পোষা প্রাণী হারানো মানুষদের লক্ষ্য করে একধরনের প্রতারণা ব্রিটেনে ছড়াচ্ছে। এটি কাজ করছে, কারণ মালিক যে একটিমাত্র প্রমাণ চান—একটি ছবি—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেটি বানানো একেবারে সহজ করে দিয়েছে।
ধরনটি একই রকম। কেউ একজন যোগাযোগ করে বলেন, প্রাণীটি তিনি পেয়েছেন; বিশ্বাসযোগ্য একটি ছবি পাঠান; সহানুভূতি পাওয়ার মতো একটি গল্প বানান; তারপর পুরস্কার চান। মালিক দ্বিধা করলে বা প্রশ্ন করলে দাবি গিয়ে ঠেকে প্রাণীটিকে বিক্রি বা হত্যার হুমকিতে।
তিন মালিক, একই চিত্রনাট্য
বার্মিংহামের স্টেফানি ইয়াং–এর বিড়াল বাডি হারিয়ে যায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। মেলিসা নামে এক নারী বাডির ছবি পাঠিয়ে বলেন, তিনি বিড়ালটিকে খাওয়াচ্ছেন, আর তাঁর অটিস্টিক নাতি-নাতনিদের জন্য পুরস্কার চান। ইয়াং ‘শতভাগ নিশ্চিত’ ছিলেন এটি বাডি।
নির্ধারিত জায়গায় মেলিসা আসেননি, নগদ টাকা নিতে রাজি হননি, চেয়েছেন ১০০টি অ্যাপল গিফট কার্ড। ইয়াং যখন বুঝতে পারেন ছবিগুলো এআই দিয়ে বানানো এবং তা বলেন, তখন আসে ‘বিক্রি বা খুন’ করার হুমকি। ১৩ মাস পরও বাডির খোঁজ নেই।
তিনি বলেন, ‘অস্বীকার করব না, শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি চায় বিড়ালটা ফিরে আসুক। ওরা আটকে ফেলতে পারে—যত চায়, তত মনে হয় দিয়েই দিই।’

ওয়েডনেসবারির সুপারমার্কেটকর্মী ক্যাম চৌহান–কে তাঁর বিড়াল ক্রিড হারানোর নয় মাস পর ‘হুবহু একটি ছবি’ পাঠানো হয় এবং ২০০ পাউন্ডের অ্যাপল গিফট কার্ড চাওয়া হয়—এবারও প্রেরকের অটিস্টিক সন্তানদের কথা বলে। টাকা হাতবদলের আগেই তাঁর মেয়েরা সন্দেহ প্রকাশ করেন।
নর্দাম্পটনের সারা রবিনসন–এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন খেরসন এইচ নামে একজন। জানালার পাশে তাঁর বিড়াল কুকির ছবি পাঠিয়ে তিনি ৪০ হাজার পাউন্ড দাবি করেন এবং টাকা পাঠানোর লিংক দেন। রাজি না হওয়ায় বিড়ালটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। সারা বলেন, ‘ভয়ংকর, কারণ আপনি জানেন এটা সত্যি নয়, তবু ভয় হয় যদি সত্যি হয়।’
কেন কাজ করছে
এই প্রতারণার প্রতিটি উপাদানই এআইয়ের আগেও ছিল। বদলেছে প্রমাণটি। নির্দিষ্ট একটি প্রাণীর ছবি বিশ্বাসযোগ্য বাগানে বসিয়ে বানাতে আগে হয় প্রাণীটি লাগত, নয়তো দক্ষতা; এখন লাগে একটি প্রম্পট।
অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ড. রাশা কাসেম বলেন, অনলাইন প্রতারণায় এআই এখন ‘বড় ভূমিকা’ রাখছে, কারণ যা কারিগরিভাবে কঠিন ছিল তা এখন ‘খুব সহজ, সহজলভ্য আর বিনা মূল্যে’। তাঁর সতর্কবার্তাটিই মনে রাখার মতো: ‘দেখতে আসল মানেই আসল নয়।’
তিনি বলেন, অপরাধীরা ইচ্ছে করে তাড়াহুড়ার পরিবেশ তৈরি করে। টাকা পাঠানোর আগে সময় নিতে হবে, আর তাদের সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
প্রযুক্তিটি অপরাধীদের হাতে যাওয়ায় ব্রিটেনে প্রতারণা বেড়েছে—২০২৫ সালে প্রতারকেরা হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১৩০ কোটি পাউন্ড।
গিফট কার্ডই চিহ্ন
তিনটির মধ্যে দুটিতেই চাওয়া হয়েছে অ্যাপল গিফট কার্ড, আর এই খুঁটিনাটিই রোগনির্ণয়ের মতো। প্রতারকদের কাছে গিফট কার্ড প্রিয় একটিই কারণে: কোড পড়ে শোনানো হলেই টাকা শেষ, কোনো ব্যাংক তা ফেরাতে পারে না। সত্যিকারের কেউ প্রাণীটি পেলে গিফট কার্ড দিয়ে তাঁর কিছুই হয় না।
বদলে যা করবেন
তিনজনই সিটি অব লন্ডন পুলিশের রিপোর্ট ফ্রডে অভিযোগ করেছেন। সংস্থাটির পরামর্শ, টাকা দেওয়ার আগে সশরীরে প্রাণীটি দেখার ব্যবস্থা করুন।
হারানো প্রাণী খোঁজার বিনা মূল্যের সেবা পবুস্ট বলছে, স্থিরচিত্র নয়—ছোট একটি ভিডিও বা ভিডিও কল চান, যেখানে প্রাণীটির বিশেষ কোনো চিহ্ন দেখা যায়; দেখা করুন নিরাপদ ও জনবহুল জায়গায়; আর এমন প্রশ্ন করুন যার উত্তর কেবল প্রাণীটি যাঁর কাছে আছে তিনিই জানবেন—যেমন গলায় কী ধরনের বেল্ট ছিল।
সব মিলিয়ে কথাটি হলো, স্থিরচিত্র এখন সবচেয়ে দুর্বল প্রমাণ—আর এই প্রতারণাগুলো কেবল সেটিই দিতে পারে।




