২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর বুধবার একটি সাদা চীনামাটির সিংক হাতে টুইটারের সান ফ্রান্সিসকো সদর দপ্তরে ঢুকলেন ইলন মাস্ক, ভিডিও করলেন, আর ক্লিপটি পোস্ট করলেন ক্যাপশনে "Entering Twitter HQ – let that sink in!" টুইটারের বায়ো বদলে লিখলেন "চিফ টুইট", অবস্থান "টুইটার এইচকিউ"। এপ্রিলে যে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের কেনায় রাজি হয়ে গ্রীষ্মজুড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তা সম্পন্ন করতে ডেলাওয়্যারের আদালতের সময়সীমার দুই দিন আগে বিশ্বের শীর্ষ ধনী স্পষ্ট করলেন: তিনি এসে গেছেন।
আদালতের সময়সীমা পর্যন্ত যেভাবে
- ২৫ এপ্রিল: টুইটারের পর্ষদ মাস্কের শেয়ারপ্রতি ৫৪.২০ ডলারের প্রস্তাব মানে।
- ১৩ মে: স্প্যাম ও বট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা নিয়ে মাস্ক চুক্তি "স্থগিত" ঘোষণা করেন—টুইটার বলে পাঁচ শতাংশের নিচে, তাঁর দাবি অনেক বেশি।
- ৮ জুলাই: আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি বাতিল করেন। চার দিন পর টুইটার ডেলাওয়্যার কোর্ট অব চ্যান্সারিতে মামলা করে তাঁকে চুক্তি সম্পন্ন করতে বাধ্য করতে।
- ৪ অক্টোবর: বিচার দুই সপ্তাহ দূরে, তাঁর ব্যক্তিগত বার্তা আদালতে আসার মুখে—মাস্ক মূল শর্তেই সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেন। বিচারক মামলা স্থগিত করে ২৮ অক্টোবর সময়সীমা দেন।
বিনিয়োগকারীদের যা বলেছিলেন
ওয়াশিংটন পোস্টের খবর, সম্ভাব্য সহ-বিনিয়োগকারীদের মাস্ক বলেছিলেন টুইটারের ৭,৫০০ কর্মীর প্রায় ৭৫ শতাংশ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা তাঁর। পত্রিকাটির মতে টুইটারের নিজের ব্যবস্থাপনাও আলাদাভাবে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ বেতন খাতে ৮০ কোটি ডলার কাটছাঁটের পরিকল্পনা করেছিল—কর্মশক্তির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। মালিক যে-ই হোক, ছাঁটাই আসছিল; বুধবার অফিস ঘুরে মাস্ক কর্মীদের বলেন বলে খবর, ৭৫ শতাংশের সংখ্যাটি পরিকল্পনা নয়।
এখানকার টুইটার ব্যবহারকারীর জন্য এর মানে
ফেসবুকের পাশে বাংলাদেশে টুইটার ছোট প্ল্যাটফর্ম, কিন্তু অসামঞ্জস্যভাবে প্রভাবশালী: সাংবাদিক, কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ আর বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে দেশের তর্ক থাকে সেখানে। মাস্কের ঘোষিত পরিকল্পনা—ঢিলে মডারেশন, পেইড ভেরিফিকেশন, সরকারি অনুরোধ ও হয়রানির অভিযোগ সামলাতে কম কর্মী—অন্যত্রের মতো এখানেও পড়বে, আর প্রথম পরীক্ষা: ট্রাস্ট-অ্যান্ড-সেফটি দল আগের ভগ্নাংশে নেমে এলে সংঘবদ্ধ হয়রানি প্ল্যাটফর্ম কীভাবে সামলায়।
হালনাগাদ: ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মাস্কের প্রথম কাজ: প্রধান নির্বাহী পরাগ আগরওয়াল, অর্থপ্রধান নেড সিগাল ও আইনপ্রধান বিজয়া গাড্ডেকে বরখাস্ত। ৪ নভেম্বর টুইটার প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করে, আর সে মাসেই নীল টিকের জন্য মাসে ৮ ডলারের ফি চালু হয়, ভুয়া পরিচয়ের ঢলে প্রত্যাহার হয়, আবার চালু হয়।




