প্রযুক্তি জনপ্রিয়

১,৯৯৯ ডলারের ভাঁজযোগ্য আইফোন বিক্রি শেষ, নতুন সরবরাহ কবে বলতে পারছে না অ্যাপল

বছরে রেকর্ড ৪৭,৯০০ কোটি ডলারের বিক্রি দেখিয়েছে অ্যাপল, তবে বিশ্লেষকদের বলেছে—চিপ ও মেমোরির সংকট আগামী বছরও চলবে।

১,৯৯৯ ডলারের ভাঁজযোগ্য আইফোন বিক্রি শেষ, নতুন সরবরাহ কবে বলতে পারছে না অ্যাপল

নিজেদের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও-এর মজুত শেষ হয়ে গেছে অ্যাপলের। নতুন করে কবে পাওয়া যাবে, তা জানে না বলে আর্থিক বিশ্লেষকদের জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সপ্তাহখানেক আগে ১,৯৯৯ ডলারে (যুক্তরাজ্যে ১,৯৯৯ পাউন্ড) বিক্রি শুরু হয়েছিল ফোনটির, আর সঙ্গে সঙ্গেই তা ফুরিয়ে যায়। সেপ্টেম্বরে টিম কুকের কাছ থেকে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া জন টার্নাস বলেছেন, শুরুর প্রতিক্রিয়ায় তিনি ‘রোমাঞ্চিত’।

আবার কবে স্টক আসবে জানতে চাইলে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাবি খান কোনো তারিখ বলেননি। বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে চাহিদা ও সরবরাহ কবে ভারসাম্যে আসবে, তা বলা সত্যিই কঠিন।’

বিক্রি শেষ, আবার ফাটলও

ডুও নিয়ে আলোচনা শুধু স্টক ফুরিয়ে যাওয়াতেই থেমে নেই। কিছু ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, ভাঁজের ভেতরের দিক বরাবর পর্দায় ফাটল ধরছে। গত সপ্তাহে অ্যাপল জানিয়েছে, এ সমস্যায় পড়া ফোনগুলো তারা বদলে দেবে; প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যে এতে আক্রান্ত হয়েছে ‘অল্পসংখ্যক’ ফোন। সোমবারের আলোচনায় কর্মকর্তারা বিষয়টি তোলেননি।

১,৯৯৯ ডলার, নতুন তারিখ নেই
আইফোন ডুও নিয়ে অ্যাপলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা বিশ্লেষকদের বলেছেন, চাহিদা ও সরবরাহ কবে মিলবে তা বলা ‘সত্যিই কঠিন’। গ্রাফিক: টেক বিডি।

পেছনে রেকর্ড এক বছর

সরবরাহের এই সংকট আবার দাঁড়িয়ে আছে অস্বাভাবিক ভালো ফলাফলের ওপর। অ্যাপল জানিয়েছে, গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আইফোন বিক্রি করেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া তিন মাসে—যে প্রান্তিক শেষ হয়েছে ডুও বাজারে আসার আগেই—আইফোন থেকে আয় ১৭ শতাংশ বেড়ে ৫,৭০০ কোটি ডলার হয়েছে। ম্যাক বিক্রি বেড়েছে ২৭ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১,০৭০ কোটি ডলারে, যা আরেকটি রেকর্ড। বছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৪৭,৯০০ কোটি ডলার।

সবকিছু অবশ্য বাড়েনি। আইপ্যাড বিক্রি কমেছে ১০ শতাংশ, আর ঘড়ি ও হেডফোনসহ পরিধেয় পণ্যের বিক্রি কমেছে ৭ শতাংশ।

রেকর্ডের বছরে সংকট কেন

সাবি খান এ জন্য মূলত দায়ী করেছেন অ্যাডভান্সড নোড-এ তৈরি পর্যাপ্ত মাইক্রোপ্রসেসর না পাওয়াকে—শিল্পে এ নামেই পরিচিত ছোট ও দ্রুতগতির চিপ নকশা, যেগুলোর বেশির ভাগই অ্যাপল বানায় তাইওয়ানের টিএসএমসি-কে দিয়ে। তিনি বলেছেন, এই সংকট আগামী বছরও চলবে এবং সবচেয়ে বেশি ভোগাবে আইপ্যাড ও ম্যাককে।

তবে বেশি তীব্র সমস্যা মেমোরি নিয়ে। অ্যাপ, ছবি ও বার্তা জমা রাখার এই স্টোরেজের দাম ‘নজিরবিহীনভাবে’ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন টার্নাস। বিশ্বের মেমোরি সরবরাহের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ডেটা সেন্টারে, যেখানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই চ্যাটবট ও প্ল্যাটফর্ম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বেড়েছে। একই চিপের জন্য তারা প্রতিযোগিতা করায় বাকিদের জন্য দাম বাড়ছে—এ বছরের শুরুতে টিম কুক এই লাফকে বলেছিলেন ‘হাজার বছরে একবারের বন্যা’।

জবাবে অ্যাপল কার্যত পুরো হার্ডওয়্যার পণ্যতালিকার দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশে এর মানে কী

ডুওর উদ্বোধনী বাজারের তালিকায় বাংলাদেশ নেই, আর ঢাকায় গ্রে মার্কেটের দাম আন্তর্জাতিক সরবরাহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ওঠানামা করে। স্টক শেষ, নতুন তারিখ নেই, সঙ্গে পর্দার পরিচিত ত্রুটি—এই সমীকরণেই সাধারণত স্থানীয় দাম সরকারি দামের অনেক ওপরে ওঠে, অথচ অ্যাপল নিজের বাজারে যে বদলে দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে, ক্রেতারা তার বাইরে থেকে যান। আগামী কয়েক সপ্তাহে কেউ দেশে ফোনটি বিক্রির প্রস্তাব দিলে বাড়তি দাম দেওয়ার আগে জেনে নেওয়া ভালো—হ্যান্ডসেটটি কোথা থেকে কেনা আর সেই ওয়ারেন্টি এখানে চলবে কি না।

সূত্র: বিবিসি

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।