বাংলাদেশ প্রযুক্তি

ঢাকার বাজারে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স আনঅফিশিয়াল ২ লাখ ১২ হাজার টাকা—অফিশিয়াল আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের চেয়ে ত্রিশ হাজার কম

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইফোন ১৮ প্রো বিক্রি শুরু করেছে অ্যাপল, বাংলাদেশে নয়। তবু ফোনগুলো ঢাকার বাজারে আছে, আর অফিশিয়াল পণ্যের সঙ্গে দামের ফারাকটাই পুরো খবর।

ঢাকার বাজারে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স আনঅফিশিয়াল ২ লাখ ১২ হাজার টাকা—অফিশিয়াল আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের চেয়ে ত্রিশ হাজার কম

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কয়েকটি দেশে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বিক্রি শুরু করেছে অ্যাপল। বাংলাদেশ তার মধ্যে ছিল না। তবু ঢাকার মোবাইল বাজারে ফোনগুলো বিক্রি হচ্ছে।

বাজার যা চাইছে

প্রথম আলোর বাজার ঘোরা হিসাব অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো-এর আনঅফিশিয়াল দাম ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা (৬.৩ ইঞ্চি পর্দা, ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ১২ গিগাবাইট র‍্যাম, এ২০ প্রো, ২৫৬ গিগাবাইট, ৪ হাজার ৫৬ মিলিঅ্যাম্পিয়ার) আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর ২ লাখ ১২ হাজার টাকা (৬.৯ ইঞ্চি, ৫ হাজার ৩৯১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার)।

পাশেই আছে অফিশিয়ালভাবে আনা পণ্য: আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৯ টাকা, আইফোন ১৭ এয়ার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৯ টাকা আর আইফোন ১৭ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

বাজারের অন্যত্র গুগলের পিক্সেল ১১ প্রো আনঅফিশিয়াল ১ লাখ ৪০ হাজার আর পিক্সেল ১১ ৯৭ হাজার টাকা, বিপরীতে অফিশিয়াল পিক্সেল ১০ ১ লাখ ৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। অন্য প্রান্তে টেকনোর স্পার্ক ৫০সি অফিশিয়াল ২৩ হাজার ৯৯৯ টাকা—৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দা, ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, হেলিও জি৮১ আর ৫ হাজার ২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি; ক্যামন এয়ার ৪৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ব্যাটারি ৬ হাজার।

বাংলাদেশে এর মানে কী

আইফোনের দুই কলাম পাশাপাশি রাখলেই যে অঙ্কটি গুরুত্বপূর্ণ, তা বেরিয়ে আসে। অফিশিয়াল পথের বাইরে কেনা নতুন, এ দেশে অপ্রকাশিত একটি ফোনের দাম ওই পথের ভেতরে কেনা গত বছরের সর্বোচ্চ মডেলের চেয়ে ৩০ হাজার ৯৯৯ টাকা কম। এটি চোরাচালানের গল্প নয়; এটি মাপ—অফিশিয়াল পথটি ক্রেতার কত খরচ করায়।

এ ফারাকের বড় অংশ কর ও শুল্ক, আর কিছুটা ছোট বাজার হওয়ার কাঠামোগত খরচ—যেখানে আমদানিকারককে আগেই পণ্য তুলে রাখতে হয়। ধূসর আমদানিকারক বহন করেন একটি স্যুটকেস। অফিশিয়াল পরিবেশক বহন করেন মজুত, ওয়ারেন্টির দায়, ভ্যাট আর খুচরা নেটওয়ার্ক।

ঠিক এ কারণেই তুলনাটি যতটা সরল দেখায় ততটা নয়, আর সৎ পরামর্শটি অঙ্কের উল্টো দিকে যায়। ওই ৩০ হাজার ৯৯৯ টাকায় যা মেলে, তা এমন একটি যন্ত্র—যার বাংলাদেশি ওয়ারেন্টি নেই, সার্ভিস সেন্টারের দায় নেই, আর তৃতীয় মাসে নষ্ট হলে প্রতিকারও নেই। এখানে কখনো বিক্রি হয়নি এমন ফোনকে অ্যাপলের নিজের মেরামত নেটওয়ার্ক স্বীকার করে না, আর যে দোকান বেচেছে তা আগামী বছর থাকতেও পারে না।

দ্বিতীয় একটি খরচও আছে, কম দৃশ্যমান। ধূসর পথে আসা ফোনের আইএমইআই বিটিআরসির ডেটাবেজে নিবন্ধিত না-ও থাকতে পারে, আর নিয়ন্ত্রক অনিবন্ধিত যন্ত্র নেটওয়ার্কে আটকানোর দিকে বারবার—যদিও অসংগতভাবে—এগিয়েছে। আজ চলছে এমন ফোন আগামী বছর সংযোগ পাবে, তার নিশ্চয়তা নয়।

এ তালিকা পড়ার কাজের উপায়টি আইফোন বনাম আইফোন নয়ই। সেটি তালিকার তলা: ৫ হাজার ২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি আর ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ২৩ হাজার ৯৯৯ টাকার ফোনটিই বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্রেতা আসলে বেছে নিচ্ছেন, আর অফিশিয়াল-আনঅফিশিয়ালের প্রশ্ন বাজারের ওই প্রান্তে প্রায় পৌঁছায়ই না।

ফোন কেনার পর অ্যাপল যন্ত্রটি নিয়ে কী করে, তা আছে সেটিংসের ভেতরে বিজ্ঞাপনের খবরে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।