প্রযুক্তি বাংলাদেশ

দেশের বাজারে রেডমি ১৭ ফাইভ-জি, দাম ৩১,৯৯৯ টাকা—আর পুরো যুক্তিটাই ব্যাটারি

৪৫ ওয়াট চার্জিংসহ ৭,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৬.৯ ইঞ্চি ১২০ হার্টজ পর্দা আর স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ৫—একটিমাত্র ৬ জিবি/১২৮ জিবি সংস্করণে, দাম ৩১,৯৯৯ টাকা।

দেশের বাজারে রেডমি ১৭ ফাইভ-জি, দাম ৩১,৯৯৯ টাকা—আর পুরো যুক্তিটাই ব্যাটারি

শাওমি বাংলাদেশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে ৩১,৯৯৯ টাকায় রেডমি ১৭ ফাইভ-জি এনেছে শাওমি।

যা আছে ফোনটিতে

প্রসেসর স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ৫। পর্দা ৬.৯ ইঞ্চি, রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ব্যাটারি ৭,৫০০ এমএএইচ, সঙ্গে ৪৫ ওয়াট টার্বো চার্জিং, আর সফটওয়্যার হাইপারওএস ৩।

পেছনের ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেল, সামনের ৮ মেগাপিক্সেল। সুরক্ষায় আছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই ও ধুলা-ছিটেফোঁটা পানি প্রতিরোধে আইপি৬৪ রেটিং। রং দুটি, আর সংস্করণ একটিই—৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ।

৭,৫০০ এমএএইচ, দাম ৳৩১,৯৯৯
রেডমি ১৭ ফাইভ-জির ব্যাটারিই মূল সংখ্যা—এমন একটি বাজারে, যেখানে কাজের দিন প্রায়ই নিকটতম নির্ভরযোগ্য সকেটের চেয়ে দীর্ঘ। গ্রাফিক: টেক বিডি।

যে সংখ্যাটি ফোনটিকে যুক্তি দেয়

৭,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি বছরের পর বছর ধরে মধ্যম সারির মান হয়ে থাকা ৫,০০০ এমএএইচের চেয়ে অনেকটাই বড়, আর এ বাজারে এই স্পেসিফিকেশনটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কারণটি জৌলুসহীন। এখানে কাজের দিন প্রায়ই নির্ভরযোগ্য সকেটের নাগালের চেয়ে দীর্ঘ হয়—দীর্ঘ যাতায়াত, লোডশেডিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঠে বা রাস্তায়। যে ফোন চার্জ ছাড়াই পুরো দিন স্বচ্ছন্দে পার করে, সেটি প্রতিদিনের একটি হিসাব মাথা থেকে সরিয়ে দেয়; আর ৪৫ ওয়াট চার্জিং মানে বিদ্যুতের কাছে পৌঁছালে সময়টা কম লাগে।

এই দামে বাজেট খরচের জায়গাটিও এটিই ঠিক। হাতে গোনা যে কটি স্পেসিফিকেশন ক্রেতা প্রতিদিন টের পান, ব্যাটারির ধারণক্ষমতা তার একটি।

ছাড় দিতে হয়েছে কোথায়

আসল সীমাবদ্ধতা ৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ, অন্য কোনো বিকল্প ছাড়া। ৩১,৯৯৯ টাকায় এই বিন্যাস যুক্তিযুক্ত, কিন্তু এটিই একমাত্র—বেশি স্টোরেজ চাইলে বাড়তি টাকা দিয়েও নেওয়ার উপায় নেই, আর ৫০ মেগাপিক্সেলে ভিডিও করলে ১২৮ জিবি দ্রুত ভরে যায়।

স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ৫ প্রবেশস্তর থেকে মধ্যম সারির চিপ। বিজ্ঞপ্তিতে একে উপস্থাপন করা হয়েছে দ্রুত ইন্টারনেট ও স্বচ্ছন্দ মাল্টিটাস্কিংয়ের কথা বলে, যা এই যন্ত্রাংশের জন্য যথাযথ দাবি—ভারী গেমিংয়ের জন্য এটি নয়, আর সেই আশায় ফোনটি কেনা উচিত নয়।

আইপি৬৪ মানে ধুলা ও ছিটেফোঁটা পানি থেকে সুরক্ষা, পানিতে ডোবানোর সুরক্ষা নয়। বৃষ্টিতে পড়লে টিকে যাবে। বালতিতে ফেলার ফোন এটি নয়—আর বর্ষার দেশে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

ঘোষণায় যা নেই

সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাপ্যতার তারিখ জানানো হয়নি, শুধু বলা হয়েছে ফোনটি দেশের বাজারে এসেছে। নেই দ্বিতীয় কোনো মেমোরি সংস্করণ, উল্লেখিত ওয়ারেন্টির মেয়াদ, কিংবা আগের মডেলের সঙ্গে কোনো তুলনা।

এই দামে রেডমি ১৭ ফাইভ-জি লড়ছে দেশের বাজারের সবচেয়ে ভিড়ের জায়গাটিতে, যেখানে কয়েকটি ব্র্যান্ডের পর্দা ও ক্যামেরা মোটামুটি কাছাকাছি। আলাদা করছে ব্যাটারিই—আর প্রকাশিত সংখ্যার বিচারে পার্থক্যটি বিপণনের নয়, সত্যিকারের।

কেনার আগে তিনটি বিষয় দেখে নিন

প্রথমত, কোন পথে আসা পণ্য। শাওমি বাংলাদেশের অফিশিয়াল পণ্য আর গ্রে মার্কেটের আমদানি করা ফোন তাকের ওপর দেখতে একরকম, কিন্তু ওয়ারেন্টি দাবি করতে গেলে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। কোনটি বিক্রি করা হচ্ছে জেনে নিন, আর ওয়ারেন্টির শর্ত মুখের কথায় নয়, লিখিতভাবে নিন।

দ্বিতীয়ত, মেমোরি। ৬ জিবি র‍্যাম এখন যথেষ্ট, আর দুই-তিন বছরে এই স্পেসিফিকেশনটিই সবচেয়ে বেশি টান টান মনে হওয়ার সম্ভাবনা—অ্যাপ বড় হবে, অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ হবে। ওপরের কোনো সংস্করণ নেই যেখানে যাওয়া যায়, তাই সিদ্ধান্ত সোজা—এই দামে এটি মেনে নেবেন, নাকি ৮ জিবি দেয় এমন ফোন দেখবেন।

তৃতীয়ত, চার্জার। অনেক নির্মাতাই এখন বাক্সে চার্জার দেওয়া বন্ধ করেছে। ৪৫ ওয়াট চার্জিং তখনই ৪৫ ওয়াট, যখন আপনার অ্যাডাপ্টারটি তা দিতে পারে; পুরোনো ১০ ওয়াটের চার্জারে ৭,৫০০ এমএএইচ ভরতে গোটা সন্ধ্যা চলে যাবে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।