বিপুল ঋণ আর কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে খরচ কমাতে গিয়ে ভার্জিন মিডিয়া ও২-এর হাজারো কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে পড়েছেন।
ব্রডব্যান্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি এখনো চূড়ান্ত সংখ্যা ঠিক করেনি, তবে বিবিসি জানতে পেরেছে, প্রায় ১৬ হাজার জনবলের বড় একটি অংশই এতে পড়বে। প্রতিষ্ঠানটি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
কর্মীদের একাংশের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক সংগঠন প্রসপেক্ট ছাঁটাইকে ‘হতাশাজনক ও খুবই অস্বস্তিকর’ বলেছে। সংগঠনটির উপমহাসচিব নোয়েল ম্যাকক্লিন বলেছেন, তাঁরা ‘এই কঠিন সময়ে সদস্যদের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, একই সঙ্গে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের উপায় খুঁজতে নিয়োগদাতাদের সঙ্গেও কাজ করছেন’।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বেশির ভাগই গ্রাহকমুখী নন এমন পদে আছেন, আর জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে একাধিক রদবদল ইতিমধ্যেই চলছে। ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের ব্যবহারও পর্যালোচনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।
হিসাবের খাতা
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত ভার্জিন মিডিয়া ও২-এর মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৭২০ কোটি পাউন্ড, বিপরীতে সম্পদের মূল্য ৪৫৯০ কোটি পাউন্ড।

চাপ দুই দিক থেকে
ওপরের দিকে প্রতিষ্ঠানটি লড়ছে বিটির সঙ্গে, যারা প্রতিদ্বন্দ্বী টকটককে কিনে নেওয়ার চুক্তি করেছে—যে চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে ভার্জিন মিডিয়া ও২।
আর অন্য প্রান্তে আছে সস্তা ‘অল্টনেট’-এর ঝাঁক: হাইপারঅপটিক, কমিউনিটি ফাইবার, গিগাক্লিয়ার ও ইউফাইবারের মতো ছোট নেটওয়ার্ক নির্মাতা, যারা নিজেরাই ফাইবার বসায় এবং দামে বড়দের চেয়ে কম রাখে।
এর জবাবে ভার্জিন মিডিয়া ও২ একটিকে কিনে নিতে চেয়েছিল। নিজেদের মালিকদেরই যৌথ উদ্যোগ নেক্সফাইবারের মাধ্যমে অল্টনেট নেটমনিয়াকে ২০০ কোটি পাউন্ডে কেনার চেষ্টা করে তারা। এ নিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত উদ্বেগ পেয়েছে প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষ (সিএমএ)।
এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, একটি ছাঁচ
জাতীয় পর্যায়ের কোনো পুরোনো প্রতিষ্ঠান যখন সস্তা ও লক্ষ্যভেদী নতুনদের মুখে পড়ে, ছাঁচটি তখন এমনই দাঁড়ায়। পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি বয়ে বেড়ায় পুরোনো ব্যবসার জন্য বানানো নেটওয়ার্কের খরচ আর তা বানাতে নেওয়া ঋণ; নতুনরা লাভজনক রাস্তাগুলো বেছে নিয়ে কেবল সেখানেই নেটওয়ার্ক বসায়।
বেরোনো কঠিন হয় এ কারণে যে, পুরোনো প্রতিষ্ঠানটির স্পষ্ট দুটি পথই বন্ধ। দাম কমালে ঋণের কিস্তি জোগানো আয়ই কমে যায়। আর প্রতিদ্বন্দ্বীকে কিনতে গেলে সামনে পড়ে সেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ঠিক এটি ঠেকানোই যার কাজ। বাকি থাকে খরচ—আর হিসাবের খাতায় ১৬ হাজার কর্মী সেটিই।
এ গল্পে যা নেই, সেটিও লক্ষ করার মতো: কোনো প্রযুক্তি ব্যর্থ হয়নি, সেবার মান খারাপ বলে গ্রাহকও চলে যাননি। এটি একটি অর্থায়ন-কাঠামোর সঙ্গে বদলে যাওয়া বাজারের মুখোমুখি হওয়া।
অল্টনেটরা দামে এগিয়ে থাকে কীভাবে
অসাম্যটা কে কী সেবা দিতে বাধ্য, তাতে। পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি নেটওয়ার্ক বানিয়েছে প্রায় সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য—যেসব রাস্তা কখনোই নিজের খরচ তুলতে পারবে না, সেগুলোসহ; আর নতুনের পাশাপাশি চালু থাকা পুরোনো প্রযুক্তিটিও তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। নতুন প্রতিষ্ঠানটি ঘনবসতিপূর্ণ ও লাভজনক এলাকা বেছে নেয়, কেবল সেখানেই ফাইবার বসায়, আর শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণের কোনো পুরোনো বোঝা ছাড়াই।
অর্থাৎ পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি প্রকৌশলে হারছে না। সে বয়ে বেড়াচ্ছে এমন দায় আর সুদের কিস্তি, প্রতিদ্বন্দ্বী যা কখনো নেয়নি—আর সেগুলো নামিয়েও রাখা যায় না, কারণ সবার কাছে পৌঁছানোই তার থাকার একটি কারণ।
এখান থেকে দেখতে কেমন লাগে
বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড বাজারের গড়ন আলাদা, তবে যেকোনো বাজারে ছোট আইএসপিগুলো যখন রাস্তা ধরে ধরে বড় অপারেটরদের সঙ্গে লড়ে, সেখানেই এই ছাঁচটি চেনা যায়। শিক্ষাটি এই নয় যে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হয়; শিক্ষাটি হলো—ঋণ দিয়ে দাঁড় করানো নেটওয়ার্ক ব্যবসার হাতে দাম পড়ে গেলে জায়গা থাকে খুব কম, আর সমন্বয়টি যখন আসে, তখন তা আসে কৌশল বদলের চেহারায় নয়—জনবলের চেহারায়।




