প্রযুক্তি

ঢাকায় হবে আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল: নভেম্বরে বাংলাদেশে আসছে "প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্বকাপ"

৪৫তম ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্টের চূড়ান্ত পর্ব হবে ৬ থেকে ১১ নভেম্বর ২০২২, বসুন্ধরার আইসিসিবিতে; ৭৫ দেশের দেড় শতাধিক দল। কেন এটি বড় ঘটনা।

ঢাকায় হবে আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল: নভেম্বরে বাংলাদেশে আসছে "প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্বকাপ"

বিশ্বের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে মর্যাদার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আসছে ঢাকায়। ২০২২ সালের ৮ মার্চ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে ৪৫তম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালের আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হয়; প্রতিযোগিতা হবে ৬ থেকে ১১ নভেম্বর, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়। ৭৫টি দেশের দেড় শতাধিক দল সরাসরি অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইসিপিসি কী

ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্টের শুরু ১৯৭০ সালে টেক্সাসে। তিন শিক্ষার্থীর দল একটি কম্পিউটার আর পাঁচ ঘণ্টা সময়ে ডজনখানেক অ্যালগরিদমের সমস্যা সমাধান করে; যে দল সবচেয়ে বেশি সমস্যা সবচেয়ে দ্রুত সমাধান করে, জেতে তারাই। প্রতিটি মহাদেশে আঞ্চলিক পর্ব হয়, শুধু বিজয়ীরা ওঠে ওয়ার্ল্ড ফাইনালে। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, সেন্ট পিটার্সবার্গ, মস্কো স্টেট, ওয়ারশ, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়; ওয়ার্ল্ড ফাইনালের পদক কম্পিউটারবিজ্ঞানে অলিম্পিক সোনার সবচেয়ে কাছাকাছি জিনিস, আর গ্যালারিতে বসে থাকেন প্রতিটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানির নিয়োগকর্তারা।

আয়োজন করছে কারা

আয়োজক সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ, সহ-আয়োজক বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, একাডেমিক হোস্ট ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। ঘোষণার আগে আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিল পাউচারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ভেন্যু ও হোটেল ঘুরে দেখে; মঞ্চে ছিলেন আইসিপিসির উপনির্বাহী পরিচালক জেফ ডোনাহু, আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম ও ইউএপির উপাচার্য কামরুল আহসান। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, লক্ষ্য "ছোটবেলা থেকেই তরুণদের প্রোগ্রামিংয়ে উৎসাহিত করা"।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সিকি শতাব্দী

নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইসিপিসিতে অংশ নিচ্ছে। ঢাকা আঞ্চলিক পর্ব পেরিয়ে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ওয়ার্ল্ড ফাইনালে নিয়মিত; বুয়েট একাধিকবার বিশ্বের সেরা ৩০-এ থেকেছে। দেশ কখনো ফাইনাল আয়োজন করেনি, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশও এর আগে করেনি। প্রতিবছর কোডফোর্সেস আর জাতীয় প্রোগ্রামিং ক্যাম্পে যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী খাটেন, তাঁদের জন্য ফাইনাল ভিসার আবেদনের বদলে বাসের দূরত্বে আসাটাই আসল কথা।

স্থানীয় দলের জন্য ফাইনালের পথ ঢাকা আঞ্চলিক পর্ব; নিবন্ধন খুলবে বছরের শেষ দিকে।

দর্শক হিসেবে যা দেখবেন

ফাইনালের পাঁচ ঘণ্টা সরাসরি সম্প্রচার হয়; বড় পর্দায় স্কোরবোর্ডে দেখা যায় কোন দল কোন সমস্যা কত মিনিটে সমাধান করল, আর শেষ ঘণ্টায় স্কোরবোর্ড "ফ্রিজ" হয়ে যায়, যাতে ফল ঘোষণার আগে উত্তেজনা থাকে। শিক্ষার্থীদের দেখার সুযোগ থাকলে, সেটিই হবে সেরা প্রোগ্রামিং ক্লাস।

হালনাগাদ: ফাইনাল হয় ২০২২ সালের ৮-১০ নভেম্বর। চ্যাম্পিয়ন এমআইটি; বাংলাদেশের আটটি দল অংশ নেয়—দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।