বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) ২০২৬–২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে।
নতুন সভাপতি হয়েছেন উইন টেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সল আলিম। মহাসচিব হয়েছেন ব্রোটেকস টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিটিও নাহিদ হোসেন।
ভোট
নির্বাচন হয়েছে শনিবার, রাজধানীর শাহীনবাগের হোটেল এম্পিরিয়ানে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, আর একই দিনে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক বলেছেন, নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে; তিনি নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানান এবং সদস্য ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কমিটির বাকিরা
জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ সোহায়েল রেজা (এডিএন ডিজিনেট লিমিটেড), সহসভাপতি আবদুল কাদের (উইজডম ভ্যালি লিমিটেড), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়মা শওকত (এএসকে টেলিকম লিমিটেড) ও অর্থ সম্পাদক খন্দকার আতিকুর রহমান (রিকম কনসালটিং লিমিটেড)।
পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোস্তফা জামাল ইউসুফ (ভাইজার এক্স লিমিটেড), আশিকুর রহমান (ইগনাইট টেক সলিউশনস), এস এম মসিউর রহমান (টিকন সিস্টেম লিমিটেড), ফয়সাল সালাম (ফ্রাইডেসফট লিমিটেড), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (ইনভিক্টা সলিউশনস লিমিটেড) ও মো. একরামুল হায়দার (আলফা নেট)।
নতুন সভাপতি কাজটিকে যেভাবে দেখছেন
ফয়সল আলিম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘দেশের বিপিও, আইটি ও আইটিইএস খাত আজ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমাদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ সুরক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আমরা সবার সহযোগিতা আশা করছি।’
যে প্রশ্নটি কমিটির ঘাড়ে এসে পড়ছে
বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন সাধারণত খবর নয়। এটি লক্ষ করার মতো, কারণ সংগঠনটি যা বিক্রি করে তার সঙ্গেই কিছু একটা ঘটে গেছে।
কন্ট্যাক্ট সেন্টার আর বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং দাঁড়িয়ে আছে একটি ভিত্তির ওপর—কাঠামোবদ্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ ক্লায়েন্ট নিজের দেশে যত খরচে করতে পারে, তার চেয়ে কম খরচে করে দেওয়া। ঠিক এই শ্রেণির কাজকেই তিন বছর ধরে নিশানা করেছে জেনারেটিভ এআই—আর এ সপ্তাহে প্রকাশিত মেটলাইফের জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ৫৫ শতাংশ কর্মী এরই মধ্যে এসব যন্ত্র ব্যবহার করছেন।
এর ধার দুই দিকেই, আর কোন দিকে কাটবে সেটি কারিগরি নয়—কৌশলের প্রশ্ন। যে বিপিও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এআই ব্যবহার করেন, তারা একই কাজ কম খরচে দিয়ে চুক্তিটি ধরে রাখে। আর যে বিপিও প্রতিষ্ঠানের ক্লায়েন্টরা এআই ব্যবহার করেন, তারা চুক্তিটিই পায় না। পার্থক্যটি চোখে পড়ার জন্য দুই বছর যথেষ্ট সময়।
বাক্কো আসলে কী করে
এ ধরনের বাণিজ্য সংগঠন তিনটি কাজ করে, যেগুলো বাইরের মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। সদস্যদের দরকারি নীতি নিয়ে সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি করে—ব্যান্ডউইডথের খরচ, করের ব্যবস্থা, রপ্তানি আয়ে প্রণোদনা। সদস্যপ্রতিষ্ঠানগুলো যা দাবি করে তারা তা-ই কি না, সেটির সনদ দেয়—অচেনা সরবরাহকারীর বদলে বাক্কোর সদস্যকে বেছে নেওয়ার সময় বিদেশি ক্লায়েন্ট আসলে এটিই কেনেন। আর প্রশিক্ষণ দেয়, কারণ এ খাতের সীমাবদ্ধতা বরাবরই চুক্তি নয়—মানুষ।
এ ধরনের সংগঠনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়া অস্বাভাবিক নয়, আর এর অর্থ নতুন কমিটি দায়িত্ব নিচ্ছে সদস্যদের মোটামুটি অর্ধেকের ম্যান্ডেট নিয়ে।
দুই বছরই এখানে প্রাসঙ্গিক সময়
কমিটির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। ওপরের প্রশ্নটির মীমাংসা এদিকে না ওদিকে হওয়ার সময়ও মোটামুটি এটিই—ফলে একটি বাণিজ্য সংগঠনের জন্য এ মেয়াদটি অস্বাভাবিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
হাতে থাকা সিদ্ধান্তগুলো নাটকীয় নয়—সদস্যদের কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, বিদেশে কোন সেবাগুলোকে সামনে আনা হবে, সরকারের কাছে কী চাওয়া হবে। কিন্তু এগুলোই ঠিক করে দেবে, খরচের ব্যবধানের ওপর দাঁড়ানো একটি খাত সেই ব্যবধান মুছে যাওয়ার আগে বিক্রি করার মতো অন্য কিছু খুঁজে পায় কি না।




