ছবিটা দেখে মনে হয়েছিল ১ এপ্রিলের জন্য বানানো রসিকতা: মোটাসোটা একজোড়া ওভার-ইয়ার হেডফোন, আর সামনে বাঁকানো একটি ভাইজর, মাস্কের মতো মুখের সামনে ভাসছে কিন্তু মুখ ছুঁচ্ছে না। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার আর হেয়ার ড্রায়ারকে বিলাসপণ্য বানানো ডায়সন ২০২২ সালের ৩০ মার্চ "ডায়সন জোন" ঘোষণা করে বারবার বলেছে, এটি সত্যি। ছয় বছরের উন্নয়ন, ৫০০ প্রোটোটাইপ, আর একসঙ্গে দুটি কাজ: শব্দ বাতিল করা আর বাতাস ছাঁকা।
কীভাবে কাজ করে
প্রতিটি ইয়ার কাপের ভেতরে ছোট একটি কম্প্রেসর আর দুই স্তরের ফিল্টার। ইলেকট্রোস্ট্যাটিক ফিল্টার ধরে সূক্ষ্ম কণা—দক্ষিণ এশিয়ার শহরের প্রধান দূষক পিএম২.৫ ধুলা—আর পটাশিয়ামযুক্ত কার্বনের স্তর শোষণ করে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও ওজোনের মতো গ্যাস। ছাঁকা বাতাস চুম্বকে আটকানো ভাইজর দিয়ে নাক-মুখের সামনে ধারার মতো ছাড়া হয়; ত্বকে কোনো সিল ছাড়াই ব্যবহারকারী পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নেন। বাতাসের গতি তিন ধাপে, হাঁটার গতির সঙ্গে আপনাআপনি বদলায়, ঘরের ভেতরে বন্ধ রাখা যায়; ফোন এলে ভাইজর নামিয়ে দিলেই হয়। ডায়সনের দাবি, ফিল্টার ব্যাকটেরিয়াও আটকায়। অডিওর দিকটা প্রচলিত: অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলিং, বড় ড্রাইভার, আর স্থানীয় বাতাসের মান দেখানো একটি অ্যাপ।
দাম ও তারিখ
ডায়সন বলেছে, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ জোন বাজারে আসবে; দাম জানায়নি। যে কোম্পানির ফ্যান-হিটারের দাম বেশির ভাগ ফোনের চেয়ে বেশি, তার কাছে সস্তা কিছু কেউ আশা করেনি।
ঢাকার জন্য কি অর্থ আছে?
গত শীতের বেশির ভাগ সময় ঢাকা ভুল কারণে বৈশ্বিক বায়ুমানের তালিকার শীর্ষে ছিল; পিএম২.৫ নিয়মিতই ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকার পাঁচ থেকে দশ গুণ। তাই পরিধেয় পিউরিফায়ার এখানে হাস্যকর ধারণা নয়; লন্ডনের চেয়ে বরং বেশি প্রাসঙ্গিক। তবে তিনটি সতর্কতা:
- ভাইজর সিল নয়। ডায়সন সাবধানে জোনকে মাস্ক বলছে না। ভারী যানজটে ঠিকমতো লাগানো ২০০ টাকার এন৯৫ এখনো খোলা বাতাসের ধারার চেয়ে বেশি কণা আটকায়।
- ফিল্টার ফুরায়। বদলাতে হয়, আর ডায়সন এখানে তা বিক্রি করে না।
- ব্যাটারি। কম্প্রেসর আর নয়েজ ক্যানসেলিং একসঙ্গে চললে শোনার সময় কয়েক ঘণ্টায় নেমে আসার কথা।
বেশি কাজের শিক্ষা প্রকৌশলটাই: পরা যায় এমন ছোট ফিল্টার। এটি কাজ করলে সস্তা নকল আসবে, আর মিরপুর রোডে সেগুলোই কাজে লাগবে।
হালনাগাদ: ২০২৩ সালের শুরুতে ডায়সন জোন বাজারে আসে ৯৪৯ ডলারে; বাতাস ছাঁকার সময় ব্যাটারি চলে প্রায় চার ঘণ্টা।




