২০২২ সালের ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পাঁচ ঘণ্টার জন্য ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার ৪ নম্বর হল ছিল ঢাকার সবচেয়ে নীরব ঘর। ৬৯ দেশের ১৩৭টি দল, নীল টি-শার্টে একটি কম্পিউটারে তিন শিক্ষার্থী, বারোটি সমস্যা নিয়ে লড়ছে, আর যে টেবিলগুলো জিতছে, তার পাশে গজাচ্ছে বেলুন—প্রতিটি সমাধানে একটি। রাত পৌনে নয়টায় ফল পড়ে শোনানোর সময় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এগারোটি সমাধান করে ৪৫তম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালের চ্যাম্পিয়ন—দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবার অনুষ্ঠিত ফাইনাল।
মঞ্চে যারা
- সোনা: এমআইটি (১১ সমস্যা); পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় (১০); টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় (৯); সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (৯)—যারা ১১ মিনিটে একটি সমস্যা সমাধান করে সবার আগে খাতা খোলে।
- রুপা: ইটিএইচ জুরিখ; ইকোল নরমাল সুপিরিয়র দ্য প্যারিস; কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি; ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়।
- ব্রোঞ্জ: রাশিয়ার এইচএসই ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি; অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়; ভিয়েতনামের ভিএনইউ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি।
বাংলাদেশ যেমন করল
স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশ পাঠায় আটটি দল, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। বুয়েট ৫১তম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬তম—দুটিই চারটি করে সমস্যা সমাধান করে। বাকি ছয়টি—এআইইউবি, জাহাঙ্গীরনগর, নর্থ সাউথ, রুয়েট, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—পেল সম্মানসূচক স্বীকৃতি। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা অলিম্পিকের ক্রীড়াবিদের মতো ফাইনালের জন্য অনুশীলন করেন, তাদের সামনে চারটি সমস্যা সম্মানজনক; আয়োজনের উচ্চাশার সামনে মনে করিয়ে দেয় অনুশীলনের সংস্কৃতিকে কত দূর যেতে হবে। অক্টোবরে ঢাকা আঞ্চলিক পর্ব জিতে পরের ফাইনালে পৌঁছেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আয়োজন
ফাইনাল চলে ৬ নভেম্বর থেকে; আয়োজক আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, একাডেমিক হোস্ট ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক; অতিথি প্রায় এক হাজার। "আইসিপিসির ওয়ার্ল্ড ফাইনালস দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই প্রথমবারের মতো হলো," সমাপনীতে বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক আইসিপিসি ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ দেন; ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিল পাউচার "সফল আয়োজনের" জন্য পাল্টা ধন্যবাদ দেন বাংলাদেশকে। ইউএপি ও আইসিপিসি ঢাকার পরিচালক কামরুল আহসান, বিসিসির নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমারও বক্তব্য দেন।
যা রয়ে গেল
ট্রফি যায় এমআইটির সঙ্গে, কিন্তু ফাইনাল কিছু রেখেও যায়: গ্যালারি থেকে বিশ্বের সেরাদের দেখা এক প্রজন্মের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, প্রমাণিত ভেন্যু ও স্বেচ্ছাসেবক দল, আর একটি মানদণ্ড। চার আর এগারো সমস্যার ফারাক এখন এমন সংখ্যা, যা দেশের কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগগুলো নিজের চোখে দেখেছে।




