প্রযুক্তি

ডেটা সেন্টার দিয়ে ফিনল্যান্ডের একটি শহর গরম রাখবে গুগল: হামিনায় ১১০ কোটি ডলারের সম্প্রসারণ, ২০২৫ সালের মধ্যে এলাকার ৮০% উষ্ণতা সার্ভারের তাপ থেকে

হামিনার ডেটা সেন্টারে প্রায় ১১০ কোটি ডলার ঢালছে গুগল আর শহরের বিদ্যুৎ সংস্থা হ্যামিনান এনার্জিয়ার সঙ্গে সার্ভারের বর্জ্য তাপ পাইপে পাঠাবে বাড়ি, স্কুল ও সরকারি ভবনে—যেকোনো জায়গায় এর প্রথম এমন প্রকল্প। এআই কেন তাপের সমস্যা জরুরি করে, ডিস্ট্রিক্ট হিটিং কীভাবে তা ধরে, আর এই ধারণার যে রূপ উষ্ণতা নয়, শীতলতা দরকার এমন দেশে খাটে।

ডেটা সেন্টার দিয়ে ফিনল্যান্ডের একটি শহর গরম রাখবে গুগল: হামিনায় ১১০ কোটি ডলারের সম্প্রসারণ, ২০২৫ সালের মধ্যে এলাকার ৮০% উষ্ণতা সার্ভারের তাপ থেকে

তাপগতিবিদ্যার হিসাবে ডেটা সেন্টার একটি হিটার, যা ঘটনাচক্রে হিসাব কষে। সার্ভারে ঢোকা প্রতিটি ওয়াট বেরোয় উষ্ণতা হয়ে, আর সবচেয়ে দ্রুত বাড়া কম্পিউটিং—এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও চালানো—সবচেয়ে গরম। গুগল এখন ঘোষণা করল সেই তাপের কিছুটা দিয়ে কী করবে: একটি শহর গরম রাখবে। ফিনল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের হামিনার ডেটা সেন্টারে তারা বিনিয়োগ করছে মোটামুটি ১০০ কোটি ইউরো (১১০ কোটি ডলার), আর ২০২৫ থেকে শহরের জ্বালানি কোম্পানি হ্যামিনান এনার্জিয়া সার্ভারের নির্গত তাপ ধরে পাইপে পাঠাবে হামিনার বাড়ি, স্কুল ও সরকারি ভবন গরম রাখা ডিস্ট্রিক্ট-হিটিং নেটওয়ার্কে। গুগল বলছে, এলাকার উষ্ণতার চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ মেটাবে। কোম্পানিটি কোথাও এটি করছে এই প্রথম।

এখন কেন

গুগল এক দশক ধরে নিজের ভবনের ভেতরে তাপ পুনরুদ্ধার করেছে, কিন্তু মাপ বদলেছে। এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা তীব্রভাবে ঠেলে তুলেছে—গুগলের নিজের নির্গমন গত বছর বেড়েছে ১৩ শতাংশ, মূলত সে কারণে—আর ২০৩০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বনের কোম্পানিটির প্রকাশ্য লক্ষ্য এখন বিশ্লেষকেরা খোলাখুলি সন্দেহ করেন। নইলে বাতাসে ছাড়া তাপ বেচা অল্প কয়েকটি লিভারের একটি, যা একই সঙ্গে শহরের জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমায় আর ডেটা সেন্টারের নিজের হিসাব ভালো করে। হামিনা শুরুর ভালো জায়গা: বাল্টিকের ধারে, জায়গাটি ছিল কাগজকল, আর সার্ভার ইতিমধ্যে সমুদ্রের পানিতে ঠান্ডা হয়।

ডিস্ট্রিক্ট হিটিং যেভাবে তা ধরে

ফিনিশ শহরগুলো রাস্তার নিচে গরম পানির পাইপ চালায়, কেন্দ্রীয় প্ল্যান্ট থেকে; ভবনগুলো নিজের জ্বালানি পোড়ানোর বদলে লুপ থেকে নেয়। সার্ভার হল চলে ২৫–৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; হিট পাম্প তা তোলে লুপের দরকারি ৬০–৯০ ডিগ্রিতে, আর তা করার বিদ্যুৎ সার্ভার প্রথমে যা খেয়েছে তার ভগ্নাংশ। মেটা ডেনমার্কের ওডেন্সে একই রকম কিছু করে; মাইক্রোসফট এসপোতে তা-ই গড়ছে। নর্ডিক শহরে প্রশ্ন আর ডেটা সেন্টারের তাপ ব্যবহার করা হবে কি না নয়, একটি হিটিং নেটওয়ার্ক কতগুলো ডেটা সেন্টার শুষতে পারে।

বাংলাদেশে যে রূপ খাটে

ঢাকায় কারও ডিস্ট্রিক্ট হিটিং দরকার নেই। কিন্তু একই পদার্থবিদ্যা উল্টো দিকে চলে: কালিয়াকৈরের জাতীয়টিসহ বাংলাদেশের ডেটা সেন্টার বিদ্যুতের বেশির ভাগ খরচ করে কখনো না থামা জলবায়ুতে শীতলীকরণে, আর সবচেয়ে সস্তা কিলোওয়াট-ঘণ্টা সেটিই যা ব্যবহার হয় না। হামিনা থেকে প্রাসঙ্গিক ধারণা সমুদ্রের পানির শীতলীকরণ আর বর্জ্য তাপকে ঠান্ডায় বদলানো অ্যাবজর্পশন চিলার—গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ডেটা সেন্টারে সিঙ্গাপুরের পরিকল্পনার পেছনের প্রযুক্তি, আর এআই দশকের জন্য গড়া যেকোনো বাংলাদেশি অপারেটরের এখনই দাম কষা উচিত এমনটি।

সূত্র: দ্য ভার্জ, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।