জেমিনাইয়ে পারসোনাল অ্যাভাটার যুক্ত করেছে গুগল। এই সুবিধায় ব্যবহারকারীর নিজের চেহারা ও কণ্ঠস্বর থেকে একটি ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি হয়, আর সেই প্রতিরূপ ছবি ও ভিডিওতে হাজির হতে পারে—ক্যামেরার সামনে আর দাঁড়াতে হয় না।
প্রস্তুতি ইচ্ছে করেই সংক্ষিপ্ত। নিজের চেহারার ছবি তুলতে হবে, কণ্ঠস্বর রেকর্ড করতে হবে। কম্পিউটার থেকে শুরু করলে জেমিনাই একটি কিউআর কোড দেখায়; স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে সেটি স্ক্যান করে কণ্ঠ রেকর্ড করতে হয়।
কী করা যাবে
অ্যাভাটার তৈরি হয়ে গেলে তা দিয়ে নানা ধরনের ছবি ও ভিডিও বানানো যায়। সুবিধাটির মূল কথাই হলো নতুন করে কিছু ধারণ করতে হয় না—চেহারাটি সংরক্ষিত থাকে, তাই প্রতিটি নতুন কনটেন্ট আসলে একটি জেনারেশন, কোনো শুটিং নয়।
পারসোনাল অ্যাভাটার দিয়ে ভিডিও বানাতে গুগল এআই প্ল্যান লাগবে। ঘোষণায় দাম বলা হয়নি, কোন কোন দেশে পাওয়া যাবে তা–ও নয়; ভিডিওর দৈর্ঘ্য বা সংখ্যার সীমাও উল্লেখ নেই।

নিজের চেহারা অন্যকে ধার দেওয়া
যে অংশটি মনোযোগ দাবি করে, তা হলো শেয়ার করা। বন্ধু, পরিবার বা সহকর্মীর জিমেইল ঠিকানায় আমন্ত্রণ পাঠিয়ে অ্যাভাটার দেওয়া যায়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে তাঁরা নিজেদের বানানো কনটেন্টে আপনার চেহারা ব্যবহার করতে পারবেন।
মালিকের হাতে কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকে। জেমিনাইয়ের সেটিংসে ঠিক করা যায় কে ব্যবহার করবেন ও কত দিন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমতি দেওয়া যায়, আর যেকোনো সময় তা বাতিল করা যায়। বাতিলের পর ওই ব্যক্তি আপনার চেহারা দিয়ে নতুন ছবি বা ভিডিও বানাতে পারবেন না।
যে বাক্যটি দুবার পড়া দরকার
আগে বানানো কনটেন্ট মুছে যায় না। অনুমতি বাতিল করলে ভবিষ্যতে বানানো বন্ধ হয়; অনুমতি চালু থাকা অবস্থায় যা বানানো হয়েছে, তার কিছুই হয় না।
প্রকৌশলগতভাবে এটি যুক্তিসংগত—গুগল অন্যের ডাউনলোড বা ফাইলে হাত দিতে পারে না। কিন্তু এতে ‘বাতিল’ শব্দের অর্থ বদলে যায়। চেহারা ধার দেওয়া চাবি ধার দেওয়ার মতো নয়, যা ফেরত নেওয়া যায়। বরং ফটোকপিয়ার ধার দেওয়ার মতো: নতুন কপি বানানো বন্ধ করা যায়, কিন্তু ততক্ষণে যত কপি হয়েছে সব তাঁদেরই।
দলীয় উপস্থাপনায় সহকর্মীর ক্ষেত্রে এই পার্থক্য নিরীহ। কিন্তু সম্পর্ক তিক্তভাবে শেষ হলে, কিংবা সহকর্মী খারাপভাবে চাকরি ছাড়লে, এটিই পুরো প্রশ্ন।
এখনই কেন
অ্যাভাটার তৈরির সুবিধা নানা প্রোডাক্টে আগেও ছিল, বেশির ভাগই চমক হিসেবে। গুগল যোগ করেছে সামাজিক স্তরটি—চেহারার জন্য একটি অনুমতি ব্যবস্থা, আমন্ত্রণ, মেয়াদ আর বাতিলের বোতামসহ। এতেই স্বীকার করে নেওয়া হলো, কঠিন কাজটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরূপ বানানো ছিল না—কঠিন ছিল কে তা ব্যবহার করতে পারবেন তা ঠিক করা।
রেকর্ড করার আগে
দুটি বিষয় আগে ঠিক করা ভালো। অ্যাভাটারটি আদৌ শেয়ারযোগ্য রাখবেন কি না—সবচেয়ে নিরাপদ বিন্যাস সেটিই, যা কখনো ধার দেওয়া হয় না। আর ধার দিলে মেয়াদ বেঁধে দিন; মেয়াদসহ অনুমতি নিজেই শেষ হয়, খোলা অনুমতি কারও মনে পড়া পর্যন্ত টিকে থাকে।
বাংলাদেশের ব্যবহারকারীর জন্য যা অজানা
ঘোষণায় সবচেয়ে বড় ফাঁকটি ভৌগোলিক। কোন কোন দেশে সুবিধাটি চালু হয়েছে তা বলা হয়নি, আর গুগলের এ ধরনের সুবিধা সাধারণত ধাপে ধাপে ছাড়া হয়। ফলে বাংলাদেশ থেকে এটি এখনই পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
দ্বিতীয় অনিশ্চয়তা দামের। ভিডিও বানাতে গুগল এআই প্ল্যান লাগবে বলা হলেও মূল্য জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশনের ক্ষেত্রে দেশে বাড়তি সমস্যা হলো পরিশোধের পথ—আন্তর্জাতিক লেনদেনে চলে এমন কার্ড সবার থাকে না।




