প্রযুক্তি

এক সপ্তাহে বাক্কোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ; বিপিও সংগঠন নাম দিল তানভীর ইব্রাহিম ও ফয়সাল আলিমের, প্রতিশ্রুতি ‘রি-ব্র্যান্ডিংয়ের’

ডিজিকনের ওয়াহিদ শরীফ বৃহস্পতিবার অসুস্থতা, পরিবার ও বিদেশের কাজের কারণে সভাপতির পদ ছাড়েন; ফিফোটেকের তৌহিদ হোসেন জুলাইয়ে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়েন। ১১০তম নির্বাহী বৈঠক সহসভাপতি তানভীর ইব্রাহিম (অটোমেশন সল্যুশনজ) ও ফয়সাল আলিমকে (উইনটেল) তুলে আনে। নতুন সম্পাদক বলছেন আইসিটি খাত ‘ব্যাপকভাবে বিতর্কিত’ হয়েছে আর সংগঠনকে এগোতে হবে। ১২ সদস্যের কমিটিতে কারা, আর ৯০ হাজার চাকরির শিল্পের জন্য এটি কেন জরুরি।

এক সপ্তাহে বাক্কোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ; বিপিও সংগঠন নাম দিল তানভীর ইব্রাহিম ও ফয়সাল আলিমের, প্রতিশ্রুতি ‘রি-ব্র্যান্ডিংয়ের’

এক সপ্তাহের মধ্যে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের পর বাংলাদেশের কল সেন্টার ও আউটসোর্সিং শিল্পের সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) রোববার জানাল, শনিবার রাতে ১১০তম বৈঠকে নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে—অটোমেশন সল্যুশনজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এত দিনের সহসভাপতি তানভীর ইব্রাহিম সভাপতি, আর উইনটেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আলিম সাধারণ সম্পাদক।

পদত্যাগ

ফিফোটেকের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন পদত্যাগ করেন ৮ সেপ্টেম্বর। ‘গত ৩ জুলাই আমি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হই,’ তিনি প্রথম আলোকে বলেন। ‘১০ জুলাই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। সব বিবেচনা করে পদত্যাগ করেছি।’ ডিজিকন টেকনোলজিস পিএলসির সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ অনুসরণ করেন বৃহস্পতিবার। ‘অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগ করেছি,’ তিনি বলেন। ‘এ ছাড়া আমার প্রতিষ্ঠান বিদেশের বেশ কিছু কাজ করছে, তাই প্রতিষ্ঠানে বেশি সময় দিতে হচ্ছে।’

নতুন কমিটি

১২ সদস্য: সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম; জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আবুল খায়ের (টাইমস এএসএল কল সেন্টার); সহসভাপতি তানজিরুল বাশার (মাই আউটসোর্সিং লিমিটেড); সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলিম; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুসনাদ ই আহমেদ (স্কাইটেক সল্যুশন); অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক (ইমপেল সার্ভিস অ্যান্ড সল্যুশন লিমিটেড); আর পরিচালক আবু দাউদ খান (এনরাউট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড), ফজলুল হক (নোবেল আইটি সল্যুশন), আবদুল কাদের (ভার্চ্যুয়াল মার্কেট সলিউশন), জায়েদ উদ্দিন আহমেদ (আয়েশা সার্ভিস), মেহদী হাসান জুলফিকার (মনস্টারল্যাব এন্টারপ্রাইজ সল্যুশন) ও সায়মা শওকত (এএসকে টেলিকম লিমিটেড)।

‘ব্যাপকভাবে বিতর্কিত’

নতুন সাধারণ সম্পাদক সময়টি মাথায় রেখে শব্দ বাছলেন। ‘আমরা দ্রুত সব সদস্যকে নিয়ে বাক্কোকে রি-ব্র্যান্ডিং করব,’ ফয়সাল আলিম বলেন। ‘তা ছাড়া আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়েছে, যা এই খাতের জন্য খারাপ সংবাদ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবাইকে নিয়ে খাত এগিয়ে নেব।’ ৫ আগস্ট সরকার বদলের পর থেকে আইসিটি মন্ত্রণালয়, এর প্রকল্প ও এর ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সংগঠনগুলো তদন্তের মুখে; সাবেক প্রতিমন্ত্রী হেফাজতে, আর অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি ও শিল্প সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যালোচনা শুরু করেছে। সংগঠনের বয়ানে বাক্কোর পুনর্গঠন দুজনের স্বাস্থ্য ও ব্যবসায় চালিত নেতৃত্ব বদল, কিন্তু তা ঘটছে সেই আবহে, আর রি-ব্র্যান্ডিংয়ের প্রতিশ্রুতি তারই স্বীকৃতি।

কেন জরুরি

বাক্কো প্রতিনিধিত্ব করে প্রায় ৩০০ কোম্পানি ও এমন এক শিল্পের, যাতে কাজ করেন প্রায় ৯০ হাজার মানুষ, বেশির ভাগ তরুণ ও অনেকে নারী—ব্যাংক, টেলিকম ও বিদেশি ক্লায়েন্টের কল ধরা ও ব্যাক-অফিসের কাজ। এটি এমন খাত, যা বেড়েছে সরকারি কাজে—৩৩৩ হেল্পলাইন, টিকা নিবন্ধনের লাইন—আর এখন বদলে বাড়তে হবে রপ্তানিতে। নতুন কমিটির প্রথম পরীক্ষা, তাদের ‘রি-ব্র্যান্ডিং’ সেটিই বোঝায় কি না।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Miraj S

টেক বিডিতে প্রযুক্তির ব্যবসা নিয়ে লেখেন মিরাজ এস — বাংলাদেশের প্রযুক্তি অর্থনীতি, ই-কমার্স, টেলিকম, যন্ত্রাংশের দাম আর সেগুলোর পেছনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ঢাকার বাজারদরের নিয়মিত হিসাব তিনিই রাখেন—অর্থাৎ ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গেই তা তাঁকে জানানো হয়।