প্রযুক্তি

গুগল এখন ৭৫ শতাংশ সার্চের উত্তর দেয় ক্লিক ছাড়াই, আর এআই ক্রলার প্রতি একজন দর্শক পাঠাতে নেয় ৬ হাজার পাতা—ক্লাউডফ্লেয়ারের সিইও বলছেন ওয়েবের ব্যবসার মডেল ভেঙে পড়ছে

পনেরো বছর ধরে চুক্তিটি সরল ছিল: গুগলকে পাতা কপি করতে দিন, সে পাঠক পাঠাবে। বিশ্বের ওয়েব ট্রাফিকের এক-পঞ্চমাংশ দেখা কোম্পানির প্রধান ম্যাথিউ প্রিন্স বলছেন, চুক্তিটি মৃত—গুগলের ক্রল-থেকে-ভিজিটের অনুপাত তিন গুণ, ওপেনএআইয়ের ২৫০:১, অ্যানথ্রপিকের ৬০০০:১। বাংলাসহ অনলাইনে যাঁরাই প্রকাশ করেন, তাঁদের জন্য এর মানে।

গুগল এখন ৭৫ শতাংশ সার্চের উত্তর দেয় ক্লিক ছাড়াই, আর এআই ক্রলার প্রতি একজন দর্শক পাঠাতে নেয় ৬ হাজার পাতা—ক্লাউডফ্লেয়ারের সিইও বলছেন ওয়েবের ব্যবসার মডেল ভেঙে পড়ছে

ম্যাথিউ প্রিন্স চালান ক্লাউডফ্লেয়ার, যে কোম্পানির সার্ভার বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ওয়েবসাইটের সামনে বসে থাকে—তাই ওয়েব ট্রাফিকের কী হচ্ছে, তা তিনি বর্ণনা করেন নিজের ড্যাশবোর্ড থেকে পড়ে। এ মাসে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসে তিনি বর্ণনা করলেন একটি ব্যর্থ হতে থাকা ব্যবস্থা: পনেরো বছর ধরে উন্মুক্ত ওয়েবের খরচ জোগানো বিনিময়টি আর দাম দেয় না।

পুরোনো চুক্তি

ওয়েবের অর্থনীতি চলেছে সার্চে। একটি সাইট গুগলকে তার পাতা কপি করতে দিত; বিনিময়ে গুগল সেখানে পাঠক পাঠাত; পাঠকেরা বিজ্ঞাপন দেখতেন বা সাবস্ক্রিপশন কিনতেন; সেই টাকায় পরের লেখা হতো। ‘এটি ছিল ন্যায্য লেনদেন,’ প্রিন্স বলেন। এর প্রতিটি অংশ নির্ভর করত ক্লিকে—যে মুহূর্তে পাঠক গুগল ছেড়ে উৎসে পৌঁছান।

ক্লিকগুলো গেল কোথায়

গুগল এখনো সব কপি করে। যা আর একই হারে করে না, তা মানুষকে এগিয়ে পাঠানো। প্রিন্স সংখ্যা দিলেন: ৭৫ শতাংশ প্রশ্নের উত্তর এখন গুগলের নিজের ফলাফল পাতাতেই—একটি স্নিপেট, একটি নলেজ প্যানেল, একটি এআই ওভারভিউ—আর অনুসন্ধানকারী কখনো বেরোন না। দশ বছর আগে গুগল প্রতি একজন দর্শক পাঠাতে প্রায় দুটি পাতা ক্রল করত; আজ ক্লাউডফ্লেয়ারের মাপে দর্শকপ্রতি ছয় পাতা। বিজ্ঞাপন, সদস্যতা বা সরল পাঠকসংখ্যায় বেঁচে থাকা সাইটগুলো তাদের খাওয়ানো ট্রাফিক হারিয়েছে।

এআইয়ের অনুপাত

এআই কোম্পানিগুলো মাত্রায় আরও খারাপ, কারণ তারা কনটেন্ট নেয় প্রশিক্ষণ ও উত্তরের জন্য, আর প্রায় কাউকে ফেরত পাঠায় না। ক্লাউডফ্লেয়ারের হিসাব: ওপেনএআই প্রতি একজন দর্শক পাঠাতে প্রায় ২৫০ পাতা ক্রল করে; অ্যানথ্রপিক প্রায় ৬ হাজার। মডেলগুলো গড়া হয় ওয়েবের লেখা থেকে, তারপর ওয়েবে যাওয়ার কারণটিই প্রতিস্থাপন করে। প্রিন্সের উপসংহার স্পষ্ট: প্রকাশকেরা আয় করতে না পারলে প্রকাশ থামান, আর এআই কোম্পানিগুলো নিজেরাই যে ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তা ভাঙে।

এখানে এর মানে

বাংলা ভাষার সাইট এটি দ্বিগুণ টের পায়। তাদের বিজ্ঞাপনের হার এমনিতেই বিশ্বের সর্বনিম্নের মধ্যে, তাই সার্চ ট্রাফিকের ৩০ শতাংশ হারানো চাপ নয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া; আর বাংলা প্রশিক্ষণ-তথ্য দুর্লভ বলে এআই ক্রলার বাংলা কনটেন্টকে দাম দেয় বেশি, বাংলা পাঠক পাঠায় কোথাও না। সাড়া দেওয়ার পথ অন্যত্রের মতোই—robots.txt ও ক্লাউডফ্লেয়ারের বট নিয়মে ক্রলার আটকানো, প্রবেশে মূল্য নেওয়া, সার্চে না ঝুলে অ্যাপ, ইমেইল ও সামাজিক চ্যানেলে সরাসরি পাঠক গড়া। কোনোটিই আরামের নয়। কিন্তু প্রিন্স যে লেনদেনের বর্ণনা দেন, তা ফিরছে না, আর এখন তা ঘিরে পরিকল্পনা করা প্রকাশক ক্লিকের অপেক্ষায় থাকা প্রকাশকের চেয়ে ভালো জায়গায়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।