প্রযুক্তি বিশ্ব

পরিকল্পিত চারটি ডেটা সেন্টার ভাবছে গ্যাসচালিত বিদ্যুতের কথা, কার্বন ছাড়াবে তিন শহরের যোগফলকেও

বাজেটে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, গ্রিডের অপেক্ষায় ডেটা সেন্টার নিজেরাই বিদ্যুৎ বানাতে পারবে। চারটি ইতিমধ্যে গ্যাস ভাবছে, যার কার্বন ম্যানচেস্টার, লিভারপুল ও সাউদাম্পটনের যোগফলের চেয়েও বেশি।

পরিকল্পিত চারটি ডেটা সেন্টার ভাবছে গ্যাসচালিত বিদ্যুতের কথা, কার্বন ছাড়াবে তিন শহরের যোগফলকেও

বিবিসির অনুসন্ধান বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে নিট জিরো কার্বন নিঃসরণে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য যুক্তরাজ্য সরকারের, এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে তাদেরই নতুন ব্যবস্থায় তা ব্যাহত হতে পারে।

বাজেট বক্তৃতায় চ্যান্সেলর জন হিলি জানান, গ্রিড সংযোগের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ডেটা সেন্টারগুলো নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে পারবে। বিবিসি ফাইল অন ফোর ইনভেস্টিগেটস দেখেছে, পরিকল্পিত চারটি ‘হাইপারস্কেল’ ডেটা সেন্টার—যার তিনটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণে—ইতিমধ্যে গ্যাসচালিত বিদ্যুতের কথা ভাবছে।

সংখ্যাটি

এই চারটি যদি পূর্ণ সক্ষমতায় একটানা চলে, বিবিসির হিসাবে তাদের লাগবে ১.৩ গিগাওয়াট আর বছরে কার্বন নিঃসরণ হতে পারে আনুমানিক ৪১ লাখ টন। এটি ম্যানচেস্টার, লিভারপুল ও সাউদাম্পটন শহরের যোগফলের চেয়েও বেশি।

পরিবেশবিষয়ক নিরীক্ষা কমিটির সভাপতি, লেবার এমপি টবি পারকিন্স বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার এত বাড়া ‘ভবিষ্যৎ হতে পারে না’। তিনি যোগ করেন, ‘সরকারের কাজ এটা বলা নয় যে যে-ই আসতে চায় আসুক, যেভাবে খুশি বিদ্যুৎ জোগাড় করুক—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

বছরে ৪১ লাখ টন
গ্যাসচালিত বিদ্যুতে চললে পরিকল্পিত চারটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার যত কার্বন ছাড়তে পারে—ম্যানচেস্টার, লিভারপুল ও সাউদাম্পটন মিলিয়ে যা ছাড়ে তার চেয়েও বেশি। গ্রাফিক: টেক বিডি।

গ্রিড কেন নয়

কারণ গ্রিডে জায়গা মিলছে না। জ্বালানি নিয়ন্ত্রক অফজেম বলছে, ডেটা সেন্টার নির্মাতারা মোট ৭২ গিগাওয়াট সংযোগ চাইছে। তুলনার জন্য—গত বছর পুরো যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ৪৫ গিগাওয়াট।

কিছু নির্মাতাকে বলা হয়েছে, সংযোগের উপযোগী করে ব্যবস্থা উন্নত করতে ১০ বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। অফজেমের বাজার গোয়েন্দা ও তদারকি বিভাগের প্রধান নাথান ম্যাকউইনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় গ্রিড সক্ষমতার শেষ সীমায়। এসব সংযোগের চাহিদার মাত্রা ভুলে যাওয়া সহজ। প্রকল্পগুলো কখনো কখনো একেকটা শহরের সমান।’

এই সারিই নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মটির কারণ। এতেই বোঝা যায় গ্যাস কেন আকর্ষণীয়: যাঁকে সংযোগের জন্য এক দশক অপেক্ষা করতে হবে, তিনি চালু করার জন্য এক দশক অপেক্ষা করবেন না।

যে দুটির হিসাব জানা

লন্ডনের পশ্চিমে একর স্লাউ–তে নির্মাতারা বলছেন, ন্যাশনাল গ্রিড সংযোগের অপেক্ষায় তাঁরা ৪৯.৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত সক্ষমতার গ্যাস ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারেন। সংযোগ পেতে অন্তত ১০ বছর লাগতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

বাকিংহামশায়ারে এম৪০–এর পাশে ওয়াপসিস উড–এ প্রস্তাবিত ২০০ মেগাওয়াটের একটি গ্যাসবিদ্যুৎকেন্দ্র চলতে পারে যথেষ্ট গ্রিড সক্ষমতা না আসা পর্যন্ত—যা এখনকার হিসাবে ২০৪০ সালের আগে নয়।

বাকিংহামশায়ারের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর ও ক্লাইমেট পার্টির নেতা এড জেমেল বলেন, ‘পরিবেশের জন্য এটি আমাদের জন্য বিপর্যয় হবে।’

সরকার যা বলছে

সরকার বলেছে, ডেটা সেন্টার ‘ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য’। তারা নতুন ডেটা সেন্টার কভেন্যান্টের কথা বলছে, যাতে নির্মাতাদের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রত্যাশা রাখা হয়েছে—জ্বালানি ব্যবস্থায় তারা যে খরচ চাপায় তার ন্যায্য অংশ দেবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল আনবে।

বাজেটে ঘোষিত এই কভেন্যান্টে অগ্রাধিকার সংযোগের বিনিময়ে স্থানীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও পানির উৎস রক্ষার শর্ত আছে। একই বক্তৃতায় সংযোগ না মিললে নিজস্ব বিদ্যুতের অনুমতি দেওয়া হয়—এই ধারাটিই চারটি কেন্দ্রের ভরসা।

স্থানীয়ভাবে গ্যাস মানে কী

পরিবেশ সংস্থা গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যানের প্রচারপ্রধান অলিভার হেইস আশপাশের মানুষের জন্য পরিণতিটি বলেন, ‘গ্যাসে চালালে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দরজার সামনে বিশাল গ্যাস টারবাইন বসবে, বিপুল বায়ুদূষণ হবে, প্রচণ্ড শব্দ হবে, আর স্থানীয় পানির উৎস থেকে বিপুল পানি টানা হবে।’

দুই দশকের বেশি সময় ধরে ব্রিটেনে ডেটা সেন্টার আছে—স্ট্রিমিং, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবা চলে সেখান থেকেই। নতুন প্রজন্মটি আলাদা: এআইয়ের জন্য বানানো, অনেক বড়, আর আসছে এমন সময়ে যখন গ্রিড এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।