প্রযুক্তি বিশ্ব

ইয়র্কশায়ারের এক গ্রামে ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহান্তে দোকানের বাইরে সারি, অথচ কেউ এর পরিকল্পনা করেনি

প্রায় বিশ বছর ধরে কাজ করা এক দোকানকর্মী বদলটির বর্ণনা দিচ্ছেন। দর্শনার্থীরা জাদুঘরের জন্য আসছেন না, আসছেন দোকানের সামনেটির জন্য।

ইয়র্কশায়ারের এক গ্রামে ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহান্তে দোকানের বাইরে সারি, অথচ কেউ এর পরিকল্পনা করেনি

পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের হাওয়ার্থ বহুদিন ধরেই পর্যটনকেন্দ্র। ব্রন্টি বোনেরা এখানে থাকতেন, তাঁদের বাড়িটি এখন জাদুঘর, আর চারপাশের ভূদৃশ্যই কাজের অনেকটা করে দেয়।

সম্প্রতি জায়গাটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যস্ত—আর বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন যাঁরা আসছেন তাঁরা অন্য রকম দর্শনার্থী। তাঁরা আসছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামটি দেখতে কেমন লাগে সে কারণে, বিশেষ করে শরৎকালে।

টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে একটু খুঁজলেই অক্টোবরে অবশ্য-দ্রষ্টব্য হিসেবে হাওয়ার্থের প্রচার করা বিপুল কনটেন্ট পাওয়া যায়। এর ভালো একটি অংশজুড়ে আছে সারিগুলোই।

ছয় সপ্তাহ

পাথরে বাঁধানো প্রধান সড়কের দুপাশের দোকানগুলো হ্যালোউইন নিয়ে জমকালো সাজসজ্জা করেছে, আর সবচেয়ে বেশি করেছে দ্য ক্যাবিনেট অব কিউরিওসিটিজ—ভিক্টোরীয় ধাঁচের একটি ওষুধের দোকান, যেখানে সাবান, মোমবাতি ও উপহারসামগ্রী বিক্রি হয়। এর সাজসজ্জা অনলাইনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, আর মানুষ এখন ছবি তুলতে বা ভেতরটা দেখতে সারিতে দাঁড়ান।

প্রায় বিশ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন ক্যারেন রবার্টস। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, ‘হঠাৎ করেই প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে শুরু হলো, এমন অবস্থা যে প্রতি সপ্তাহান্তে ভেতরে ঢোকার অপেক্ষায় বাইরে সারি পড়ে যাচ্ছে। এ সপ্তাহে হাফ-টার্ম বলে রীতিমতো প্রতিদিনই বাইরে মানুষ।’

প্রতি সপ্তাহান্তে দোকানের বাইরে সারি
হাওয়ার্থে প্রায় বিশ বছর ধরে কাজ করা এক দোকানকর্মী বলছেন কী বদলেছে, আর কবে থেকে। গ্রাফিক: টেক বিডি।

কেউ কোনো প্রচারাভিযান চালায়নি

লক্ষ করার মতো অংশটি এটিই। দোকানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি আগেও ছিল, তবে রবার্টস মনে করেন ‘এভাবে সব ফেটে পড়ার’ কারণ হলো অসংখ্য মানুষ নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে দোকান আর গ্রামটি নিয়ে পোস্ট করেছেন।

তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সব সময়ই মানুষকে ভিডিও করতে দিয়েছি, কখনো আপত্তি করিনি; তবে এখন মানুষ রীতিমতো জিজ্ঞেস করছেন, ভেতরে এসে ভিডিও করতে পারেন কি না। তারপর সেটি তাঁরা শেয়ার করেন, আর প্রতিদিন ফেসবুক খুলে মনে হয়, “ওরে বাবা, আরও আছে”।’

মার্গো রবি ও জ্যাকব এলোর্ডি অভিনীত এমেরাল্ড ফেনেলের ২০২৬ সালের ওয়াদারিং হাইটস চলচ্চিত্রটিও ব্রন্টি-অঞ্চল নিয়ে আগ্রহ নতুন করে বাড়িয়েছে।

খরচের দিকটি

বেশি মানুষ আসা দোকানের জন্য ভালো, তবে রবার্টস অসুবিধার দিকগুলোও বলছেন—প্রধান সমস্যা পার্কিং, আর তার সঙ্গে গ্রামটিকে যা পরিষ্কার করতে হয়।

সুপারিশব্যবস্থা কোনো বাস্তব জায়গার ওপর থিতু হলে যে ছাঁচটি তৈরি হয়, সেটি সর্বত্রই চেনা। মনোযোগ আসে কয়েক সপ্তাহে, সেটি লক্ষ্য করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে নয়—একটি দোকানের সামনেটিকে, আর একই সূচিতে তা চলেও যায়। এক শতাব্দী ধরে দর্শনার্থী টানা জাদুঘরটিকে নিজের রাস্তা এর সঙ্গে ভাগ করে নিতে হয়, আর পার্কিংয়ের ধাক্কা গ্রামটিকে সামলাতে হয় দুই ক্ষেত্রেই।

এর ছাঁচটি এখন অনুমান করা যায়

হাওয়ার্থের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা ঘটেছে থাইল্যান্ডের একটি সৈকতে, প্যারিসের একটি সিঁড়িতে, প্রোভাঁসের একটি ল্যাভেন্ডার খেতে আর অন্তত ছয়টি শহরের রঙিন বাড়ির সারিতে। ক্রমটি প্রায় বদলায় না: কোনো একটি জায়গার ছবি অস্বাভাবিক ভালো ওঠে, কয়েকটি পোস্ট অপ্রত্যাশিতভাবে চলে, সুপারিশব্যবস্থা সাড়া দেখে জায়গাটি এমন মানুষদের দেখাতে শুরু করে যাঁরা নামও শোনেননি—আর কয়েক সপ্তাহেই সেখানে সারি।

সামলানো কঠিন হয় এ কারণে যে, কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। থামানোর মতো কোনো প্রচারাভিযান নেই, আলোচনা করার মতো কোনো আয়োজকও নেই—আছে কেবল বিপুলসংখ্যক আলাদা আলাদা মানুষ, যাঁরা ভালো লাগা একটি জায়গা নিয়ে পোস্ট করছেন, আর একটি র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা, যা তৈরিই হয়েছে এ কাজের জন্য।

ভারটা বহন করে কে

লাভ পড়ে সরু জায়গায়, খরচ ছড়ায় চওড়া হয়ে। ছবিতে থাকা দোকানটির ব্যবসা ভালো হয়। পার্কিং, আবর্জনা আর রাস্তা গ্রামের সমস্যা—আর যে বাসিন্দারা এর কিছুই চাননি, অংশটি তাঁরাই বহন করেন।

এর একটি সংস্করণ এখানেও লক্ষ করার মতো। সঠিক আলোয় সুন্দর ছবি উঠবে, বাংলাদেশে এমন জায়গার অভাব নেই—আর তার বেশির ভাগের চারপাশের অবকাঠামো সপ্তাহান্তের দর্শনার্থী হঠাৎ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার কথা ভেবে বানানো হয়নি। হাওয়ার্থের শিক্ষা এই নয় যে মনোযোগ খারাপ। শিক্ষাটি হলো, মনোযোগ আসে তা সামলানোর মতো কিছু বানানোর চেয়ে দ্রুত, আর চলেও যায় এমন সূচিতে যা কারও নিয়ন্ত্রণে নেই।

সূত্র: বিবিসি নিউজ

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।