প্রযুক্তি

দেশে তৈরি প্রথম নোট রেডমি নোট ১১: ৯০ হার্টজ অ্যামোলেড আর ৩৩ ওয়াট চার্জিং ১৬,৪৯৯ টাকায়

শাওমির গাজীপুর কারখানায় এখন তৈরি হচ্ছে তাদের সবচেয়ে বিক্রীত সিরিজ। নোট ১১-এ স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০, ৬.৪৩ ইঞ্চি ৯০ হার্টজ অ্যামোলেড, ৫,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও ৩৩ ওয়াট চার্জিং—১৬,৪৯৯ টাকা থেকে।

দেশে তৈরি প্রথম নোট রেডমি নোট ১১: ৯০ হার্টজ অ্যামোলেড আর ৩৩ ওয়াট চার্জিং ১৬,৪৯৯ টাকায়

দক্ষিণ এশিয়ায় শাওমিকে শাওমি বানিয়েছে যে ফোন, তা রেডমি নোট: বাজেট দামে মিড-রেঞ্জ স্পেসিফিকেশন, প্রতিবছর নতুন সংস্করণ। ২০২২ সালের ২২ মার্চ নোট ১১ বাংলাদেশে বিক্রি শুরু হলো একটি পার্থক্য নিয়ে। এটি সংযোজিত হয়েছে শাওমির গাজীপুরের কারখানায়—"মেক ইন বাংলাদেশ" কর্মসূচিতে দেশে তৈরি নোট সিরিজের প্রথম ফোন—দাম শুরু ১৬ হাজার ৪৯৯ টাকা থেকে।

যা পাচ্ছেন

  • পর্দা: ৬.৪৩ ইঞ্চি এফএইচডি+ অ্যামোলেড, ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট—এই দামে বিরল, প্রতিদ্বন্দ্বীদের বেশির ভাগে এখনো এলসিডি।
  • চিপ: ২.৪ গিগাহার্টজের কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০, ৬ ন্যানোমিটারের প্রসেসর—গেমিং নয়, ব্যাটারির আয়ুর জন্য বানানো।
  • ব্যাটারি: ৩৩ ওয়াট "প্রো" ফাস্ট চার্জিংসহ ৫,০০০ এমএএইচ; শাওমির দাবি, পুরো চার্জে প্রায় এক ঘণ্টা, চার্জার বাক্সেই।
  • ক্যামেরা: পেছনে ৫০ + ৮ + ২ + ২ মেগাপিক্সেল (মূল, আলট্রাওয়াইড, ম্যাক্রো, ডেপথ), সামনে ১৩ মেগাপিক্সেল।
  • মেমোরি: ৪/৬৪ বা ৬/১২৮ গিগাবাইট, আলাদা মাইক্রোএসডি স্লট।
  • বাড়তি: স্টেরিও স্পিকার, ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক, পাশে আঙুলের ছাপ, আইপি৫৩ ছিটে-পানি প্রতিরোধ, এমআইইউআই ১৩-সহ অ্যান্ড্রয়েড ১১। ফাইভ-জি নেই।

এই ফোনে "দেশে তৈরি" কেন গুরুত্বপূর্ণ

শাওমি ২০২১ সালের অক্টোবরে চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা ডিবিজি টেকনোলজির সঙ্গে গাজীপুরের কারখানা চালু করে। দেশে সংযোজিত ফোনে আমদানি হ্যান্ডসেটের বাড়তি শুল্ক লাগে না; সে কারণেই নোট ১১-এর বাংলাদেশের দাম ভারতের কাছাকাছি, গ্রে আমদানিকারকদের আগের ৪-৫ হাজার টাকার বাড়তি নয়। কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশের বাজারে অত্যাধুনিক সুবিধার স্মার্টফোন আনতে পেরে শাওমি গর্বিত"; ৯০ হার্টজ অ্যামোলেড আর বড় ব্যাটারি তরুণদের টানবে বলে তাঁর আশা।

কেনা কি ঠিক হবে?

১৬,৪৯৯ টাকায় নোট ১১-এর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়েলমি ৯আই, স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১৩ আর শাওমিরই রেডমি ১০। পক্ষে যুক্তি অ্যামোলেড পর্দা আর ৩৩ ওয়াট চার্জিং; বিপক্ষে স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০—ভারী গেম খেললে গত বছরের নোট ১০এস-এর হেলিও জি৯৬ দ্রুততর। বাকি সবকিছুতে—মেসেজিং, ভিডিও, দিনের আলোয় ছবি, দেড় দিনের ব্যাটারি—এই বসন্তে ১৭ হাজার টাকার নিচে সবচেয়ে ভারসাম্যের ফোন এটিই। অনুমোদিত দোকান থেকে কিনুন, যাতে দুই বছরের দেশীয় ওয়ারেন্টি পান, আর বাক্সের গায়ে দেশে তৈরির ছাপটি আছে কি না মিলিয়ে নিন।

কেনার পর প্রথম কাজ

সেটিংস থেকে এমআইইউআই হালনাগাদ করুন, অপ্রয়োজনীয় প্রি-ইনস্টল অ্যাপগুলো আনইনস্টল বা বন্ধ করুন, আর ডিসপ্লে সেটিংসে রিফ্রেশ রেট ৯০ হার্টজে আছে কি না দেখে নিন—কারখানা থেকে অনেক সময় তা ৬০-এ থাকে।

পোস্টার নয়, স্পেসিফিকেশন পড়ুন

বিপণনে যে লাইনগুলো সামনে আসে, এই ফোনের তালিকায় তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দুটি লাইন—আর একই পরীক্ষা যেকোনো বাজেট ফোনে খাটে।

স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০ একটি ফোর-জি চিপ। এই ফোনে কোনো দামেই ফাইভ-জি নেই; ২০২২ সালে বাংলাদেশে এটি যুক্তিসংগত বিনিময় ছিল, তবু কেউ একে ভবিষ্যৎ-উপযোগী বলে বিক্রি করার আগে কথাটি জেনে রাখা ভালো। আর এই দামের বেশির ভাগ ফোনের এলসিডি পর্দার তুলনায় অ্যামোলেড প্যানেলই আসল উন্নতি—ভালো কনট্রাস্ট, সত্যিকারের কালো; আর জেগে থাকা প্রতিটি ঘণ্টায় আপনি এই যন্ত্রাংশটির দিকেই তাকিয়ে থাকেন।

যে লাইনটি কেউ ছাপে না, তা হলো হালনাগাদের নীতি: কত বছর অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ও নিরাপত্তা প্যাচ পাবে ফোনটি। এ বাজারে তিন-চার বছর চালানোর কথা ভাবা যন্ত্রে এই একটি নিরুত্তেজ সংখ্যাই প্রসেসরের চেয়ে বেশি ঠিক করে দেয় অভিজ্ঞতাটি কেমন হবে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।