজে, আর প্রায়ই রাত দুইটায় কাজ—কারণ নিউইয়র্কে তখন বিকেল চারটা। বিনিময়ে দক্ষ ও ধৈর্যশীল ফ্রিল্যান্সার সাধারণত সমমানের চাকরির চেয়ে বেশি আয় করেন, আর নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে অন্যদের কাজ দিতে পারেন। কিন্তু গড়তে সময় লাগে, আর যাঁরা লেগে থাকতে পারেন, পুরস্কার শুধু তাঁদের।
সৎ কথাটা
লেখকের সতর্কবাণী আবার বলার মতো: শত শত সক্ষম মানুষ ফ্রিল্যান্সিংয়ে ব্যর্থ হন, কারণ তাঁরা চাকরি বা পড়াশোনার ফাঁকে অবসরে চেষ্টা করেন। আপনার অবস্থা তা-ই হলে করুন, তবে বেশি আশা করবেন না। ধারাবাহিকটি যাকে "রকস্টার" বলছে, তা হতে চাইলে চিকিৎসা বা প্রকৌশলের মতো নিন: পড়তে থাকুন, চর্চা করুন, লেখা ও বলা ইংরেজিতে ভালো হোন, নিজেকে বিপণন করতে শিখুন, আর প্রতিবার পেশাদার থেকে ভালো রিভিউ জমান। সবার আগে দেখুন, আপনার দক্ষতার চাহিদা মার্কেটপ্লেসে আছে কি না; না থাকলে সবচেয়ে কাছের যেটির আছে, তা শিখুন।
অনলাইন ফ্রিল্যান্স শ্রমের বৃহত্তম উৎসগুলোর একটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ। ধারাবাহিকের পরের পাঠে সেই প্রশ্ন, যা বেশির ভাগ মানুষ এড়িয়ে যান: আমি কি আসলেই পারব?




