অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে জেমিনাইয়ের নতুন মডেল ছেড়েছে গুগল। জটিল কাজের জন্য তৈরি জেমিনাই ৪ আর্গন প্রতিষ্ঠানটির নিজের সব মডেলের তুলনায় আকারে বড় ও শক্তিশালী বলে তারা জানিয়েছে।
কে ব্যবহার করতে পারবে
গুগলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় আর্গন ওপেনএআইয়ের অ্যাস্ট্রা ও অ্যানথ্রপিকের ক্লড ওপাস মডেলের মতো সক্ষমতা দেখিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কেবল নির্বাচিত কয়েকটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করতে পারবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কখন ছাড়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা জানাননি।
গুগলের তথ্যমতে, শিল্প খাতের কয়েকটি মানদণ্ডে নিজেদের পরীক্ষায় আর্গন অ্যাস্ট্রা ও ওপাসের চেয়ে ভালো করেছে—তবে সব পরীক্ষায় নয়। প্রকাশিত চারটি কোডিং পরীক্ষার দুটিতে আর্গন প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
মডেলটি কয়েক মাস আগেই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুগল। মডেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি এআই গবেষণাগার ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহীসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগে তারা দেরি করে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
ওই সংক্ষিপ্ত বিবরণের তিনটি বিষয় আলাদা করা দরকার, কারণ সেগুলো ভিন্ন দিকে ইশারা করে।
প্রথমটি সততা, আর তা কৃতিত্ব দেওয়ার মতো বিরল। যে প্রতিষ্ঠান চারটি মানদণ্ড প্রকাশ করে দুটিতে হারে, সে আপনাকে সত্যিকারের কিছু বলছে। এ শিল্পের দস্তুর হলো আপনি যেগুলোয় জেতেন সেই চিত্রগুলোই প্রকাশ করা; গুগল প্রকাশ করেছে যেগুলোয় জেতেনি সেগুলোও। অ্যাস্ট্রা ও ওপাসের সমান হওয়ার দাবিটিকে যা, তাই ধরুন—বিক্রেতার নিজের পরীক্ষা—তবে ওই দুটি হারকেই ধরুন বেশি তথ্যবহ অঙ্ক হিসেবে।
দ্বিতীয়টি ছাড়ার ধরন, আর এখানেই আসল কথা। একটি ফ্রন্টিয়ার মডেল প্রথমে যাচ্ছে গুটিকয় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে, বাকিদের জন্য কোনো তারিখ ছাড়াই—এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত, জনসাধারণের আগে কারা নতুন ব্যবস্থাটি খুঁটিয়ে দেখতে পারবে তা নিয়ে। যুক্তিটি রক্ষণীয়—সাইবার নিরাপত্তার কাজে পারদর্শী মডেল তার আক্রমণাত্মক অর্ধেকেও পারদর্শী। পরিণতি হলো, সক্ষমতাটি আছে, ব্যবহৃত হচ্ছে, আর ওই তালিকার বাইরে থেকে তা পরীক্ষাযোগ্য নয়। কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান তালিকায় নেই, থাকবেও না।
তৃতীয়টি দেরি, আর এখানেই সপ্তাহের খবরগুলো মেলে। নিরাপত্তার উদ্বেগ আর এআই গবেষণাগারের নেতৃত্বের পদত্যাগে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়ে যাওয়া মডেল পিছিয়ে দিয়েছে—এ মাসে তার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ভেতরেও একই ধরনের তর্ক দেখা গেছে। মডেল নিয়ে যে সিদ্ধান্তেই আসুন, যাঁরা এগুলো বানাচ্ছেন তাঁরা আত্মবিশ্বাসী মানুষের মতো আচরণ করছেন না।
বাংলাদেশ যা নিয়ে কিছু করতে পারে, তা সরু। এ দেশে ব্যবহৃত কোনো পণ্যে—সার্চে, ওয়ার্কস্পেসে, কোনো ব্যাংকের প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থায়—যখন কোনো মডেল আসে, তখন যা আসে তা গড়ে উঠেছে ক্যালিফোর্নিয়ায় মিটে যাওয়া এক নিরাপত্তা-তর্কে, আর স্থানীয় প্রয়োগ সেটি আবার বলবে না। কোন মডেল সংস্করণে পণ্যটি চলে আর সেটি কোন মূল্যায়ন পেরিয়েছে—বিক্রেতাকে এ প্রশ্ন করা যুক্তিসংগত ক্রয়-প্রশ্ন, যা প্রায় কেউই করে না।
প্রতিদ্বন্দ্বী একটি মডেলের জেলব্রেক প্রমাণ আছে কিমি পর্যালোচনায়।




