বিদ্যুৎ বা ওয়াই-ফাই ছাড়াই চলার মতো একটি সৌরচালিত নজরদারি ক্যামেরা দেশের বাজারে আনছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি—মডেলটি টিয়ান্ডি টিসি-এইচ৩৬৩এন ৯ডিবি-৪ ৪জি।
লক্ষ্য সেসব জায়গা, যেখানে সকেটই সমস্যা—নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নেই এমন বাড়ি, খামার, নির্মাণাধীন ভবন, গুদাম আর টানা নজরদারি দরকার এমন নানা স্থাপনা।
বিদ্যুৎ, আর এটাই আসল কথা
ক্যামেরাটিতে আছে ১০,৪০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যা চার্জ হয় ৭.৬ ওয়াটের ইটিএফই সৌর প্যানেল থেকে। টিয়ান্ডির দাবি, সুপার পাওয়ার সেভিং মোডে এক চার্জে চলবে ৩৫ দিন পর্যন্ত, আর ইন্টেলিজেন্ট এভি মোডে ১০ দিন পর্যন্ত।
দুটি সংখ্যার ব্যবধান সাড়ে তিন গুণ, যা থেকেই বোঝা যায় দাবিটি কতটা মোডের ওপর নির্ভরশীল। ৩৫ দিনের সংখ্যাটিই বাক্সে ছাপা হবে; কাজের মতো কাজ করতে থাকা ক্যামেরা বাস্তবে যা দেবে, তা ১০ দিনের কাছাকাছি।

কী দেখতে ও করতে পারে
লেন্স দুটি, প্রতিটি ৩ মেগাপিক্সেলের—একটি স্থির, অন্যটি চারপাশের দৃশ্য ধরে। আছে ডিজিটাল জুম ও অটো-ট্র্যাকিং, আর মানুষ ও যানবাহনকে অন্য নড়াচড়া থেকে আলাদা করে চিনতে পারে—যা মূলত এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ যে, ব্যাটারিচালিত ক্যামেরা তাতে প্রতিটি উড়ে যাওয়া পাখির জন্য জেগে ওঠে না।
আছে ইনফ্রারেড নাইট ভিশন, সংযুক্ত মাইক্রোফোন ও দ্বিমুখী স্পিকার, ফলে দূর থেকে দেখতে থাকা কেউ কথাও বলতে পারবেন। রেকর্ডিং জমা হয় ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মাইক্রোএসডি কার্ডে। কেনার সঙ্গে থাকছে এক বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা।
সূত্রে দুটি ভিডিও কম্প্রেশন ফরম্যাটের নাম আছে, তবে বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ এলোমেলো; প্রায় নিশ্চিতভাবে সেগুলো এইচ.২৬৫ ও এইচ.২৬৪, কিন্তু ঘোষণাটি থেকে তা নিশ্চিত করা যায়নি—তাই একে প্রমাণিত নয়, সম্ভাব্য হিসেবেই ধরা ভালো।
যে খরচটি ঘোষণায় নেই
দুটি জিনিস অনুপস্থিত, যার একটি দাম—বিজ্ঞপ্তিতে সেটি আদৌ নেই। কিনতে আগ্রহীদের তা সরাসরি জেনে নেওয়া উচিত।
দ্বিতীয়টি বেশি কৌতূহলোদ্দীপক। ‘বিদ্যুৎ বা ওয়াই-ফাই ছাড়াই চলে’ কথাটি ঠিক, তবে অসম্পূর্ণ—কারণ মডেলের নামের শেষেই আছে ৪জি। মোবাইল নেটওয়ার্কে ভিডিও পাঠায় এমন ক্যামেরার জন্য সিম ও ডেটা প্যাকেজ লাগে, আর সেই সংযোগ কীভাবে দেওয়া হবে বা চালু রাখতে কত খরচ পড়বে, ঘোষণায় তার ব্যাখ্যা নেই।
দূরের মাঠ বা গুদাম পাহারা দেওয়া ক্যামেরার ক্ষেত্রে মাসিক ওই ডেটা খরচ মোট খরচের বাস্তব অংশ, আর ক্যামেরা যত দিন চলবে সেটিও তত দিন চলবে। ভিডিও হালকা জিনিস নয়। সৌর প্যানেল বিদ্যুৎ বিলের সমাধান করে; ডেটা বিলের কিছুই করে না।
এতে অবশ্য পণ্যটি খারাপ হয়ে যায় না। বিদ্যুৎ ও ব্রডব্যান্ড নেই এমন জায়গায় রোদ আর মোবাইল সিগন্যালে চলা ক্যামেরা এমন একটি সমস্যার সমাধান করে, যার জন্য নইলে মাটি কেটে তার টানা আর ঠিকাদার লাগত। শুধু প্যানেলটি দেয়ালে বসানোর আগে পুরো চলতি খরচটা জেনে নেওয়া ভালো।
৩ মেগাপিক্সেলে আসলে কী পাওয়া যায়
নিরাপত্তা ক্যামেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা হয় রেজল্যুশন নিয়ে। ৩ মেগাপিক্সেল যথেষ্ট এটুকু দেখার জন্য যে কেউ একজন সেখানে আছেন, তাঁর পরনে কী আর তিনি কোন দিকে গেলেন। কুড়ি মিটার দূর থেকে মুখ চিনতে বা কোনাকুনি অবস্থান থেকে গাড়ির নম্বর পড়তে সেটি প্রায়ই যথেষ্ট নয়—অথচ ক্রেতারা সাধারণত ধরে নেন সেটিই কিনছেন।
এটি এই নির্দিষ্ট মডেলের চেয়ে বেশি পদার্থবিদ্যা ও লেন্স বসানোর জায়গার সীমাবদ্ধতা। এ কারণেই ক্যামেরা বসানো উচিত এমন জায়গায়, যেখান দিয়ে মানুষ কাছ দিয়ে যায়—ফটক, দরজা, উঠানের মুখ—দেয়ালের অনেক ওপরে বসিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা দেখানোর বদলে।
আরেকটি বাস্তব কথা: রোদে চলা ক্যামেরার প্যানেল পরিষ্কার রাখতে হয়। শুকনো মৌসুমের ধুলা আর ভেজা মৌসুমের পাতা—দুটিই ব্যাটারির দোষ দেখা দেওয়ার অনেক আগেই চার্জ কমিয়ে দেবে।




