প্রযুক্তি

ফ্রিল্যান্সারদের এনআইডি-পাসপোর্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগে বিটোপিয়াকে তিন দিনের আলটিমেটাম বেসিসের

অভিযোগ মার্কেটপ্লেসের নীতি লঙ্ঘন, ভুয়া পরিচয় ও ব্যক্তিগত নথির অপব্যবহারের। বেসিস বলেছে, সদস্যপদ স্থগিতের প্রক্রিয়া, গোপনীয় অভিযোগ ব্যবস্থা এবং জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং গভর্ন্যান্স কাঠামোর প্রস্তাব আসছে।

ফ্রিল্যান্সারদের এনআইডি-পাসপোর্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগে বিটোপিয়াকে তিন দিনের আলটিমেটাম বেসিসের

শনিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)—আর জবাব দিতে সময় বেঁধে দিয়েছে তিন দিন।

অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়। বেসিস স্পষ্ট করেই বলেছে, তারা কোনো অন্যায় ধামাচাপা দেবে না, আবার তদন্তের আগে কাউকে অপরাধীও সাব্যস্ত করবে না।

অভিযোগ কী কী

‘বিটোপিয়া কেলেঙ্কারি ও বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংগঠনটির নজরে এসেছে—আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসের নীতি লঙ্ঘন, এনআইডি ও পাসপোর্টের অপব্যবহার, কৃত্রিম অর্ডার ও রিভিউ এবং ভুয়া পরিচয় ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অভিযোগ। বিটোপিয়া গ্রুপ বিডি কলিং নামে বেসিসের সদস্য।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ফাইভআরে অনৈতিকভাবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, কৃত্রিম রিভিউ তৈরি এবং অন্য পেশাদার ফ্রিল্যান্সারদের কাজ ব্যাহত করার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া সাকিব মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আজকের নয়; এ নিয়ে কথা বলায় বিভিন্ন সময় তাঁর ওপর চড়াও হওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভুয়া আইডির প্রমাণ তাঁর কাছে আছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশও করেছেন—এর মধ্যে আছে এমন ব্যক্তিদের আইডি, যাঁরা এখন আর সেখানে নেই।

বেসিসের ঘোষিত চার পদক্ষেপ

  1. সাংগঠনিক ব্যবস্থা। গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে, বিবেচনায় থাকবে সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতসহ চূড়ান্ত আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা।
  2. সরকারি তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা—আইসিটি বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, এনবিআর, সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নথি দেওয়া হবে।
  3. গোপনীয় অভিযোগ ব্যবস্থা—যেসব ফ্রিল্যান্সার বা সাবেক কর্মীর এনআইডি, পাসপোর্ট বা মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট অনিচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য ও প্রমাণ নেওয়া হবে, পরিচয় সুরক্ষিত রেখে।
  4. জাতীয় কাঠামো। এজেন্সি পরিচালনার নামে ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার, চাকরি শেষে ডিজিটাল পরিচয়ের মালিকানা এবং এজেন্সির অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সীমা ঠিক করতে ‘ন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড মার্কেটপ্লেস গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক’ গঠনের প্রস্তাব দেবে বেসিস।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেসিস–সহায়ক কমিটির সদস্য ও ট্রাস্ট-আইটির (বিডি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুয়েল। আলাদাভাবে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে কন্ট্যাক্ট সেন্টার ও আউটসোর্সিং খাতের সংগঠন বাক্কো; তাদের বক্তব্য, একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে বছরের পর বছর গড়া খাতের সুনাম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বাংলাদেশে এর মানে কী

তদন্তে যা-ই বেরোক, কাঠামোগত সমস্যাটি এখনই দেখা যাচ্ছে, আর তা গোটা খাতের। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং অর্থনীতি চলে এমন এজেন্সির ওপর, যারা কাগজে-কলমে ব্যক্তির নামে থাকা মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে—কারণ ফাইভআর বা আপওয়ার্ক যাচাই করে ব্যক্তিকে, প্রতিষ্ঠানকে নয়। এই অমিলের জায়গাতেই এসব অভিযোগের বসতি।

যেকোনো ফ্রিল্যান্সারের জন্য ব্যবহারিক প্রশ্নটি মালিকানার। আপনার এনআইডি বা পাসপোর্ট দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্ট অন্য কেউ চালালে ঝুঁকি আপনারই—নিষেধাজ্ঞা যাচাই করা পরিচয়ের পেছনে যায়, এজেন্সির পেছনে নয়। এজেন্সিতে যোগ দেওয়ার আগে লিখিতভাবে জেনে নিন, অ্যাকাউন্ট কার নামে, পেআউট পদ্ধতি কার নিয়ন্ত্রণে, আর আপনি চলে গেলে দুটোর কী হবে। আগেই ছেড়ে এসে থাকলে এবং আপনার নামের অ্যাকাউন্ট এখনো চললে, তা নথিভুক্ত করে বেসিসের নতুন ব্যবস্থাটি খোলা থাকতেই জানান।

চতুর্থ প্রস্তাবটিই এ ঘটনার বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ, আর এই একই শূন্যতা আমরা পেয়েছিলাম ফুডপান্ডার মামলার পেছনের সরবরাহ বিরোধে: বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা সম্পর্ক প্রায় কোনো নিয়মেই বাঁধা নয়, তাই সেগুলো গিয়ে ঠেকে সংবাদমাধ্যমে বা আদালতে। অভিযোগ কী প্রতিষ্ঠা করে আর কী করে না, সে প্রসঙ্গে নালিশি মামলা আদালতে কীভাবে এগোয় লেখাটিও এখানে খাটে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।