প্রযুক্তি জনপ্রিয়

আইফোন ডুও বাজারে আসার নয় দিনের মাথায় বিজ্ঞাপনে সবুজ আপেল কাটল স্যামসাং

অল্পসংখ্যক ইউনিটে সমস্যার কথা স্বীকার করেছে অ্যাপল, আর জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা অ্যাপল কেয়ারের মাধ্যমে ডিভাইস বদলে নিতে পারবেন।

আইফোন ডুও বাজারে আসার নয় দিনের মাথায় বিজ্ঞাপনে সবুজ আপেল কাটল স্যামসাং

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও বাজারে এসেছে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর। এরপর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আসতে থাকে পর্দায় ফাটল আর কবজার সমস্যার খবর। এবার সে নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে স্যামসাং।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওটিতে একটি সবুজ আপেল কেটে টুকরা করে সেগুলো ভাঁজ করার চেষ্টা দেখানো হয়—যে বাজারটি এত দিন প্রায় একাই দখলে রেখেছে স্যামসাং, সেখানে অ্যাপলের প্রবেশ নিয়ে রসিকতা। এরপর সামনে আনা হয় গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮। ফোল্ডেবলে বহু বছর এগিয়ে থাকার কথা বলে শেষ হয় ভিডিওটি।

বিজ্ঞাপনের সংখ্যাগুলো

স্যামসাংয়ের দাবি, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আইফোন ডুওর চেয়ে ১.৬ মিলিমিটার পাতলা ও ৫৩ গ্রাম হালকা।

দেখানো তুলনা অনুযায়ী, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর ওজন ২০১ গ্রাম, আইফোন ডুওর ২৫৪ গ্রাম। ভাঁজ করা অবস্থায় স্যামসাংয়ের ডিভাইসটির পুরুত্ব ৯.৭ মিলিমিটার, অ্যাপলের ফোনটির ১১.৩ মিলিমিটার।

২০১ গ্রাম বনাম ২৫৪ গ্রাম
স্যামসাংয়ের বিজ্ঞাপনের হিসাব: গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ভাঁজ করা অবস্থায় ১.৬ মিলিমিটার পাতলা আর ৫৩ গ্রাম হালকা। গ্রাফিক: টেক বিডি।

যে সমস্যার দিকে আঙুল

আইফোন ডুওর ভেতরের ভাঁজ হওয়া ডিসপ্লেতে ক্ষতি ও ফাটল দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে; অনেক ব্যবহারকারী সমস্যা চিহ্নিত করেছেন সেন্ট্রাল হিঞ্জের কাছে।

অল্পসংখ্যক আইফোন ডুও ইউনিটে সমস্যা থাকার কথা অ্যাপল স্বীকার করেছে এবং নিশ্চিত করেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা অ্যাপল কেয়ারের মাধ্যমে ডিভাইস বদলে নিতে পারবেন।

স্যামসাংয়ের এত আত্মবিশ্বাস কেন

মূলত অভিজ্ঞতা। ২০১৯ সালে প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড এনে এ শ্রেণিতে আধিপত্য ধরে রেখেছে স্যামসাং; এখন তারা প্রচার করছে ডিভাইসটির অষ্টম প্রজন্ম।

তবে সেই প্রথম প্রজন্মটি কেমন গিয়েছিল, তা মনে রাখা ভালো। বাজারে আসার আগেই আদি গ্যালাক্সি ফোল্ডের পর্দা নষ্ট হওয়ার বহু নথিভুক্ত ঘটনা ঘটেছিল, আর সেগুলো সারাতে স্যামসাংকে ফোনটির উন্মোচন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। হাজারবার খোলা-বন্ধ সহ্য করতে পারে এমন কবজা বানানো সত্যিই কঠিন প্রকৌশল—আর আজ যারা রসিকতা করছে, তারাও সেটি একইভাবে শিখেছে।

ক্রেতার জন্য বাস্তব পাঠটি সহজ: যেকোনো প্রস্তুতকারকের প্রথম প্রজন্মের ভাঁজযোগ্য ফোন প্রথম প্রজন্মেরই—আর উন্মোচনের রিভিউয়ের চেয়ে ওয়ারেন্টির শর্তগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ওজনের পার্থক্যটি আসলে কী দিয়ে তৈরি

একটি ফোনে ৫৩ গ্রাম অনেক, আর এটি উপকরণের কাকতাল নয়। ভাঁজযোগ্য ফোনকে বইতে হয় দুটি পর্দার অর্ধেক, হাজার হাজার বার খোলা-বন্ধ সহ্য করার মতো একটি কবজা-কাঠামো, আর সাধারণত ভাগ করা ব্যাটারি—সবই এমন একটি কাঠামোর ভেতরে, যা খোলা অবস্থায় শক্ত থাকবে আর বন্ধ অবস্থায় সমান হয়ে ভাঁজ হবে।

বাঁচানো প্রতিটি গ্রাম আসলে একটি সিদ্ধান্ত—ভাঁজের চারপাশে কতটা সুরক্ষা রাখা হবে। আর প্রথম প্রজন্মের ডিভাইসের হাতে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মাঠপর্যায়ের কোনো উপাত্ত থাকে না। আট প্রজন্মের ফেরত আসা ফোন বলে দেয় চাপটা আসলে কোথায় গিয়ে পড়ে। স্যামসাং এই সম্পদটিরই বিজ্ঞাপন করছে, আর এটি অ্যাপলের কিনে নেওয়ার মতো জিনিস নয়।

কিনতে চাইলে যা করবেন

উন্মোচনের সপ্তাহের রায়গুলো—দুই দিকেরই—বাদ দিন। কবজার সমস্যা ধরা পড়ে মাসের পর মাস খোলা-বন্ধ করায়, পনেরো দিনে লেখা রিভিউয়ে নয়; আর ষষ্ঠ সপ্তাহে দেখা দেওয়া ফাটলটিই আসল।

তাই স্পেসিফিকেশনের আগে পড়ুন বদলে নেওয়ার শর্তগুলো। অ্যাপল বলেছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা অ্যাপল কেয়ারের মাধ্যমে ডিভাইস বদলে নিতে পারবেন; গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সুরক্ষা কত দিন চলে আর আপনি যেখান থেকে কিনছেন সেখানে তার খরচ কত। বাংলাদেশে গ্রে-মার্কেট আমদানির ক্ষেত্রে ভাঁজযোগ্য পর্দার আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করে নেওয়াই টাকা দেওয়ার আগে একমাত্র করণীয়—কারণ এ মেরামত স্থানীয় দোকানের হাতে বানিয়ে নেওয়ার মতো নয়।

সূত্র: প্রথম আলো, গালফ বিজনেস

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।