প্রযুক্তি

থ্রি মাইল আইল্যান্ড ফের খুলছে মাইক্রোসফট: আমেরিকার সবচেয়ে খারাপ পারমাণবিক দুর্ঘটনার জায়গা থেকে এআই ডেটা সেন্টার চালাতে ২০ বছরের চুক্তি

কনস্টেলেশন এনার্জি ১৬০ কোটি ডলার খরচে ২০১৯ সালে টাকার অভাবে বন্ধ হওয়া থ্রি মাইল আইল্যান্ডের ইউনিট ১ চালু করবে আর এর পুরো ৮৩৫ মেগাওয়াট ২০২৮ থেকে বিশ বছর মাইক্রোসফটকে বেচবে। পাশের ইউনিট ২ ১৯৭৯ সালে আংশিক গলে গিয়েছিল। এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা কেন পারমাণবিককে আবার সম্মানজনক করল, চুক্তি গ্রিড নিয়ে কী বলে, আর বাংলাদেশের নিজের চুল্লি কোথায় খাটে।

থ্রি মাইল আইল্যান্ড ফের খুলছে মাইক্রোসফট: আমেরিকার সবচেয়ে খারাপ পারমাণবিক দুর্ঘটনার জায়গা থেকে এআই ডেটা সেন্টার চালাতে ২০ বছরের চুক্তি

পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে থ্রি মাইল আইল্যান্ড নামের মানে একটিই: ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চের সকাল, যখন আটকে যাওয়া একটি ভালভ ও ভুল পড়া একটি গেজ পেনসিলভানিয়ার সাসকুয়েহানা নদীর কেন্দ্রের ইউনিট ২-এর আংশিক মেল্টডাউন ঘটায়—আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পারমাণবিক দুর্ঘটনা, যদিও কাউকে মারেনি। এ মাসে নামটি পেল দ্বিতীয় মানে। মাইক্রোসফট বিশ বছরের চুক্তি করেছে কেন্দ্রের অন্য চুল্লি ইউনিট ১-এর প্রতিটি মেগাওয়াট কিনতে, যাকে এর মালিক কনস্টেলেশন এনার্জি মৃত থেকে ফেরাবে।

চুক্তি

ইউনিট ১ ১৯৭৯ সালে অক্ষত ছিল আর আরও চল্লিশ বছর নিরাপদে চলে, ২০১৯ সালে বন্ধ হয় নিরাপত্তার কারণে নয়, সস্তা গ্যাস একে অলাভজনক করায়। কনস্টেলেশন এটি ফেরাতে খরচ করবে প্রায় ১৬০ কোটি ডলার—টারবাইন, জেনারেটর, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার—আর নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সালে গ্রিডে ফেরার আশা করে। এর উৎপাদন, প্রায় ৮৩৫ মেগাওয়াট, ৮ লাখ বাড়ির জন্য যথেষ্ট, পুরোটা যাবে আঞ্চলিক গ্রিডে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে। কেন্দ্রের নতুন নাম ক্রেন ক্লিন এনার্জি সেন্টার। ‘অকালে বন্ধের আগে এই কেন্দ্র ছিল গ্রিডের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর একটি,’ বলেন কনস্টেলেশনের প্রধান নির্বাহী জো ডমিনগুয়েজ, ‘আর নতুন নাম ও নতুন লক্ষ্যে একে ফেরাতে আমরা উন্মুখ।’

এখন কেন

কারণ এআই বিদ্যুৎ খায়। মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিবেশন করা জিপিইউভরা ডেটা সেন্টার দিনরাত অবিরাম বিদ্যুৎ টানে এমনভাবে, যা বায়ু ও সৌর একা জোগাতে পারে না; মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যামাজন সবাই দেখেছে তাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি—মাইক্রোসফটের ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন-নেগেটিভ—এআই দৌড়ের বিদ্যুৎ চাহিদার সঙ্গে ধাক্কা খায়। পারমাণবিকই একমাত্র কার্বনমুক্ত উৎস, যা চব্বিশ ঘণ্টা চলে। অ্যামাজন মার্চে পেনসিলভানিয়ার একটি চুল্লির পাশের ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস কিনেছে; গুগল ছোট চুল্লির নির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলছে; আর এখন মাইক্রোসফট করল সবচেয়ে চমকপ্রদ কাজটি—দেশের সবচেয়ে কুখ্যাত পারমাণবিক স্থানের কেন্দ্র ফের চালু করতে দাম দিল। এআইয়ের পাটিগণিত জ্বালানি বিতর্ক কতটা বদলেছে, এর চেয়ে বেশি কিছু বলে না।

যা সমাধান করে না

বন্ধ চুল্লি ফের চালু করা নতুন গড়ার চেয়ে সস্তা ও দ্রুত, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি বন্ধ হওয়া চালু করার মতো কেন্দ্র মুঠোভর্তি, আর ২০২৮ আশাবাদী তারিখ। বিদ্যুৎটি জনসাধারণের জন্য নতুন সক্ষমতাও নয়: মাইক্রোসফট পুরোটা নিচ্ছে, যে কারণে চুক্তি সমালোচনা টেনেছে যে বিগ টেক সবার দরকারি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ কিনে নিচ্ছে।

বাংলাদেশের কোণ

বাংলাদেশের প্রথম চুল্লি, পাবনার রূপপুর কেন্দ্রের ইউনিট ১, ২০২৫ সালে উৎপাদন শুরুর কথা—১,২০০ মেগাওয়াটের রুশ ভিভিইআর-১২০০, দুটির একটি। এটি পরিকল্পিত হয়েছিল গ্যাসের ঘাটতির গ্রিডের বেসলোড হিসেবে, আর বহুদিন ভারতের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই ছিল একমাত্র নতুন পারমাণবিক নির্মাণ। রূপপুর যে দুনিয়ায় ঢুকছে, সেখানে পৃথিবীর বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা করছে ঠিক সেই স্থির, কার্বনমুক্ত বিদ্যুতের জন্য, যা এটি উৎপাদন করবে। যে বাজারের জন্য পরিকল্পনা হয়েছিল, তার চেয়ে এটি বেচার ভালো বাজার।

সূত্র: বিবিসি, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।