২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল সোমবার টুইটারের পরিচালনা পর্ষদ প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে, শেয়ারপ্রতি ৫৪.২০ ডলারে, কোম্পানিটি ইলন মাস্কের কাছে বিক্রিতে রাজি হয়; আর বিশ্বের শীর্ষ ধনী মুহূর্তটি চিহ্নিত করলেন যেভাবে তিনি জানেন: হৃদয়ের চিহ্নসহ "ইয়েস" টুইট। তিন সপ্তাহ আগেও তিনি ছিলেন শুধু বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার। এখন ৮ কোটি ৪০ লাখ অনুসারীর মানুষটি সেই প্ল্যাটফর্মের মালিক, যা তিনি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন।
তিন সপ্তাহে যেভাবে হলো
- ৪ এপ্রিল: জানুয়ারি থেকে চুপচাপ কেনা ৯.২ শতাংশ শেয়ারের কথা প্রকাশ করেন মাস্ক। টুইটার তাঁকে পর্ষদে আসন দেয়।
- ১০ এপ্রিল: আসন ফিরিয়ে দেন; পরিচালক ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখতে পারেন না।
- ১৪ এপ্রিল: শেয়ারপ্রতি ৫৪.২০ ডলারে পুরো কোম্পানি কেনার প্রস্তাব—"আমার সেরা ও চূড়ান্ত প্রস্তাব"; চেয়ারম্যান ব্রেট টেলরকে বলেন, "ব্যবস্থাপনায় আমার আস্থা নেই।" পর্ষদ তাঁকে ঠেকাতে "পয়জন পিল" আনে।
- ২১ এপ্রিল: টেসলার শেয়ারের বিপরীতে ঋণসহ ৪ হাজার ৬৫০ কোটি ডলারের অর্থায়ন দেখান।
- ২৫ এপ্রিল: পর্ষদ রাজি। টুইটারের শেয়ার ৫১.৭০ ডলারে শেষ হয়; প্রধান নির্বাহী পরাগ আগরওয়াল কর্মীদের বলেন, কোম্পানির ভবিষ্যৎ এখন "অনিশ্চিত"।
মাস্ক যা চান বলছেন
তাঁর ঘোষিত কারণ আর্থিক নয়; "অর্থনীতির দিকটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই," বলেছেন তিনি। টুইটারকে তিনি বলেন "ডিজিটাল টাউন স্কয়ার", চান আরও বেশি কথা বলার সুযোগ—মডারেশন শুধু আইনে যতটা লাগে ততটুকু। অনুসারীদের ভোটে এডিট বাটনের প্রশ্ন রেখেছেন (৭৪ শতাংশ হ্যাঁ), "স্প্যাম বট হারানোর" প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, র্যাংকিং অ্যালগরিদম উন্মুক্ত করতে চান, আর সাবস্ক্রিপশনের কথা ভাসিয়েছেন—টুইটার ব্লুর সদস্যরা টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন ও তথ্য সংগ্রহ এড়াবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেছেন, তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন—তা কি উঠবে? বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খোঁচা দেন: টেসলার বড় বাজার চীনের সরকার কি এইমাত্র টাউন স্কয়ারের ওপর সুবিধা পেল?
এখানে এর মানে
ফেসবুকের পাশে বাংলাদেশে টুইটার ছোট, কিন্তু দেশের সাংবাদিক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও অ্যাকটিভিস্টরা বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কথা বলেন এখানেই, আর সরকারি সংস্থাগুলো ক্রমেই আগে পোস্ট করে এখানে। ঢিলে মডারেশন দুই দিকেই কাটে: বৈধ অ্যাকাউন্ট স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি কম, কিন্তু বাংলাদেশি নারী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে যে সংঘবদ্ধ হয়রানি এরই মধ্যে চলে, তার জায়গা বেশি। পেইড টিয়ারে এখানকার বেশির ভাগ ব্যবহারকারীর কিছু বদলাবে না—টুইটারের স্থানীয় পেমেন্টের পথই নেই।
চুক্তিতে শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন লাগবে; সম্পন্ন হওয়ার কথা ২০২২ সালের শেষ দিকে। টেসলা ও স্পেসএক্স চালানো মাস্ক নিজে টুইটার চালাবেন কি না, স্পষ্ট নয়; সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি গত নভেম্বরে যাঁকে বসিয়েছিলেন, সেই আগরওয়াল সরিয়ে দেওয়া হলে পাবেন প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার।
হালনাগাদ: ২০২২ সালের জুলাইয়ে মাস্ক চুক্তি থেকে সরে যেতে চান, টুইটার মামলা করে, আর ২৭ অক্টোবর ২০২২ মূল দামেই কেনা সম্পন্ন হয়।




