২০০৬ সালের জুনে ব্রিটিশ দম্পতি শিভান ও অ্যাডাম রাফ চালু করেন ফাউন্ডেম নামের দাম-তুলনার ওয়েবসাইট। কয়েক দিনের মধ্যে তা গুগলের সার্চ ফলাফল থেকে উধাও—গুগল পরে বলে, স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম ফিল্টারে ধরা পড়ে, আর কখনো পুরোপুরি ছাড়া পায়নি। ‘প্রাইস কম্প্যারিজন’ বা পণ্যের নামের সার্চে ফাউন্ডেম থাকত পাতার পর পাতা গভীরে, আর গুগলের নিজের শপিং ফলাফল ওপরে। ২০১০ সালে রাফরা অভিযোগ করেন ইউরোপীয় কমিশনে। সেই অভিযোগ হয় গুগল শপিং মামলা; ২০১৭ সালে কমিশন গুগলকে জরিমানা করে ২৪২ কোটি ইউরো, তখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা আইনের শাস্তি; আর এ বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় বিচার আদালত গুগলের শেষ আপিল খারিজ করে। জরিমানা বহাল।
গুগল কী করেছিল বলে পাওয়া যায়
বিশেষভাবে ফাউন্ডেমকে ছাঁকা নয়, বরং সার্চে তার আধিপত্য—ইউরোপীয় বাজারের ৯০ শতাংশের বেশি—ব্যবহার করে নিজের তুলনা সেবা গুগল শপিংকে সুবিধা দেওয়া, ফলাফলের ওপরে প্রকট বাক্সে বসিয়ে আর অ্যালগরিদমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের নামিয়ে। কমিশন দেখে বদলের পর গুগলের সেবায় ট্রাফিক চল্লিশ গুণ বাড়ে আর প্রতিযোগীদের ধসে পড়ে। এটিই আধিপত্যের পাঠ্যপুস্তকীয় অপব্যবহার, আর প্রতিটি স্তরে আদালত একমত।
টাকা কে পায়
রাফরা ‘২০০ কোটি পাউন্ড জেতেন’ প্রতিবেদন ভুল। জরিমানা যায় ইইউর বাজেটে। ফাউন্ডেম নিজে বন্ধ হয় ২০১৬ সালে, ট্রাফিক শেষ; রাফরা ২০১২ সালে লন্ডনের হাইকোর্টে গুগলের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষতিপূরণ মামলা করেন, আর সেই মামলা, এখন ইইউর সিদ্ধান্তে ভর করতে পেরে, চলছে। তাঁরা শেষমেশ যা পাবেন তা শিরোনামের অঙ্কের ভগ্নাংশ আর প্রায় দুই দশক লাগবে।
টাকার চেয়ে মামলা কেন বেশি জরুরি
গুগল শপিং ছিল গুগলের বিরুদ্ধে ইইউর তিনটি সিদ্ধান্তের প্রথম—অ্যান্ড্রয়েড (৪৩০ কোটি ইউরো) ও অ্যাডসেন্স (১৫০ কোটি ইউরো, পরে বাতিল) আসে পরে—আর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের ছাঁচ, যা মার্চ থেকে মামলা ধরে ধরে নয়, আইনে নিজেকে-সুবিধা দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এটি মার্কিন বিচার বিভাগের সার্চ মামলারও পূর্বপুরুষ, যা আগস্টে গুগলকে বেআইনি একচেটিয়া পায়। একটি ওয়েবসাইটসহ দুজন মানুষ এটি শুরু করেছিলেন।
ছোট সাইটের জন্য শিক্ষা
বাংলাদেশের যে প্রকাশক বা দোকানের ট্রাফিক গুগল দিয়ে আসে, সে ২০০৬ সালের রাফদের অবস্থানে: এমন এক র্যাংকিংয়ে পুরোপুরি নির্ভরশীল, যা দেখা যায় না আর আপিল করা যায় না। তাঁদের পনেরো বছর দুটি জিনিস শেখায়। রেকর্ড রাখুন—আগে ও পরে নিজের র্যাংকিংয়ের ফাউন্ডেমের প্রমাণ ছিল নির্ণায়ক। আর একটি চ্যানেলে ব্যবসা গড়বেন না; রাফদের ছিল না ই-মেইল তালিকা, সরাসরি ট্রাফিক, খুঁজে পাওয়ার অন্য কোনো পথ। গুগলের এআই ওভারভিউ, যা এখন ফলাফলের ওপরে প্রশ্নের উত্তর দেয়, ২০২৪ সালে সংবাদ ও তথ্যসূত্র সাইটের সঙ্গে তা-ই করছে, যা গুগল শপিং ফাউন্ডেমের সঙ্গে করেছিল।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, প্রথম আলোর বরাতে।




